চকরিয়া ও কালাইয়ে সরিষা নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন চাষিরাচকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নে একটি সরিষা খেত -যাযাদিকক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের বিস্ত্মৃর্ণ এলাকাজুড়ে এবার সরিষার চাষ করা হয়েছে। হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের আশা করছেন এখানকার চাষিরা।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চকরিয়া উপজেলায় ১৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। উপজেলার সাহারবিল, বরইতলী, কোণাখালী, চিরিংগা ইউনিয়নে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত্ম সরিষার চাষ করা হয়। এই তিন মাস সরিষাচাষের জন্য উপযুক্ত সময়। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চকরিয়া-বদরখালী-মহেশখালী সড়কের সাহারবিল রামপুর স্টেশন পার হলে সড়কের উত্তরপার্শ্বেই চোখে পড়ে বিস্ত্মৃর্ণ এলাকার সরিষার ক্ষেত। বিশাল এলাকাজুড়ে ফোটা সরিষা ফুল বাতাসে হেলেদুলে সুভাস ছড়াচ্ছে। আর প্রকৃতিপ্রেমী লোকজন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতের পথে কিছু সময়ের জন্য হলেও মনোমুগ্ধকর এ দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে নিচ্ছেন। মো. পারভেজ নামে এক প্রকৃতিপ্রেমী বলেন, 'প্রতি বছর এ সময়টাতে যখনই আমি এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি তখন কিছু সময়ের জন্য হলেও দাঁড়িয়ে সরিষার ক্ষেত দেখি। মনে শতকষ্ট থাকলেও সরিষা ফুলের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ কিছুটা হলেও মন জুড়িয়ে যায়।' রামপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নেজাম উদ্দিন বলেন, তিনি এ বছর ২ কানি জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। প্রতি কানি সরিষা আবাদে সার ও কীটনাশকসহ তার খরচ হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকা। আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর সরিষায় ভালো ফলন হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উলস্নাহ কুতুবী বলেন, মূলত চকরিয়া উপজেলাটি কৃষিপ্রধান একটি উপজেলা। এখানে নানা জাতের সবজিচাষের পাশাপাশি সরিষারও চাষ করা হয়। বারি-১৪ জাতের সরিষা কৃষকের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণেও বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এই কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে কৃষকদের আবদকৃত সরিষা ক্ষেতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তারা যেন দ্রম্নত ব্যবস্থা নেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে, কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার জয়পুরহাটের কালাইয়ে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কালাই পৌরসভাসহ উপজেলার আহম্মেদাবাদ, মাত্রাই, জিন্দারপুর, উদয়পুর ও পুনট ইউনিয়নের বিস্ত্মীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। গুনগুন শব্দে উড়ে উড়ে ফুল থেকে ফুলে বসে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত্ম মধুলোভী মৌমাছির দল। হলুদ প্রকৃতির দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। বাতাসে ভেসে আসা সরিষা ফুলের ম ম গন্ধে মন ভরে যায়। চলতি রবি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সরিষাক্ষেতে রোগ-বালাই কম হওয়ায় এবার সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
পৌরসভার থুপসাড়া মহলস্নার সরিষাচাষি আব্দুল রউফ জানান, এবার তিনি ২২ বিঘা আলুর পাশাপাশি আট বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। সরিষার গাছ ভালো হয়েছে। তার আশা শেষ পর্যন্ত্ম আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেজাউল করিম বলেন, পৌরসভাসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৫০০ হেক্টর জমিতে এবার সরিষাচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত লক্ষমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৫২৫ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া এবার সরিষাচাষের অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা আছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close