শিক্ষকদের আন্দোলনপর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে উদ্যোগ নিনশিক্ষা একটি জাতির মেরম্নদ-স্বরূপ। দেশকে সামগ্রিক উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষার অগ্রগতি ও যথাযথ মানসম্মত শিক্ষাদান নিশ্চিত করারও বিকল্প নেই। সঙ্গত কারণেই শিক্ষার যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করা যেমন জরম্নরি, তেমনিভাবে এই বিষয়টিও আমলে নিতে হবে যে, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বা যে কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি হলে তা নিরসনও অপরিহার্য। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিভিন্ন সময়েই শিক্ষকরা তাদের দাবির বিষয়টি তুলে আন্দোলন বা অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করে থাকে। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে সংশিস্নষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যত দ্রম্নত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। ভুলে যাওয়া যাবে না যে, শিক্ষকরা যদি আর্থিক পরিস্থিতি বা যে কোনো ধরনের সমস্যার কারণে বিপর্যস্ত্মতার মধ্যদিয়ে জীবনযাপন করেন কিংবা বেতন বৈষম্যসহ নানা কারণেই তাদের ভেতর অসন্ত্মোষ পরিলক্ষিত হয়; তবে শিক্ষকরা দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষাদানে ব্যর্থ হবেন এমন আশঙ্কাও থাকে। ফলে শিক্ষকদের যে কোনো সমস্যার বিষয় সামনে এলে তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেই আমরা মনে করি।
প্রসঙ্গত বলতে চাই, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকের আন্দোলন বা দাবির বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে। তারা তাদের অসুবিধার বা সংকটের কথা বলেছেন- যেখানে শিক্ষকদের মানবেতর জীবনযাপনের মতো বিষয়ও উঠে এসেছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়েও শিক্ষকদের আন্দোলন বা অনশনের মতো কর্মসূচির মধ্যদিয়ে তাদের দাবির বিষয়গুলো সামনে এসেছে। সংশিস্নষ্টদের মনে রাখা দরকার, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে যদি যথাযথ দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষা প্রদানে ব্যর্থ হয় তবে তা অত্যন্ত্ম উদ্বেগের। এমন বিষয়ও সামনে এসেছে, শিক্ষকরা বছরের পর বছর বিনা বেতনে পাঠদান করে যাচ্ছেন। এমনকি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা তেমন বেতনভাতা পায় না আবার কিছু মাদ্রাসার শিক্ষক আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা বেতন পেলেও- অনেক শিক্ষকই ২৯ বছর ধরে বেতনভাতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছিল। আমরা বলতে চাই, শিক্ষক যদি ২৯ বছর ধরে বেতন ভাতা বঞ্চিত থাকে তবে এই পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে তা আমলে নিতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের দাবি আদায়ের পরিপ্রেক্ষিতে অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টিও অজানা নয়। সঙ্গত কারণেই সার্বিক পরিস্থিতির পুঙ্ক্ষানুপঙ্ক্ষ পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যত দ্রম্নত সম্ভব কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক বলেই আমরা মনে করি।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সরকার শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে নানা ধরনের উদোগ গ্রহণ করেছে এবং তার বাস্ত্মবায়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ শিক্ষা ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে এমন বিষয় পরিলক্ষিত হলে- তা আমলে নেয়ার বিকল্প থাকতে পারে না। সরকার সংশিস্নষ্টদের মনে রাখতে হবে- নিত্যপণ্যের মূল্য থেকে শুরম্ন করে জীবনযাপনের সামগ্রিক ব্যয়ের বিষয়টি। শিক্ষকরা যদি অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত্ম পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যায় তবে শিক্ষার প্রসারে তার প্রভাব নেতিবাচক হতে পারে এমনটি বলা অযৌক্তিক নয়।
সর্বোপরি বলতে চাই, সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষাকে এগিয়ে নেয়ার বিকল্প নেই। আর সেই প্রশ্নে শিক্ষকদের সমস্যাকেও আমলে নিতে হবে। এমনিতেই বিভিন্ন সময়েই প্রশ্নফাঁস, কোচিং নির্ভরতা থেকে শুরম্ন করে নানা ধরনের নেতিবাচক বিষয় সামনে এসেছে, যা উৎকণ্ঠার, আবার যদি শিক্ষকদের বিপর্যস্ত্ম পরিস্থিতির বিষয়টি পরিলক্ষিত হয় তবে তা উদ্বেগজনক বাস্ত্মবতাকেই স্পষ্ট করে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যত দ্রম্নত সম্ভব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিশ্চিত হবে এমনটি কাম্য।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin