জীবদ্দশায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান সৈয়দ আলীচৌদ্দগ্রাম (কুমিলস্না) সংবাদদাতা সৈয়দ আলীসৈয়দ আলী পেরিয়েছেন জীবনের ৯৩টি বসন্ত্ম। বয়সের ভারে এখন নু্যব্জ হয়ে পড়েছেন। শারীরিক অবস্থাও খুব একটা ভালো না। ডাক্তার, ওষুধ, ইনজেকশান আর নাতি-নাতনি নিয়েই সৈয়দ আলীর জীবন কাটছে।
কে বলবে এই সৈয়দ আলীই ১৯৭১ সালে জীবনবাজি রেখে নাঙ্গলকোটের ঐতিহ্যবাহী শুভপুর ব্রিজ, চৌদ্দগ্রামের ফাল্গুনকরা দীঘিসংলগ্ন ব্রিজ, মুন্সিরহাট বাজারসংলগ্ন ব্রিজ, পরিকোট ব্রিজ ভাঙ্গায় অংশ নিয়েছিলেন বীরত্বের সঙ্গে। কোথাও ব্রিজ ভাঙার কিংবা ধ্বংসের সিদ্ধান্ত্ম হলেই ডাক পড়ত এই সৈয়দ আলীর। ভারতের ত্রিপুরায় হাজারও তরম্নণের সঙ্গে সৈয়দ আলীও অংশ নিয়েছিলেন ট্রেনিংয়ে। যা ১৯৭১ সালের ২৭ নভেম্বর সার্টিফাইড কপির মাধ্যমে নিশ্চিত করে তৎকালীন ত্রিপুরার রাজ্য সরকারের অধীনের রিলিপ ক্যাম্প। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় অবদান রাখা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও এখনো মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার পূর্ব চান্দিশকরা গ্রামের সৈয়দ আলী। জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও এই বয়সে এসে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি অর্জনের জন্য ধর্ণা দিচ্ছেন বিভিন্ন দপ্তরে। অংশ নিয়েছেন উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির কার্যক্রমে।
সৈয়দ আলী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ শুরম্নর সময়েই চৌদ্দগ্রামের অনেক যুবকের সঙ্গে আমি ও আমার ভাই আব্দুল মজিদ ভারতের রাধানগরে ট্রেনিং কার্যক্রমে অংশ নিই। ট্রেনিং শেষে ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে ফাল্গুনকরার মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশ নিই। অসীম সাহসের কারণে কাদের চৌধুরী আমাকে ব্রিজ ও পুল ভাঙার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তীতে যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্ত্মানি বাহিনী ও তাদের রসদ পরিবহন বন্ধ করার জন্য চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলার অধিকাংশ ব্রিজই ধ্বংস করা হয় এই সৈয়দ আলীসহ।
সৈয়দ আলীর সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, প্রয়াত সিরাজ মিয়া (চাঁন্দিশকরা)। সৈয়দ আলী জানান, দেশ রক্ষার তাগিদে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। স্বীকৃতি কিংবা কোনো কিছুর লোভে অংশগ্রহণ করি নাই। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়েছি ডাকযোগে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের শুরম্নতে উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই কার্যক্রমেও অংশ নিই। জীবনের শেষ বয়সে অন্ত্মত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলে মরেও শান্ত্মি পাব। যুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক কাজে অংশ নিই। স্বীকৃতি না পাওয়ায় এসব কর্ম বর্তমান প্রজন্ম জানে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পেলে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা অনেক স্মৃতি সম্পর্কে নতুন করে জানতে পারবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close