স্মাটকার্ড প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লএজাজুল হক মুকুল স্মাটকার্ডস্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ানোর পর সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে এর সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। এছাড়া ৯ কোটির পরিবর্তে এখন ১০ কোটি ৬০ লাখ নাগরিককে স্মার্টকার্ড দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর এ কারণে এ প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ছে।
সংশিস্নষ্টরা জানান, মেয়াদ বাড়ানোর কারণে সরকারের কোনো আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না। বরং বিভিন্নভাবে এ প্রকল্পে ৪০১ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
সূত্রমতে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর স্মার্টকার্ড প্রকল্পের আর্থিক সহায়তাকারী দাতা প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চুক্তি শেষ হবে। এর আগেই গত মাসে তারা (বিশ্বব্যাংক) জানিয়ে দিয়ে, এ প্রকল্পের সঙ্গে তারা আর থাকছে না। ফলে চলমান এ প্রকল্পটিতে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। এর সঙ্গে জড়িত ১ হাজার ২২৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দেয় শঙ্কা। পরে প্রকল্পের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সরকার অর্থায়নের সিদ্ধান্ত্ম নেয়। এর আগে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৯ কোটি ভোটারের স্মার্টকার্ড দেয়ার চুক্তি ছিল, যা ফ্রান্সের ওবারর্থু টেকনোলজির ব্যর্থতায় দিতে পারেনি ইসি। এবার সরকার এ প্রকল্পের দায়িত্ব নেয়ার পর আরো ১ কোটি ১৭ লাখ এবং এবারের হালানাগাদে যুক্ত হওয়া ৪২ লাখ নতুন ভোটারকে স্মার্টকার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ আগামী ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ কোটি ৬০ লাখ ভোটার পাবে স্মার্টকার্ড।
এ বিষয়ে আইডিয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও এনআইডির ডিজি ব্রি. জে. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলতি মাসেই চুক্তি শেষ হচ্ছে। তবে প্রকল্প না থাকলেও এখানকার জনবল টিকিয়ে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা রয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার ১ বছর মেয়াদও বাড়াতে সম্মত হয়েছে। এর সমস্ত্ম অর্থায়ন সরকারই করবে। এখন শুধু দরকার আনুষ্ঠানিকতা।
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে মেয়াদ বাড়ানোয় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না। বরং বিভিন্নভাবে এ প্রকল্পে ৪০১ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এগুলো হলো- ব্যাংক গ্যারান্টির ১২৩ কোটি, ওবার্থর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৪৩ কোটি, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৯৫ কোটি এবং নিজস্ব উদ্যোগে কার্ড মুদ্রণ ও বিতরণের কারণে ৪৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ১২শ' দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। ওই সব টাকা থেকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া হবে। এর পরও সরকার প্রকল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে টাকা খরচ ও মেয়াদ বৃদ্ধির সম্মতি দেয়ায় অনেক জটিলতার অবসান হতে যাচ্ছে।
স্মার্টকার্ড প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জানিয়ে দেয় স্মার্টকার্ড প্রকল্পে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক থাকছে না। চিঠিতে একের অধিক কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি তাদের পলিসির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। দাতা সংস্থার ওই সিদ্ধান্ত্মের আগেই সরকারকে এই প্রকল্পে যুক্ত রাখতে তৎপরতা শুরম্ন হয়।
ওই কর্মকমর্তা আরো জানান, বিশ্বব্যাংক প্রকল্পটি থেকে সরে দাঁড়ানোয় অনিশ্চয়তা দেখে দেয় সাধারণ নাগরিক ও সংশিস্নষ্টদের মধ্যে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ১ বছর বাড়ানো হচ্ছে। এখন সরকারি অর্থায়নে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের (এনআইডি) তত্ত্বাবধানে স্মার্টকার্ড দেয়া হবে নাগরিকদের। আগে ৯ কোটি ভোটারকে এই আধুনিক কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত্ম ছিল। বর্তমানে বাকি ১ কোটি ১৭ লাখ এবং এবারের হালানাগাদে যুক্ত হওয়া ৪২ লাখ নতুন ভোটারকে স্মার্টকার্ডের আওতায় এনে সব ভোটার নাগরিককে এই কার্ড দেয়া হবে।
সূত্রমতে, এর আগে ফ্রান্সের ওবার্থু টেকনোলজির প্রায় ৮০০ কোটি টাকার চুক্তি হয়। এর আওতায় দেশের ৯ কোটি ভোটারকে স্মার্টকার্ড দেয়ার কথা ছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্বেচ্ছাচারিতা ও কাজে গাফিলতির কারণে পুরো বিতরণ কার্যক্রমটি ভেঙে পড়ে। এর আগে তাদের সহযোগিতা করার জন্য কয়েক দফা চুক্তির মেয়াদ বাড়ায় স্মার্টকার্ড কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সংশিস্নষ্টদের এই মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি দুর্বলতা নিয়ে নেয়। পরে কর্তৃপক্ষ কঠোর সিদ্ধান্ত্ম নিয়ে গত জুলাইয়ে ওবার্থর মেয়াদ হালনাগাদ না করার সিদ্ধান্ত্ম নেয়া। ফ্রান্সের এই প্রতিষ্ঠানটিকে বিদায় জানিয়ে আইডিয়া কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে স্মার্টকার্ড মুদ্রণ ও বিতরণ শুরম্ন করে।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের মে মাসে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রায় ২০ কোটি ডলারের চুক্তি সই করে সরকার। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৭৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) ঋণ ১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে পাওয়া এ ঋণ বাংলাদেশকে ৪০ বছরের মধ্যে শোধ করতে হবে। এর মধ্যে প্রথম ১০ বছর কোনো সুদ দিতে হবে না। বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় এ প্রকল্পের অধীনে ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে ৯ কোটি ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেয়ার কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর বাড়িয়ে চলতি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত্ম নির্ধারিত রয়েছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin