খুলনা নগরীতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশার দাপটট্রাফিক আইন অমান্য করে সড়ক ও অলিতে-গলিতে এসব যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে যানজট, তেমনি প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনাখুলনা অফিস খুলনা শহরে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা -যাযাদিখুলনা মহানগরীতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে অতুল-মাহেন্দ্রা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা। ট্রাফিক আইন অমান্য করে সড়ক ও অলিতে-গলিতে এসব যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে যানজট, তেমনি প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা।
খুলনা সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে নগরীতে চলাচলের জন্য দুই হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদান করে সংস্থাটি। এর মধ্যে ৩৭টি স্থগিত করা হয়। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইকগুলো ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্যও কেসিসি নবায়ন করে চলাচলের অনুমতি অব্যাহত রাখে। ২০১৩ সালের শেষের দিকে স্থানীয় সরকার পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (এলজিইডি) থেকে ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদান বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি দেয় কেসিসিকে। মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশের পর করপোরেশন ইজিবাইকের লাইসেন্স নবায়ন ও প্রদান বন্ধ রাখে। এরপর থেকে নগরীতে ইজিবাইক চলাচলের জন্য লাইসেন্স প্রদান বন্ধ থাকলেও নগরীতে বিক্রিতে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান অব্যাহত রাখা হয়।
এছাড়া এ যান বন্ধে তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় নগরীতে ওই বাইকের সংখ্যা দিনদিন উদ্বেগজনকহারে বাড়তে থাকে। যার পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও যানজট নিরসনে ২০১৬ সালের ১১ মে খুলনার তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ একটি সভার আহ্বান করেন। ওই সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, খুলনা সিটি করপোরেশন মেয়র, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও খুলনা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নগরীতে ইজিবাইকের সংখ্যা ৫ হাজারে নামিয়ে আনা, ইজিবাইকের শোরম্নম বন্ধে সিদ্ধান্ত্ম হয়। কিন্তু নানা কারণে ওই সিদ্ধান্ত্ম আর আলোর মুখ দেখেনি। সর্বশেষ দুই মাস আগে বিভাগীয় প্রশাসনের নির্দেশে সেই তৎপরতা ফের শুর হয়।
এর ধারাবাহিকতায় নগর ভবনে ইজিবাইক ও যানজট নিরসন সংক্রান্ত্ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র মনিরজ্জামান মনি। বৈঠকে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারনুর রশীদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত্ম হয় পূর্বের ১ হাজার ৯৬০টি ইজিবাইকের সঙ্গে নতুন করে আরও ৩ হাজার ৪০টি ইজিবাইকের অনুমতি দেয়া হবে। এক্ষেত্রে নগরীর স্থায়ী বাসিন্দা অথচ ইজিবাইক চালক এমন লোক অগ্রাধিকার পাবে।
ওইসব ইজিবাইকে সবুজ রং দিয়ে মার্কিং করা হবে। এছাড়া নগরীর বাইকের বাইরে অর্থাৎ জেলার ইজিবাইক নগরীতে আসতে পারবে না। এক্ষেত্রে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরম্নজ্জামান ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারনুর রশিদ এসব ইজিবাইক বাছাইয়ে সুপারিশ করবেন। মূলত এই চারজনের যেকোনো একজনের সুপারিশেই ৩ হাজার ৪০টি ইজিবাইককে নতুন করে অনুমতি দেয়া হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনো কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।
মহানগরীর ভাঙাচোরা রাস্ত্মায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে অতুল-মাহেন্দ্রা। কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই বেপরোয়া গতিতে এসব যান চালাচ্ছেন চালকরা। যার ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ফলে এ যান নিয়ে বর্তমানে শঙ্কিত জনসাধারণ। জানা গেছে, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর নগরীর জোড়াগেট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় জরিমানা আদায় করে জেলা প্রশাসন। এরপরও অতুল-মাহেন্দ্রার লাগাম ধরা সম্ভব হয়নি।
নগরীজুড়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করছে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত রিকশা। অবৈধভাবে নগরীতে চলাচলরত তিন চাকার এসব রিকশা কোনো ট্রাফিক আইনই মানছে না। এছাড়া ছোট আকৃতির তিন চাকার এ যান দ্রম্নতগতিতে চলার পর আর নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে না চালকরা। ফলে সহজে উল্টে পড়ছে। ফলে একদিকে যেমন নগরীতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি প্রায়শই ছোট বড় নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। নগরবাসীর অভিযোগ, অতুল-মাহেন্দ্রা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণহীভাবে চলাচলের কারণে পরিবার নিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। মাঝে মধ্যে যানজট তীব্র হচ্ছে। আর ব্যাটারিচালিত রিকশা উল্টে পড়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। ফলে চলাচলে চরম ভোগান্ত্মি পোহাতে হচ্ছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম জানান, এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা হওয়া দরকার। চাহিদা অনুযায়ী লাইসেন্স দিয়ে এসব যানবাহন চলাচলে বাধ্য করতে হবে। পাশাপাশি রং দিয়ে মার্কিং করতে হবে। তাহলে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফ নাজমুল হাসান বলেন, ইজিবাইক সমস্যা সমাধানে আপাতত কোনো অগ্রগতি নেই। আর ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অতুল-মাহেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে অভিযানের সিদ্ধান্ত্ম রয়েছে। আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close