পরবর্তী সংবাদ
ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনআ'লীগের পছন্দের তালিকায় ডা. ইকবালনন্দিত মেয়র আনিসুল হকের মৃতু্যতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গেজেটের চিঠি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পৌঁছানোর পর নির্বাচনের প্রস্ত্মুতি শুরম্ন করবে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে নির্বাচনের প্রস্ত্মুতি কিংবা তারিখ ঘোষণা না করলেও দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়-ঝাঁপ শুরম্ন করেছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার মধ্যে এই নির্বাচনকে অত্যন্ত্ম গুরম্নত্বের সঙ্গেই নিচ্ছে বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তাই যোগ্য ও স্বচ্ছ ইমেজের প্রার্থী দিয়ে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়লাভ করতে চায় উভয় দল।
বরাবরের মতো এবারও মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এই দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে। আর তাই এই দুটি রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পেতে চাইছেন অনেকেই। নিজেদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে চলছে জোর লবিং। হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সিনিয়র নেতাদের কাছে ছুটছেন অনেকেই। ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জানান দিয়েছেন তারা।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনিসুল হক। তিনি খুব অল্প সময়ে ঢাকা উত্তর নগরীকে বদলে দেয়ার কাজ শুরম্ন করেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে সফলও হয়েছেন।
সাড়ে তিন মাস ধরে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ নভেম্বর মৃতু্যবরণ করেন তিনি। তার মৃতু্যর ফলে শূন্য হয়ে যায় ওই সিটির মেয়র পদ। গত সোমবার প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি নির্বাচন) আইনের ১৫ (ঙ) ধারা অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে মেয়র পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচন দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সে ক্ষেত্রে ১ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রম্নয়ারি এই ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ভোট করতে হবে ঢাকা উত্তরে।
মেয়র পদ শূন্য হওয়ায় এই পদে প্রার্থী দিতে প্রাথমিক আলোচনা শুরম্ন করেছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। নির্বাচনে বিজয় লাভ করতে আনিসুল হকের মতো ক্লিন ইমেজের জনপ্রিয় প্রার্থীই খুঁজছে দলটি। আনিসুল হক সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তার ক্লিন ইমেজকেই কাজে লাগিয়েছে আওয়ামী লীগ। হতাশ করেননি তিনি।
তাই এবারও ক্ষমতাসীন দলটি একই ধরনের প্রার্থী দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দলের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা. এইচ বি এম ইকবাল। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন- ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি ও ঢাকা-৯ আসনের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক ফুটবলার ও বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারম্নক খান বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির উপ-নির্বাচনে অতীতের মতোই পরিচ্ছন্ন, জনপ্রিয় প্রার্থীকেই বেছে নেবে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, প্রার্থী মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড। চূড়ান্ত্ম সিদ্ধান্ত্ম সেখান থেকেই আসবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, কিছুদিন আগে মেয়র আনিসুল হক মারা গেছেন। এখনই এ বিষয়ে কথা বলতে চান না। শোকটা অন্ত্মত শেষ হোক। তিনি বলেন, অবশ্যই আওয়ামী লীগ অতীতের মতো ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবে।
অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও অংশ নেবে বিএনপি।
তবে দলের মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কে হবেন তা এখনই বলতে নারাজ দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা। দলের একাধিক নেতা বলেন, মাত্রই সাবেক মেয়র আনিসুল হকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে, এর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করাটা অশোভনীয়। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত্ম নেয়া হবে বলে তারা জানান।
এ ব্যাপারে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস-চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য ও বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট নাগরিকসহ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন খালেদা জিয়া। আলোচনার পরই প্রার্থী চূড়ান্ত্ম করবে দলটি। উপ-নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ-প্রক্রিয়ায় এবার ভিন্ন কৌশলের চিন্ত্মা-ভাবনাও রয়েছে দলটির। আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেখেই বিএনপি নিজেদের প্রার্থী ঠিক করবে বলেও জানিয়েছেন সিনিয়র একজন নেতা।
তবে এবারও বিএনপির পছন্দের প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষেই থাকছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল। এ ছাড়াও বিএনপির প্রার্থী হওয়ার জন্য জোর তদবির করছেন সাবেক এমপি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর (অব.) কামরম্নল ইসলাম। তবে এবার কোনো কারণে তাবিথ আউয়াল নির্বাচন না করলে বা মনোনয়ন না পেলে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর কথা চিন্ত্মা করতে পারে বিএনপি। খবর ৭১ সংবাদ ডটকম
 
পরবর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close