পূর্ববর্তী সংবাদ
গুজরাটই কি হতে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদির ওয়াটারলু?যাযাদি ডেস্ক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিভারতের রাজনীতিতে যাবতীয় মনোযোগ এখন গুজরাটের আসন্ন নির্বাচনে- যেখানে বিজেপির একটানা প্রায় তেইশ বছরের শাসন অক্ষুণ্ন রাখতে অক্লান্ত্ম প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
অন্য দিকে গুজরাট দখলে নেয়ায় মরিয়া চেষ্টায় রীতিমতো ওই রাজ্যের মাটি কামড়ে পড়ে আছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও।গুজরাটে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন কিংবা নোট বাতিল-জিএসটির মতো বিতর্কিত অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত্মকে ঘিরে বিজেপির বিরম্নদ্ধে রাজ্যে তীব্র ক্ষোভ আছে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু সেটা কি ভারতে বিজেপির সবচেয়ে বড় দুর্গে ফাটল ধরানোর জন্য যথেষ্ট? এ ব্যাপারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানি ও গুজরাট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হিতেশ প্যাটেল বলেন, 'শাসক দল বিজেপির জন্য সারা দেশে তাদের যাবতীয় আদর্শগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ল্যাবরেটরি হলো গুজরাট।'
জাতীয় স্ত্মরে গুজরাটের গৌরব নিয়েও এ রাজ্যের মানুষ খুব ভাবিত- আর মোরারজি দেশাইয়ের পর আর এক গুজরাটি নরেন্দ্রভাই দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এই রাজ্যে একটা বাণিজ্যিক সংস্কৃতিও আছে, যে বাণিজ্যিক ভাবনাটা তাদের রাজনীতিতেও জাতীয় চিন্ত্মাধারার সঙ্গে চলতেই প্রভাবিত করে।
ফলে ২০১৭-র নির্বাচনেও বিজেপির গুজরাটে ক্ষমতায় আসা নিয়ে সংশয়ের কোনো কারণ থাকার কথা ছিল না। কিন্তু গত দু-এক বছরে বেশ কয়েকটা ঘটনা বা দুর্ঘটনা সেই আপাত-সহজ সমীকরণকেই বেশ জটিল করে তুলেছে।
এ রাজ্যের পথেপ্রান্ত্মে কান পাতলেই এখন শোনা যায় বিজেপির সরকার ধনীদের জন্য- গরিবের জীবন যেন এখানে আটার চাকিতে পিষে ফেলা হচ্ছে।
রাজ্যের বস্ত্রশিল্পে কাজ করেন যে লাখ লাখ শ্রমিক, গত সাত মাসে নোট বাতিল আর জিএসটি কর চালুর ধাক্কায় তাদের রম্নটি রম্নজি বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছে।
আহমেদাবাদ শহরে নেহরম্ননগর মার্কেট রাতারাতি বন্ধ হয়ে গেছে, পথে বসেছেন দুশ' শ্রমিক পরিবার।
আর এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজ্যে তিন তরম্নণ তুর্কির সামাজিক আন্দোলন। অল্পেশ ঠাকোর, হার্দিক প্যাটেল ও জিগনেশ মেহভানি নামে গুজরাটের তিন তরম্নণ নেতা যথাক্রমে নেতৃত্বে দিচ্ছেন ওবিসি, পাতিদার ও দলিত শ্রেণির অধিকার আদায়ের আন্দোলনে- আর ভোটের মুখে তারা তিনজনেই হাত মিলিয়েছেন বিরোধী কংগ্রেসের সঙ্গে।
তাদের তিনজনের দাবিতে পরস্পরবিরোধিতা হয়তো আছে, কিন্তু অল্পেশ ঠাকোর নিশ্চিত বিজেপির বিরম্নদ্ধে একটা নতুন ভাবনা, নতুন উৎসাহের ঝড় তাদের ঠিকই ক্ষমতায় নিয়ে আসবে।
আর বিজেপিকে হয়তো এবারে গুজরাটের মসনদ থেকে সরানো একেবারে অসম্ভব নয়, সেটা টের পেয়েই গত তিন মাস ধরে এ রাজ্যে লাগাতার প্রচারণা চালাচ্ছেন ভাবী কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী- আর তিনি সরাসরি আক্রমণের নিশানা করেছেন গুজরাটে বিজেপির তথাকথিত উন্নয়নের মডেলকে। বিজেপির মিথ্যার ফুলঝুরিতে উন্নয়ন বা বিকাশের ধারাই পথভ্রষ্ট হয়েছে, বিকাশ পাগল হয়ে গেছে, একের পর এক সভায় বলে চলেছেন তিনি। আর ঠিক এমন এক পটভূমিতেই গুজরাটের নির্বাচনী রঙ্গমঞ্চে প্রবেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তার স্বপ্নের গুজরাট মডেলের মূল কথা যে বিকাশ, তাকে নিয়ে কোনো ব্যঙ্গবিদ্রূপ যে তিনি সইবেন না, সেটা তিনি পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন। জনসভা থেকে মুহুর্মুহু সেস্নাগান দিচ্ছেন আমিই বিকাশ, 'হু বিকাশ ছো'।
মোদির গুজরাট মডেল রাজ্যে রাস্ত্মাঘাট, ড্যাম, বৃহৎ শিল্প স্থাপনে সফল হলেও শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মতো সামাজিক উন্নয়নের সূচকে ব্যর্থ- এই সমালোচনা অবশ্য বহুদিন ধরেই ছিল।
কিন্তু বিদগ্ধ অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের গ-ি পেরিয়ে তা এখন সাধারণ আম গুজরাটিদেরও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আহমেদাবাদের প্রাণকেন্দ্রে তরম্নণ-তরম্নণীরা ফ্ল্যাশ মবের মতো হঠাৎ উদয় হয়ে নাচতে শুরম্ন করে দিচ্ছে 'বিকাশ গান্ডো থায়ো চে' গানের সঙ্গে- গুজরাটিতে যার অর্থ বিকাশ পাগল হয়ে গেছে।
বিরোধী কংগ্রেসের তৈরি করা এই গান সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরম্ন করে সর্বত্র দারম্নণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে- বাধ্য হয়ে বিজেপিকেও বের করতে হয়েছে যার পাল্টা ভিডিও।
দিলিস্ন বিজেপির নেতা সতীশ উপাধ্যায় গুজরাটে দলকে ভোটে জেতানোর দায়িত্ব নিয়ে এ রাজ্যে পড়ে আছেন। তার অবশ্য বিন্দুমাত্র সংশয় নেই, এই উন্নয়নই বিজেপিকে জেতাবে- এবং গুজরাটিরা কিছুতেই এমন একটা দলের বিরম্নদ্ধে যাবেন না, দিলিস্নতেও যাদের সরকার আছে।
উলেস্নখ্য, ওয়াটারলু বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস (ব্রম্নসেল) শহরের অদূরবর্তী একটি ছোট শহর। এটি ব্রাসেলসের বেলজিয়ামের ওয়ালোনিয়া অঞ্চলের অন্ত্মর্গত।
এখানে ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুন তারিখে ওয়াটারলুর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধে ফরাসি সৈন্যদলের সেনাপতি নেপোলিয়ন পরাজিত হয়েছিলেন। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপের নেপোলিয়ন পর্বের ইতি ঘটে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close