দেশে রাজনীতি, গণতন্ত্র ও সরকার নেই : মওদুদযাযাদি রিপোর্ট রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বুধবার বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা _যাযাদিবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দেশে রাজনীতি, গণতন্ত্র ও সরকার নেই। গণতন্ত্র না থাকলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের উত্থান ঘটে। তাই খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে।
বুধবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সপ্তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বিএনপি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল্লাহ আল নোমান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ, আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, শফিক রেহমান, অধ্যাপক ড. খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, ড. পিয়াস করিম, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল লতিফ নেজামী, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর বিএনপির সংগঠন শক্তিশালী হবে। এমন শক্তিশালী হবে যেন, খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে সরকার আটকাতে না পারে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কোটি কোটি মানুষের জাতীয় নেত্রী। তাকে অনুসরণ করার মতো আদর্শ রয়েছে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া ও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন। তাদেরও জিয়ার আদর্শকে টিকিয়ে রাখতে হবে। মির্জা আব্বাস বলেন, সরকার দেশে ব্যাপক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দিয়েছে। শুনতে পাচ্ছেন, আরো ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে। বিএনপির আন্দোলন দমাতে ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দিলে তারাও ৫ লাখ কর্মী বাড়াবেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, তাকে রাজপথে আগামী দিনে ১০০ লোক নিয়ে বসার অনুমতি দেন। তাহলে দেখা যাবে, ওদের বুকে কত সাহস। সারাদেশে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন চলছে জানিয়ে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের জন্য 'সংগ্রামের প্রস্তুতি' নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতেই বিএনপি আন্দোলন করছে। আন্দোলন মানে যুদ্ধ-বিগ্রহ নয়। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনেই দাবি আদায় করতে হবে।
মির্জা আব্বাস বলেন, সারাদেশের মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্য খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ফেরাতে সংগ্রাম করছেন, অন্যদিকে আরেকজন (শেখ হাসিনা) অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় থাকতে চাইছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ জন্য তাকে অনেক অনাচার-নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। ১/১১-এর অবৈধ সরকার তাকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছে। ভয়ভীতিসহ তার দুই ছেলেকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়েছে। এরপরও তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন, দেশের বাইরে যাননি। খালেদা জিয়া দেশের বাইরে যাননি বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সময় দেশে আসতে পেরেছিলেন।
রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, সারাদেশ একটি কারাগারে পরিণত হয়েছে। এই কারাগারকে ভাঙতে হবে। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সরকার হামলা-মামলা করে রাজনীতি থেকে দূরে সরাতে চায়। কিন্তু তা কোনো দিন সফল হবে না।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকারকে হটাতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে তাদের জয় সুনিশ্চিত। পরাজয়ের কোনো কারণ নেই। এ জন্য সবাইকে রাজপথে নামতে হবে।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, 'সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে বিচারপতি অভিশংসন আইন করেছে। কিন্তু কোনোভাবেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নষ্ট হতে দেব না। দেশের আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ।'
পিয়াস করিম বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষ আজ কারাবন্দি। তাদের মুক্ত করে গোটা দেশকে মুক্তি দিতে হবে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পেশাজীবী সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin