বিশ্ব ইজতেমা শুরম্ন: জুমার নামাজে লাখো মুসলিস্নআবুল হোসেন, রেজাউল কবির রাজীব টঙ্গী থেকে বিশ্ব ইজতেমার প্রথমদিন শুক্রবার লাখো মুসলিস্নর অংশগ্রহণে বৃহত্তর জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় -যাযাদিটঙ্গীর তুরাগ তীরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরম্ন হয়েছে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। এবারও দুই পর্বে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।
কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে দেশি-বিদেশি লাখ লাখ মুসলিস্ন এরই মধ্যে ইজতেমা ময়দানে জড়ো হয়েছেন। শুক্রবার ফজরের নামাজের পর সৌদি আরবের মাওলানা শেখ ওমর খতিবের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরম্ন হয় এবারের বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। তার বয়ানটি বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মওলানা আব্দুল মতিন।
রোববার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে প্রথম দফার ইজতেমা। চারদিন বিরতির পর ১৯ জানুয়ারি শুরম্ন হবে দ্বিতীয় পর্ব এবং ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। প্রথম পর্বে অংশ নিচ্ছেন দেশের ১৪ জেলার মুসলিস্নরা। তবে প্রচ- শীতের জন্য এবারের বিশ্ব ইজতেমায় মুসলিস্নদের সংখ্যা কিছুটা কম হবে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ব ইজতেমার মাসলেহাল জামাতের সদস্য মো. আদম আলী জানিয়েছেন, শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগে বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে আজিজুল হক (৬০) নামে এক মুসলিস্ন মারা গেছেন। তার বাড়ি মাগুরার শালিখা থানার হবিশপুর গ্রামে। ফজরের নামাজের পর ইজতেমা ময়দানে তার জানাজা শেষে লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ইজতেমার প্রথমদিন শুক্রবার দেশের বৃহত্তর জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইজতেমার মুরব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন জানান, কাকরাইল মসজিদের মওলানা হাফেজ মো. জোবায়ের দেড়টার দিকে জুমার নামাজ শুরম্ন করেন।
গতকাল ভোর থেকেই বিশ্ব ইজতেমার জুমার নামাজে অংশ নিতে গাজীপুর ও এর আশপাশের এলাকার মুসলিস্নরা বিভিন্ন যানবাহনে করে টঙ্গীতে যাত্রা শুরম্ন করেন। দুপুরের আগে ইজতেমা মাঠস্থলে টুপি-পাঞ্জাবি পরা মানুষের ঢল নামে।
জুমার নামাজে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উলস্নাহ খানসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা অংশ নেন।

টঙ্গীতে যানজট
গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের এএসপি মো. সালেহ উদ্দিন আহমদ জানান, দুপুরে জুমার নামাজ পড়তে আসা মুসলিস্নদের ও গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সাময়িক বিঘ্নিত হয়। জুমার পর একসঙ্গে ফিরতে গিয়ে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় গাড়ির চাপ বেড়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে অনেকে হেঁটে টঙ্গী এলাকা অতিক্রম করে দক্ষিণে আব্দুলস্নাহপুর এবং উত্তরে চেরাগআলী এলাকায় গিয়ে গাড়িতে ওঠেন। বিকাল প্রায় সাড়ে ৩টার পর যানজট অনেকটা স্বাভাবিক হয়।
ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পে রোগীর ভিড়
শহীদ আহসান উলস্নাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ছাড়াও ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় স্থাপিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের অর্ধশতাধিক মেডিকেল ক্যাম্পে হাজার হাজার রোগীকে ভিড় করতে দেখা গেছে। হামদর্দ ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পে কর্মরত চিকিৎসক মো. মুনিরম্নজ্জামান খান বলেন, মুসলিস্নদের অধিকাংশই সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত্ম হয়েছেন। তারা দু'দিনে প্রায় ১৫ হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়েছেন। একই কথা বলেন, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চিকিৎসক মো. নজরম্নল ইসলাম। ইজতেমা এলাকায় গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস, ইবনে সিনা, টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, গ্রামীণফোন, যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পে মুসলিস্নদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

টঙ্গী হাসপাতালে ভর্তি-৪৮
টঙ্গীর শহীদ আহসান উলস্নাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত্ম ১ হাজার ১৪২ মুসলিস্ন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন ও ৪৮ জন ভর্তি রয়েছেন। এ ছাড়া তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ইজতেমায় ৫ সহস্রাধিক
হবিদেশি মুসলিস্ন
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত্ম বাইরের দেশের ৫ সহস্রাধিক মুসলিস্ন এবার ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন।
প্রথম পর্বে দেশের ১৪ জেলার মুসলিস্নদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্ত্মান, ইরান, ইরাক, জর্ডানসহ বিশ্বের ৭২টি দেশের মুসলিস্নরা ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। বিদেশি মুসলিস্নদের আগমন অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, প্রথমদিনে কোথাও কোনো গোলযোগ সৃষ্টি হয়নি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি কন্ট্রোল রম্নম থেকে ইজতেমার সব কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। ওই এলাকায় প্রতিদিন দুই বেলায় ১০টি মোবাইল কোর্ট চলছে। এখানে ১৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন রয়েছেন।

আখেরি মোনাজাত
ইজতেমা মাঠের মুরব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন জানান, ভারতের মওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমায় অংশ না নেয়ায় আগামীকাল রোববার প্রথম পর্বের মোনাজাত পরিচালনা করবেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মওলানা জুবায়ের।
বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বি মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে এবারের বিশ্ব ইজতেমায় দুই ধাপে অংশ নেবেন দেশের ২৭ জেলার মুসলিস্নরা। প্রথম ধাপে অংশ নিচ্ছেন বিদেশি মুসলিস্নসহ দেশের ১৪ জেলার মুসলিস্নরা।

প্রথম দফায় ১৪ জেলার
মুসলিস্নরা ২৮ খিত্তায়
বিশ্ব ইজতেমার মাঠে প্রতি জেলার মুসলিস্নদের অবস্থানের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারিত থাকে। এ স্থানকে খিত্তা বলে।
প্রথম দফায় অংশগ্রহণকারী জেলাগুলোর মধ্যে হলো- ঢাকা (১-৮নং, ১৬নং, ১৮নং, ২০নং ও ২১নং খিত্তা), নারায়ণগঞ্জ (১২নং ও ১৯নং খিত্তা), মাদারীপুর (১৫নং খিত্তা), গাইবান্ধা (১৩নং খিত্তা), শেরপুর (১১নং খিত্তা), লক্ষ্ণীপুর (২২-২৩নং খিত্তা), ভোলা (২৫-২৬নং খিত্তা), ঝালকাঠি (২৪নং খিত্তা), পটুয়াখালী (২৮নং খিত্তা), নড়াইল (১৭নং খিত্তা), মাগুরা (২৭নং খিত্তা), পঞ্চগড় (৯নং খিত্তা), নীলফামারী (১০নং খিত্তা) ও নাটোর (১৪নং খিত্তা)।
ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণে বিদেশি মেহমানদের জন্য এবার তৈরি করা হয়েছে ৪ কামরাবিশিষ্ট বিদেশি নিবাস। সেখানে টেলিফোন সংযোগ, গ্যাস সংযোগ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, উন্নতমানের টয়লেট ব্যবস্থাসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা রয়েছে। ইজতেমায় যাতায়াতের সুবিধার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তুরাগ নদের ওপর ৭টি ভাসমান পন্টুন ব্রিজ তৈরি করেছে। ইজতেমায় মুসলিস্নদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে টঙ্গী আহসান উলস্নাহ জেনারেল হাসপাতালে ট্রমা, অ্যাজমা, হৃদরোগ, চর্ম ও যৌন রোগসহ বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোতায়েন ছাড়াও গাজীপুরের সিভিল সার্জন তিনটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন এবং বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইজতেমাস্থলের আশপাশে প্রায় ৫০টি মেডিকেল ফ্রি-ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। বিদেশি নিবাসসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রয়েছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin