এক-এগারোর সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগ: নোমানযাযাদি রিপোর্ট শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক মঞ্চ আয়োজিত মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুলস্নাহ আল নোমানসহ উপস্থিত নেতারা -যাযাদিক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে এক-এগারোর (ওয়ান-ইলেভেন) সুবিধাভোগী আখ্যায়িত করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুলস্নাহ আল নোমান বলেছেন, তারা এখন রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্ত্মার করতে চায়।
শুক্রবার সকালে রাজধানীতে এক মানববন্ধন থেকে দেশে বর্তমানে গণতন্ত্র নেই দাবি করে 'তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায়' তার দল বিএনপি কোনো ছাড় দেবে না বলে মন্ত্মব্য করেন তিনি।
নোমান বলেন, "দেশের যে এক-এগারোর সৃষ্টি হয়েছিল, সেই এক-এগারোর সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্ত্মার করতে চায়। তারা আবার বাকশাল করতে চায়। মানুষের মৌলিক অধিকার ইতোমধ্যে তারা হরণ করে ফেলেছে।
'আমরা দেশের একটি গণতান্ত্রিক সরকার চাই, দেশে সুশাসন চাই। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রয়োজনে আলোচনা করব, প্রয়োজনে আন্দোলন করব; গণতন্ত্রের প্রশ্নে আমরা ছাড় দেব না।'
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়ে বিতর্কের জেরে রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ফখরম্নউদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বাধীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়, রাজনীতিতে যা ওয়ান-ইলেভেন (এক-এগার) হিসেবে পরিচিত।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্ত্মান্ত্মর করে বিদায় নেয়ার আগে সেই সরকারের দুই বছরে দুর্নীতির অভিযোগে বিএনপি-আওয়ামী লীগের বহু রাজনীতিবিদকে কারাগারে যেতে হয়।
সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করলে তা পুনর্বহালের দাবিতে পরের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আসছে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেও ফের নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে তারা। তবে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির দাবি নাকচে সরকারের সমালোচনা করে আবদুলস্নাহ আল নোমান বলেন, 'এই সরকার গণতন্ত্রের কবর রচনা করতে চায়। তারা মনে করে, যদি বুলেটের চাইতে শক্তিশালী ব্যালট এদেশের সাধারণ মানুষ নির্ভেজালভাবে দিতে পারে- তাহলে আওয়ামী লীগ ইতিহাসের আঁস্ত্মাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।'
'এই নিক্ষিপ্ত হওয়ার ভয়ে, তারা পাল্টা রাজনৈতিক যে শক্তি- দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এবং যে দল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছে, সেই দলকে ধ্বংস করতে চায়। আমরা বলতে চাই, এসব করে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের বিরম্নদ্ধে মামলা দিয়ে জনগণকে দমানো যাবে না।'
তিনি বলেন, 'গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পূর্বশর্ত। আমরা বলেছি, নির্বাচন আমরা চাই, নির্বাচন আমরা করব। তবে সেই নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে।'
গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এই বিএনপি নেতা।
নোমান বলেন, 'সরকার... তার উপরিকাঠামো যতই শক্তিশালী মনে হোক, আমরা দেখছি, তারা দুর্বল হয়ে গেছে। এই দুর্বলতায় তারা এখন বাঁচতে চায়। আমরা বলি আসুন আলোচনা করি, আলোচনা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি। এই লক্ষ্যে আমি সকলকে এক হওয়ার আহ্বানও জানাচ্ছি।'
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরম্নদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক মঞ্চ।
গণতান্ত্রিক মঞ্চের সভাপতি ইসমাইল হোসেন তালুকদার খোকনের সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুলস্নাহ, জাসাসের শাহিরম্নল ইসলাম শায়লা, উলামা দলের কাজী রফিকুল ইসলাম এবং মুক্তিযোদ্ধা ফরিদউদ্দিন বক্তব্য রাখেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close