মিটফোর্ড ও কেরানীগঞ্জে নকল ওষুধ কারখানায় র‌্যাবের অভিযানযাযাদি রিপোর্ট বুধবার রাজধানীর মিটফোর্ড ও কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ জব্দ করে _ফোকাস বাংলাপুরান ঢাকার মিটফোর্ড ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় বুধবার দুপুরে পৃথক দুটি অভিযানে বিপুলপরিমাণ নকল ওষুধসহ রাসেল (৩০) নামের একজনকে আটক করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় নামিদামি ব্র্যান্ডের অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ধরনের নকল ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও উপকরণ জব্দ করা হয়। সেই সঙ্গে কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়া হয়।
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা জানান, কেরানীগঞ্জের ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের বড় কুশিয়ারবাগের ৩ নাম্বার বাড়ির তৃতীয় তলায় আসামির নিজবাড়িতে এবং বাবুবাজার ওষুধ মার্কেটের পাশে ৫১ নাম্বার ইসলামপুর রোডের আমীর মার্কেটের নিচতলা এবং তিনতলার তিনটি গোডাউন থেকে এসিআই, বেক্সিমকো, স্কয়ার, এসকেএফসহ বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের অ্যান্টিবায়োটিক, শ্বাসকষ্ট, এলার্জি, উচ্চমানের মিনারেল, ভিটামিন ও ক্যালসিয়ামের নকল ওষুধ, ওষুধ তৈরির যন্ত্রপাতি, উপকরণ, ফয়েল, মোড়ক এবং লেবেল উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, নকল ওষুধ তৈরির দুটি কারখানার মালিক রাসেলকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-। অভিযানে দেখা যায়, এসিআই কোম্পানির ফ্লুক্লক্স ৫০০ (ফ্লুক্লক্সসিলিন) নামের অ্যান্টিবায়োটিক ক্যাপসুল তিনি তার নিজবাড়িতে এবং দোকানের ভেতর বসেই তৈরি করছেন। ওষুধের অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল এবং প্যাকেট প্রেস থেকে ছেপে নিয়েছেন। খালি ক্যাপসুল কিনে তার ভেতর আটা এবং লবণ মিশিয়ে ক্যাপসুলটি তৈরি করেন। ছাপানো অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল টুকরা করে হিট দেয়ার মেশিন দিয়ে চারটি করে ক্যাপসুল প্যাকিং করছেন। এ রকম ১০টি প্যাকেট একটি কাগজের বাক্সে ভরে পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন। ফয়েল এবং কাগজের বাক্সটি তিনি এসিআই কোম্পানিকে হুবহু নকল করে ছেপে নিয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে বুঝা সম্ভব নয় যে, এগুলো নকল অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ। তবে পাতা ছিঁড়ে ক্যাপসুল বের করে দেখা যায়, আসলটির গায়ে ছোট করে ওষুধের নাম এবং কোম্পানির নাম লেখা রয়েছে কিন্তু নকল ক্যাপসুলের গায়ে কিছু লেখা থাকে না। এক বাক্স ওষুধের গায়ে খুচরা মূল্য লেখা আছে ৪২১ টাকা। এসিআই কোম্পানি ৩৫০ টাকায় পাইকারি বিক্রি করলেও রাসেল তার নকল ওষুধটি পাইকারি হিসেবে ২০০ টাকায় বিক্রি করেন। ফলে কতিপয় অসাধু খুচরা বিক্রেতা বেশি লাভের জন্য জেনে-শুনেই এই নকল ওষুধ এখান থেকে কিনে নিয়ে যান বলে রাসেল জানান। এ ছাড়াও এসকেএফ কোম্পানির ওস্টোক্যাল ডি, বেক্সিমকো কোম্পানির বেক্সট্রাম গোল্ড, স্কয়ার কোম্পানির নিউরো বি, কেলবোন্ডডি এবং ফিলওয়েল ওষুধের হুবহু নকল করছিলেন।
তিনি বলেন, মিটফোর্ডের বেশকিছু ভবনের নীচতলা ও দোতলা পাইকারি দোকান এবং ৩য় থেকে ৫ম তলা পর্যন্ত ওষুধের গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব গোডাউনের কোনো নাম, নাম্বার না থাকায় গোউাউনে নকল-ভেজাল ওষুধ পাওয়া গেলেও এগুলোর মালিক খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। সে সুযোগে এসব গোডাউন কেন্দ্রীক অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। আইনানুযায়ী এসব গোডাউনের রেজিস্ট্রেশন থাকা বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা নেয়া হয় না। গোডাউনগুলো রেজিস্ট্রেশনের আওতায় এলে ওষুধের নকল ভেজালের প্রবণতা প্রশমিত হবে।
র‌্যাব-১০ এর অভিযান পরিচালনা করেন মেজর শামীম আহামেদ, পিএসসি। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ড্রাগ সুপার মো. ওজিউল্লাহ।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin