কাল নির্বাচন দিলে কালই চাই: মির্জা ফখরম্নলযাযাদি রিপোর্ট বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর বুধবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন। পাশে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী ও ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু -বিডিনিউজবিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'আমরা নির্বাচন চাই। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে না, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। এই সরকারের বাইরে গিয়ে নির্বাচন চাই। সেটা (নির্বাচন) কাল দিলে কালকেই।'
বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. বি চৌধুরীর নেতৃত্বে 'যুক্তফ্রন্ট' নামে নতুন জোটের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোট তৈরি করা হচ্ছে এই একনায়ক সরকারের বিরম্নদ্ধে রম্নখে দাঁড়ানোর জন্য। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন- এমন ব্যক্তি সংগঠনকে এই জোটে আহ্বান জানান ও স্বাগত জানাচ্ছেন। জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চারদলীয় জোট গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
স্বৈরাচার পতন দিবসে বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই কেন- সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরম্নল বলেন, 'স্বৈরাচারের পতন হয়েছে নাকি? এটা (স্বৈরাচার) নতুন করে জেগে উঠেছে।'
এদিকে সকালে যৌথসভা চলাকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ছয় নেতাকর্মীকে আটক করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
বিএনপির ১২ দিনের কর্মসূচি
বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ১২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
বুধবার সকালে দলের যৌথসভার পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও বিজয় শোভাযাত্রা প্রভৃতি।
বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি ১৯ ডিসেম্বর বিকালে মহানগর নাট্যমঞ্চে আলোচনা সভা, ১৭ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকায় বিজয় শোভাযাত্রা ও ২৪ ডিসেম্বর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিকালে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করবে।
আর বিজয়ের দিন সকালে খালেদা জিয়া দলের নেতাদের নিয়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং এরপর শেরে বাংলানগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন তিনি।
বিজয় দিবস উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ জেলা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোকসজ্জা করা হবে।
১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা এবং ১৩ ডিসেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে আলোচনা সভা হবে।
ওইদিন ভোরে মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরম্নল বলেন, 'স্বাধীনতার মূল যে লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, তা আজ নেই। আজকে একদলীয় শাসনব্যবস্থার নবসংস্করণ তৈরি করার জন্য ক্ষমতাসীনসরা অত্যন্ত্ম ক্ষীপ্রতার সঙ্গে এগোচ্ছে। জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা স্বাধীনতার সমস্ত্ম চেতনা ও মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। সেজন্য এবারের বিজয় দিবস আমাদের জন্য অত্যন্ত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ।
'১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আমরা নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। প্রত্যেকটি জেলায় জাতীয় পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা ও পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত্ম হয়েছে।'
সারাদেশে গণগ্রেপ্তার ও মঙ্গলবার পুরনো ঢাকার আদালত থেকে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় ফেরার পথে রাস্ত্মার দুই পাশে দাঁড়ানো নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা, দলের ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাসেলসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।
বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে পাঁচ কর্মী গ্রেপ্তারের নিন্দাও জানান তিনি।
এর আগে মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে যৌথসভায় অংশ নেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, খায়রম্নল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক রম্নহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin