হলিউডঅসাধারণ তারকাদের সাধারণ জীবনতারকাখ্যাতি তুঙ্গে অবস্থান করেও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেন একাধিক হলিউড তারকারা। বিশ্বনন্দিত তারকারা চাইলেই বিলাসবহুল জীবন করতে পারেন। বেশিরভাগ তারকা করেনও তাই। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন ব্যতিক্রম। কেউ কেউ প্রচুর যশ-খ্যাতি এবং অর্থ-বিত্তের অধিকারী হয়েও প্রাচুর্যপূর্ণ জীবনযাপন এড়িয়ে চলেন। আর সেই অর্থ মানব কল্যাণে দান করেন। এমন কিছু অসাধারণ তারকার সাধারণ জীবন নিয়ে তারার মেলার আজকের আয়োজন-লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওলিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও
টাইটানিক, ইনসেপশন বা দ্য রেভনেন্ট সিনেমা দিয়ে বিশ্ব কাঁপিয়েছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। যশ আর খ্যাতির পাশাপাশি প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক তিনি। তবু, নতুন নতুন মডেলের গাড়ি নয়, নিজের একটি টয়োটা প্রিয়াস গাড়িতে চলাফেরা করতে পছন্দ করেন তিনি। তার সমসাময়িক তারকারা ব্যক্তিগত পেস্ননে ভ্রমণ করলেও, কমার্শিয়াল বিমানেই ভ্রমণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন লিওনার্দো।

জেনিফার লরেন্স
'হাঙ্গার গেমস'খ্যাত তারকা জেনিফার লরেন্স গত বছরের বিশ্বের সর্বাধিক পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেত্রী ছিলেন। এত অর্থ উপার্জন করা সত্ত্বেও অর্থ ব্যায়ের ব্যাপারে তিনি খুব হিসেবী। তিনি পুরনো মডেলের একটি ভক্সওয়াগন গাড়িতে চলাফেরা করেন। নিজের খরচের ব্যাপারে যে তারকা এত হিসেবী তিনি কিন্তু আবার মানুষের উপকারে ব্যয় করার ব্যাপারে একদম হাতখোলা। জেনিফার লরেন্সের নিজের শহর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লুইসভ্যালিতে একটি শিশু হাসপাতালে দুই মিলিয়ন ডলার দান করেছেন। তাই কার্ডিওলোজি ইউনিটটির নামকরণ করা হয়েছে এই তারকার নামানুসারে : 'দ্য জেনিফার লরেন্স ফাউন্ডেশন কার্ডিয়াক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট'। এ ছাড়াও তিনি বেশ কিছু চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।

কিয়ানু রিভস
'দ্যা মাট্রিক্স' তারকা কানাডিয়ান অভিনেতা কিয়ানু রিভস নব্বইয়ের দশকে যখন সাফল্য ও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিলেন তখনও তিনি আমেরিকায় হোটেল বা ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টেই বাস করতেন। তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো জিনিসপত্র ছিল না আবার নিজের কোনো সিকিউরিটি গার্ডও ছিল না। বেশিরভাগ সময় পাবলিক ট্রান্সপোর্টেই চলাফেরা করতেন।
কিয়ানু রিভস দ্য মাট্রিক্স থেকে পাওয়া পারিশ্রমিকের নব্বই শতাংশই (৮০ মিলিয়ন ডলার) ব্যয় করেন সে সিনেমার ব্যাকস্টেজ স্টাফ এবং স্ট্যান্টম্যানদের পেছনে। ১২ জন স্ট্যান্টম্যানের প্রতিজনকে তিনি একটি করে নতুন মটরসাইকেল কিনে দেন। কিয়ানু রিভস ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য একটি দাতব্য সংস্থা গঠন করেন কিন্তু সে সংস্থার সঙ্গে নিজের নাম জুড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ ছাড়াও তিনি আরও কিছু দাতব্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত আছেন।

জেনিফার গার্নার
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ৪৫ বছর বয়সী অভিনেত্রী জেনিফার গার্নার হলিউডে কাজ করছেন বহুদিন। অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন গোল্ডেন গেস্নাব, এসএজি এবং এমি অ্যাওয়ার্ড। ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান, থার্টিন গোয়িং অন থার্টি, পার্ল হারবার, জুনোসহ গোটা ত্রিশেক ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার ঝুলিতে।
জেনিফার একইসঙ্গে একজন ভালো অভিনেত্রী এবং ভালো গৃহিনী। সময় পেলেই বাড়ির পাশে মার্কেট কিংবা সুপারশপে বাজার করতে দেখা যায় তাকে। নিজের সন্ত্মানদের ব্যাপারেও খুবই যত্নশীল এই অভিনেত্রী। এ ছাড়া, অভিনয়ের বাইরে শিশুকল্যাণের নানা কাজে যুক্ত রয়েছেন জেনিফার গার্নার। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে 'সেভ দ্য চিলড্রেন'-এর দূত হিসেবে কাজ করছেন।

ক্রিস্টিয়ান বেল
'ব্যাটম্যান'খ্যাত তারকা ক্রিশ্চিয়ান বেল। বিখ্যাত হয়ে ওঠার পরেও তিনি তার পরিবারের সঙ্গে ছোট এক রম্নমের একটা অ্যাপার্টমেন্টে বাস করতেন। ছিল না কোনো সেলফোন বা বডিগার্ড। ক্রিশ্চিয়ান বেল তার 'দ্যা প্রমিস' সিনেমার রয়্যালিটি পুরোটাই দাতব্য সংস্থায় দান করেন।

কিরা নাইটলি
খুব ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত কিরা নাইটলি। অভিনয় করেছেন প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিজ, অ্যানা ক্যারোনিনা, আটোনমেন্ট, সিল্ক, পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবিয়নসহ আরও অনেক খ্যাতনামা সিনেমায়। পেয়েছেন অভিনয় জগতের শীর্ষস্থানীয় সব পুরস্কার। ২০০৮ সালে ফোর্বস এর সবচেয়ে বেশি আয় করা তারকাদের তালিকায় তার নাম ছিল দ্বিতীয়তে। এত অর্জন থাকা সত্বেও সাদাসিধে জীবনযাপনে স্বাচ্ছন্দ্য এ তারকাও। তবে কিরা বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানের জন্য কেনা তার পোষাকগুলো নষ্ট না করে সেগুলো বিক্রি করে সে অর্থ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করেন।

রাসেল ক্রো
'গস্ন্যাডিয়েটর' সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অস্কার পেয়েছেন অভিনেতা রাসেল ক্রো। এ বিউটিফুল মাইন্ড ছবিতে অভিনয়ের জন্যও অস্কারে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেরা অভিনেতা হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। অভিনয় করেছেন আরও চমৎকার সব দর্শকনন্দিত চলচিত্রে। তিনি একাধারে অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক এবং গায়ক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। আর সেই সঙ্গে উপার্জন করেছেন প্রচুর অর্থ। কিন্তু রাসেল ক্রো অস্ট্রেলিয়াতে একটি খামারবাড়ী আর একটি পুরনো জিপ গাড়ি কিনে সেখানেই সুখে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি অনেক ধরনের প্রতিষ্ঠানে মানুষের কল্যাণে নিয়মিতই অর্থ দান করে থাকেন। দাতা হিসেবে তার বেশ সুনাম রয়েছে।

জেসিকা আলবা
ফ্যান্টাস্টিক ফোর সিনেমার অভিনেত্রী জেসিকা আলবা শুধু একজন সফল অভিনেত্রীই নন, একজন সফল ব্যবসায়ীও। ফোর্বসের তালিকায়, নিজের চেষ্টায় সম্পদশালী হয়ে ওঠা মহিলাদের ১০০ জনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন জেসিকা।
নিজের জন্য হিসেব করে খরচ করতে পছন্দ করেন তিনি, সন্ত্মানদের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। তার বড় মেয়ের পোশাক যখন ছোট হয়ে যায় তখন তিনি সেগুলো নষ্ট না করে ছোট মেয়েকে পরান! এত টাকা থাকা সত্ত্বেও কমদামি জিনিসপত্র কিনতে এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে তিনি বিব্রত বোধ করেন না। জেসিকা আলবাও বিভিন্ন ধরনের দাতব্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। তিনি বিশেষ করে শিশুবিষয়ক বিভিন্ন ধরনের দাতব্য কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত। তিনি শিশুদের জন্য পরিবেশবান্ধব ডায়াপার তৈরিরও অগ্রদূত। এর জন্য তিনি একটি ডায়াপার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin