শেরপুর সাতক্ষীরা চুয়াডাঙ্গা গাইবান্ধা গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস আজস্বদেশ ডেস্ক আজ ৭ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে শেরপুর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, গাইবান্ধা এবং গোপালগঞ্জ মুক্ত হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
শেরপুর : জামালপুরের কামালপুর ৪ ডিসেম্বর মুক্ত হওয়ার পর পাকহানাদার বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়ে। অপরদিকে, মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সহায়তায় শেরপুরে পাকবাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পে আক্রমণ চালান। কামালপুর দুর্গ দখল হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাকবাহিনীর সব ক্যাম্প ধ্বংস হয়ে যায়। ৪ ডিসেম্বর কামালপুরের ১১ নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের মুহুমুহু আক্রমণ ও গুলি বর্ষণের মুখে স্থানীয় পাকসেনারা পিছু হটে। ৬ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে শেরপুর শহরের ওপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে জামালপুর পিটিআই ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়।
সাতক্ষীরা : ভারতের বিভিন্ন স্থানে ট্রেনিং শেষে মুক্তিযোদ্ধারা সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ শুরম্ন করেন। শ্যামনগর, কালীগঞ্জ ও দেবহাটা থানার বিভিন্ন স্থানে অন্ত্মত ৫০টি যুদ্ধ সংঘঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা ৩০ নভেম্বর শহরের কেন্দ্রে পাওয়ার হাউসটি উড়িয়ে দেন। এই সফল অপারেশনে ভীত হয়ে পড়ে পাকসেনারা। পিছু হটতে শুরম্ন করে তারা। ৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় টিকতে না পেরে বাঁকাল, কদমতলা ও বেনেরপোতা ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে পাকবাহিনী সাতক্ষীরা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
চুয়াডাঙ্গা : ৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে জীবননগরের ধোপাখালী সীমান্ত্ম দিয়ে ভারত থেকে প্রবেশ করে জীবননগর, দত্তনগর, হাসাদহ সন্ত্মোষপুর, রাজাপুর, ধোপাখালী ও মাধবখালীতে অবস্থানরত পাকবাহিনীর ওপর অতর্কিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরম্ন হয় প্রচ- যুদ্ধ। যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর ২৯ বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা যৌথবাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে ঝিনাইদহের দিকে পালিয়ে যায়। ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাকবাহিনী চুয়াডাঙ্গা শহরমুখী মাথাভাঙ্গা নদীর ব্রিজের একাংশ শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেয়। ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাকবাহিনী চুয়াডাঙ্গা শহর ও আলমডাঙ্গা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ার দিকে চলে যায়।
গাইবান্ধা : ৭১'র এই দিনে কোম্পানি কমান্ডার (বীরপ্রতীক) মাহবুব এলাহী রঞ্জুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের কালাসোনার চর থেকে বালাসী ঘাট হয়ে গাইবান্ধা শহরে প্রবেশ করে। তাদের আগমণের সংবাদ পেয়ে আগের রাতেই গাইবান্ধা শহরের স্টেডিয়ামে অবস্থিত পাকসেনা ক্যাম্পের সৈনিকরা তাদের তল্পিতল্পা গুটিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্টের উদ্দেশে পালিয়ে যায়।
গোপালগঞ্জ : এই দিনে গোপালগঞ্জ শহর পাকহানাদার মুক্ত হয়। গোপালগঞ্জ মুক্ত হওয়ার আগে এই অঞ্চলে পাকহানাদারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের বেশ কয়েকটি গুরম্নত্বপূর্ণ লড়াই হয়। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফার রহমান বাচ্চু জানান, পাকসেনারা ৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানা উপজেলা পরিষদ(বর্তমানে) সংলগ্ন জয় বাংলা পুকুর পাড়ের মিনি ক্যান্টমেন্ট ছেড়ে পালিযে যায়। ৭ ডিসেম্বর ভোরে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে মুক্তিযোদ্ধারা, আর সেই সাথে মুক্ত হয় গোপালগঞ্জ শহর ও এর আশপাশ এলাকা।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin