ফুসফুসে যক্ষ্ণাযাযাদি হেলথ ডেস্ক ফুসফুসে যক্ষ্ণা একটি সংক্রামক রোগ। এ রোগে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার মতো সুস্পষ্ট কোনো লক্ষণ নেই। কারণ অনেক ধরনের বক্ষব্যাধিতে একই ধরনের লক্ষণ থাকতে পারে। ফুসফুসের যক্ষ্ণার লক্ষণগুলো হলো কফ কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত যাওয়া, বুকে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া। এ রোগে সব ধরনের জ্বরই থাকতে পারে, যদিও অনেকে মনে করেন বিকালের দিকে খুসখুস করে কাশির সঙ্গে জ্বর থাকা এবং রাতে প্রচুর ঘাম হওয়া একটি বড় লক্ষণ আগেই লিখেছি এ ধরনের সমস্যাগুলো অনেক ধরনের বক্ষব্যাধিতেই থাকতে পারে। এ রোগের চিকিৎসার সফলতা নির্ভর করবে চিকিৎসকের কাছে রোগীর বশ্যতা স্বীকার করার মধ্য দিয়ে, অর্থাৎ রোগীর চিকিৎসকের পরামর্শ এবং নির্দেশ অনুসরণ করা একান্ত্ম জরম্নরি। রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে সম্যক বোঝাপড়া খুবই দরকার।
চিকিৎসার সফলতার একটি প্রধান দিক উপযুক্ত ওষুধ দেয়া। ছোঁয়াচে রোগীকেও হাসপাতালে রাখার বিশেষ দরকার নেই। একসঙ্গে একাধিক ওষুধ প্রয়োগ দরকার যাতে জীবাণুগুলো ওষুধের প্রতি বিরম্নদ্ধাচরণ করতে না পারে। আজকাল আগের নিয়মানুযায়ী ১৫ মাস, ২২ মাস মেয়াদের চিকিৎসা দেয়া হয় না। বিশেষ কিছু কারণে রোগী সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করেনি কিন্তু ওষুধের প্রতি সেনসেটিভ রয়েছেন এবং তার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এমন অবস্থায় আরোগ্য লাভের আশায় কিছুটা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা অবলম্বন করা যেতে পারে। যক্ষ্ণা চিকিৎসায় দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। প্রথম শ্রেণির ওষুধগুলো রিফামপিসিন, পাইরাজিনামাইড আইএনএইচ স্ট্রেপটোমাইসিন ও ইথামবুটল। দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছে আয়াসিটাজোন, পিএএস এথিওনেমাইড, সাইক্লোসিরিন, কেনামাইসিন কেপরিওমাইসিন। দ্বিতীয় শ্রেণির ওষুধের গুরম্নতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। যেমন- পিএএস বেশ প্রবলভাবে পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। লিভারের ওপর আক্রমণের ফলে হেপাটাইটিস হতে পারে। সাধারণত আজকাল ৬ মাস ও ৯ মাস মেয়াদে যক্ষ্ণার চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। প্রথম দুই মাসে সাধারণত আইএনএইচ, রিফামপিসিন ও পাইরাজিনমাইড ব্যবহৃত হয়। আবার আইএনএইচ, রিফামপিসিন, পাইরাজিনামাইড ও ইথামবুটল, স্ট্রেপটোমাইসিন ব্যবহৃত হয়। পরের ৪ মাস শুধু আইএনএইচ ও রিফামপিসিন ব্যবহার করা হয়। ৯ মাসের চিকিৎসায় প্রথম ২ মাস আইএনএইচ, রিফামপিসিন, ইথানবুটল বা স্ট্রেপটোমাইসিন ব্যবহার করা হয় এবং পরের ৭ মাসে আইএনএইচ ও রিফামপিসিন ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া বিরতিহীন চিকিৎসার পরিবর্তে স্থগিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় ক্ষেত্রবিশেষের উদ্দেশ্যে। এ ধারায় চিকিৎসা অসহনীয় শক্তিশালী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে কিছুটা অব্যাহতি পাওয়া যায়। এটাও চিকিৎসার একটা ধরন।
আইএনএইচ ওষুধ দামের দিক থেকে সুবিধাজনক। এটি জীবাণু ধ্বংসকারী ও দেহে সম্পূর্ণ শোষিত হয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে লিভারের প্রদাহ দেখা দিতে পারে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে অর্থাৎ ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পেতে থাকে। যেসব ওষুধের বিরম্নদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে প্রথমেই আইএনএইচের নাম চলে আসে। এ ওষুধের প্রভাবে শরীর থেকে পাইরিডক্সিন বা ভিটামিন বি-৬ প্রসারের সঙ্গে নিষ্কাশন হয় এবং সেজন্য পেরিফেরাল নিউরোপেথি হতে পারে। পানাসক্ত ও গর্ভবতী মায়ের বেলায় আইএনএইচের সঙ্গে ভিটামিন বি-৬ দেয়া অবশ্যই উচিত।
রিফামপিসিন প্রথম শ্রেণির ওষুধ। আইএনএইচের মতোই জীবাণু ধ্বংসকারী ও বংশ বৃদ্ধিকারী জীবাণুর ওপর কার্যকর। বিশেষ করে রিফামপিসিনের জন্য এখন যক্ষ্ণা রোগের চিকিৎসার মেয়াদ সংকুচিত হয়ে এসেছে। রিফামপিসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরিপাকযন্ত্রের ওপর পরিলক্ষিত হয়। প্রায়ই জন্ডিস ও ক্ষুধামন্দা দেখা যায়। পাইরাজিনামাইড একটি অতি কার্যকর ওষুধ এবং মেক্রোফেজের মধ্যে লুক্কায়িত জীবাণুর ওপর অধিক কার্যকর। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে রক্তের এবং যকৃতে ইউরিক এসিডের বৃদ্ধি ঘটে। ইথামবুটল ওষুধটি যক্ষ্ণার জীবাণুর কার্যক্ষমতা প্রতিহত করতে সক্ষম কিন্তু ধ্বংসকারী নয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চোখের দৃষ্টির স্বচ্ছতা হ্রাস পায় এবং লাল-সবুজ রঙের উপলব্ধি ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। চিকিৎসা চলাকালে লক্ষণীয় দিক : চিকিৎসার শুরম্নতেই কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া এবং রক্তের সব পরীক্ষা করে নেয়া ভালো। চিকিৎসা শুরম্নর পর প্রতি মাসে রোগীদের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। কোনো বিশেষ অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্ভূত লক্ষণ ওষুধের কারণে দেখাটা অস্বাভাবিক নয়, সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা উচিত এবং এ অবস্থায় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করাতে হবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close