নাখালপাড়ার জঙ্গি আস্ত্মানায় তিন তরম্নণের লাশ, বিস্ফোরকযাযাদি রিপোর্ট শুক্রবার জঙ্গিদের মরদেহ সরিয়ে নেনর্ যাব সদস্যরা -যাযাদিপ্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কয়েকশ গজ দূরে রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের একটি আস্ত্মানায়র্ যাবের অভিযানে তিনজন নিহত হয়েছে।
পুরনো এমপি হোস্টেলের পেছনে রম্নবি ভিলা নামে ওই ছয়তলা বাড়ির পঞ্চম তলা থেকে তিনটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপেস্নাসিভ ডিভাইস (আইইডি), বিস্ফোরক জেল ও একটি পিস্ত্মল পাওয়ার কথা জানিয়েছেনর্ যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।
র্
যাবের উপ-পরিচালক মেজর মেহেদী হাসান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ওই ভবনর্ যাব সদস্যরা ঘিরে ফেলেন। পরে শুক্রবার ভোরের দিকে সেখানে গোলাগুলি হয়। সে সময় ওই ভবনের পঞ্চম তলার জঙ্গি আস্ত্মানা থেকের্ যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গ্রেনেডও ছোড়া হয় বলে জানান তিনি।
তার ব্রিফিংয়ের কিছুক্ষণ পর র?্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে পৌঁছে কাজ শুরম্ন করে। সকাল ১০টার দিকের্ যাব মহাপরিচালক বেনজীর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, গত ৪ জানুয়ারি কয়েকজন তরম্নণ পঞ্চম তলার ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরম্ন করে। ওই বাসার একটি ঘরে তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
সেখানে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে যেগুলোর ছবি একই রকম কিন্তু একটিতে নাম লেখা হয়েছে জাহিদ অন্যটিতে সজীব। এনআইডিগুলো জাল কি না তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানর্ যাব মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, তাদের একজনের গায়ে সুইসাইড ভেস্ট ছিল। একজনের ডেডবডির নিচে একটি আইইডি রয়েছে। রান্নাঘরে গ্যাসের চুলার ওপর আইইডি রেখে আগুন জ্বালিয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করেছিল বলে মনে হয়েছে। কিন্তু সে চেষ্টা সফল হয়নি।

পরে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, পাঁচ তলার ওই ফ্ল্যাটে কক্ষ মোট তিনটি, সেখানে থাকতেন মোট সাতজন। ফ্ল্যাটে ঢোকার পর সোজা গেলে যে কক্ষটি সেখানেই তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে। আর বাকি দুই কক্ষ থেকে চারজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে এইর্ যাব কর্মকর্তা বলেন, রম্নবি ভিলার ষষ্ঠ তলার দুই ইউনিটে দুটি মেস। আর পঞ্চম তলার দুই ইউনিটের মধ্যে একটিতে মেস সেখানেই ছিল জঙ্গি আস্ত্মানা। ভবনের বাকি ছয়টি ফ্ল্যাটে ফ্যামিলি বাসা আর নিচতলায় গ্যারেজ। অভিযানের শুরম্নতেই বাড়ির গ্যাস লাইন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।
ভবনের নয়টি ফ্ল্যাট থেকে ৬১ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে দোতলায় বাড়িওয়ালার বাসায় রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে জঙ্গিদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে মুফতি মাহমুদ জানান।
ওই এলাকার একটি মাংসের দোকানের বিক্রেতা আবদুল বারেক জানান, রম্নবি ভিলার মালিকের নাম সাব্বির রহমান। এলাকার মানুষের সঙ্গে ওই পরিবারের খুব একটা মেলামেশা নেই। সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের তেমন দেখা যেত না। বাড়ির দেখভাল করতেন মূলত একজন কেয়ারটেকার।
রম্নবি ভিলার পেছনের বাড়ির বাসিন্দা বদরম্নল (৩৫) বলেন, ভোররাতে প্রচ- গোলাগুলির শব্দে তাদের ঘুম ভাঙে। সে সময় বাইরে দৌড়াদৌড়ির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল।
বদরম্নল বলেন, রম্নবি ভিলার মালিক সাব্বির এক সময় বিমানের স্টুয়ার্ড ছিলেন বলে তারা শুনেছেন। বছর পনের আগে ওই ভবন নির্মাণ করেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে।
অভিযানে থাকা একর্ যাব সদস্য জানান, ওই ভবনের কেয়ারটেকার রম্নবেল এবং বাড়িওয়ালার ছেলেকে আটক করা হয়েছে। তবে বাড়ির মালিককে পাওয়া যায়নি।
রম্নবি ভিলার কাছের্ যাবের ঘেরাওয়ের বাইরে কামাল হোসেন নামে এক প্রৌঢ় জানান, তার ছেলে পারভেজ হোসেন পরাগ ওই বাসার ষষ্ঠ তলায় একটি মেসে থাকে। ভোর ৪টার দিকে পরাগ তার মাকে ফোন করে জানায়, বাসার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, বাইরে প্রচ- গোলাগুলি হচ্ছে।
ওই খবর পেয়েই গাজীপুর থেকে রওনা হয়ে সকালে নাখালপাড়ায় চলে এলেও ছেলের সঙ্গে দেখা হয়নি কামালের।
তিনি বলেন, 'সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত্ম কথা হয়েছে ওর সাথে। বলেছে ভালো আছে। কিন্তু ৮টার পর থেকে ফোন বন্ধ পাচ্ছি।র্ যাব তো ভেতরেও যেতে দিচ্ছে না।'

মর্গে ৩ জঙ্গির মরদেহ
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের রম্নবি ভিলার জঙ্গি আস্ত্মানায়র্ যাবের অভিযানে নিহত তিন জেএমবি সদস্যের মরদেহ ময়নাতদন্ত্মের জন্য নিকটস্থ শেরেবাংলানগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তেজগাঁওয়ের পশ্চিম নাখালপাড়ার ১৩/১ ঠিকানার বাড়িটিতে তিন জঙ্গির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পরর্ যাবের প্রহরায় একটি গাড়িতে করে মরদেহগুলো শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সেলিম রেজা জানান, মরদেহ তিনটি পৌঁছেছে। মর্গ থেকে তাকে জানানো হয়েছে।
এর আগে বিকাল ৪টার দিকে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারম্নল ইসলাম জানান,র্ যাবের প্রহরায় তিন মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ময়নাতদন্ত্মের জন্য।
এ বিষয়ের্ যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, নিহত তিনজনই জেএমবির সদস্য ছিল। গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, রাজধানীতে একটি সেল গঠন করে বিভিন্ন সরকারি গুরম্নত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে ফ্ল্যাটের চুলার গ্যাস পুরোপুরি জ্বালিয়ে সেখানে গ্রেনেড রেখে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তুর্ যাব তাদের এ পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়। অভিযানের পর ঘটনাস্থলে তিনটি সুইসাইডাল ভেস্ট, মরদেহের পাশে দুটি পিস্ত্মল, অবিস্ফোরিত তিনটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপেস্নাসিভ ডিভাইস (আইইডি), ১৪টি ডেটোনেটর, চারটি পাওয়ার জেল, অন্যান্য বিস্ফোরক ও কিছু বাল্ব পাওয়া যায়।
বাড়ির ম্যানেজার রম্নবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর এই জাহিদ রম্নবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটের এক কক্ষে ভাড়ায় ওঠে। সেই ফ্ল্যাটের ৩টি কক্ষের একটি কক্ষে থাকতো জাহিদসহ ওই তিনজন। বাকি দুটি কক্ষে থাকতেন আরও চারজন। যখন বাসা ভাড়া নেয় তখন জাহিদ ম্যানেজার রম্নবেলকে বলে তার সঙ্গে দুই ভাই থাকবে। সে কারখানায় কাজ করে। ২ হাজার টাকা প্রাথমিকভাবে দিয়ে বাসায় উঠলেও মাসিক ভাড়া দেয়ার কথা ছিল ৫ হাজার ৫০০ টাকা। জাহিদ ভোরে বের হয়ে যেত রাতে ফিরত। বাকি দুজন বাসায় থাকতো তাদের কেউ বের হতে দেখেননি।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin