বিএনপির আন্দোলনপরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত্ম নেবে আওয়ামী লীগআওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, খালেদা জিয়ার রায়ে জনমনে ও প্রশাসনে প্রভাব, বিএনপির অভ্যন্ত্মরীণ অবস্থা, তাদের কর্ম-কৌশল, তৃণমূল নেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছেইয়াছিন রানা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের জেল হওয়ার পরও বিএনপি আগের মতো সহিংসতা, নৈরাজ্য না করে শান্ত্মিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করার কৌশল নিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগও কোনো হঠকারি সিদ্ধান্ত্ম না নিয়ে বরং পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার চিন্ত্মা-ভাবনা করছে।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, খালেদা জিয়ার রায়ে জনমনে ও প্রশাসনে প্রভাব, বিএনপির অভ্যন্ত্মরীণ অবস্থা, তাদের কর্ম-কৌশল, তৃণমূল নেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিএনপির শান্ত্মিপূর্ণ কর্মসূচি যেমন- মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি, অনশনে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ কেমন, কারা সক্রিয় ভূমিকা রাখছে এবং শেষ পর্যন্ত্ম তাদের কর্মসূচির গতিপথ কোন দিকে যায় তাও লক্ষ্য রাখছে।
জানা গেছে, নির্দিষ্ট কোনো ছকে আঁকা সিদ্ধান্ত্মে নেবে না আওয়ামী লীগ। আবার নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উপর ভরসাও করছে না। প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সজাগ রয়েছে।
দলটির নেতারা জানান, বিএনপির উপর নির্ভর করবে আগামীতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ও কৌশল কি হবে। বিএনপি সংঘাত, সহিংসতায় না যেয়ে শান্ত্মিপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এটা তাদের কৌশল। তাদের লক্ষ্য যেভাবেই হোক সরকারের পতন ঘটানো। কিন্তু খালেদা জিয়া জেলে যাওয়াতে এমনিতেই দলটি জনগণের কিছুটা সহানুভূতি অর্জন করেছে। এরমধ্যে তাদের স্বাভাবিক ও অহিংস কর্মসূচিতে বাধা দিলে তাদের সমর্থন আরও বাড়বে। তাই আপাতত সরকারের তরফ থেকে চাপ না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা দলটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
তারা বলেন, বিএনপি সংঘাতে জড়াবে ধরে নিয়ে সরকারের নানা প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু বিএনপি সংঘাতে না জড়িয়ে চুপচাপ থাকায় দলটির কৌশল নিয়েও নতুন করে চিন্ত্মা-ভাবনা ও পর্যবেক্ষণ করছে ক্ষমতাসীনরা। কখন কোন কৌশল গ্রহণ করে তা জানতেও যথেষ্ট গুরম্নত্ব দেয়া হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উপর আগের চেয়ে চাপ বেড়েছে বলেও জানা গেছে। গত ৮ ফেব্রম্নয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়ার সময় মগবাজার ফ্লাইওভার ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে গাড়ি যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গাড়ি বহরের কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল না বলে একাধিক বার আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া মগবাজার রেল লাইনে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গাড়ি বহরে যুক্ত হয়ে আদালত পর্যন্ত্ম যাবে এ বিষয়ে কোনো ধারণা বা তথ্য ছিল না সরকারের কাছে। রাস্ত্মায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ভীত মনোবলকেও গুরম্নত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামীতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে কোন পন্থায় তা মোকাবেলা করা হবে তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
এদিকে পুলিশ ছাড়া বিএনপিকে মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কতটুকু সক্ষম তা নিয়েও চলছে পর্যালোচনা। কার কোথায় ব্যর্থতা সে সবও খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাই সব মিলিয়ে পরিস্থতি বুঝে সব সিদ্ধান্ত্ম নেবে আওয়ামী লীগ। বিএনপি যদি শান্ত্মিপূর্ণ থাকে এবং সংবিধান মোতাবেক নির্বাচনে অংশ নেয়, কোনো ষড়যন্ত্র না করে তাহলে স্বাভাবিকভাবে তারা যে সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তারা তা পাবে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের একজন সভাপতিম-লীর সদস্য যায়যায়দিনকে বলেন, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। একটি দল হিসেবে আইন ও বিধান অনুযায়ী যে সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা তা বিএনপি বা অন্য যে কোনো দল পাবে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নতুন কোনো সিদ্ধান্ত্ম নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, বিএনপির কর্মকা- পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আপাতত বিএনপির বিষয়ে ভালো অথবা মন্দ কোনো সিদ্ধান্ত্ম নেয়া হবে না। শুধু দলটি যেন নৈরাজ্য বা নাশকতা করতে না পারে সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন ক্ষণে ক্ষণে কৌশল বদল করবে বলে ধারণা করছেন তারা। খালেদা জিয়া না থাকায় বর্তমানে বিএনপিতে একেক নেতার একেক মত। একেকবার একেক নেতা সংবাদ সম্মেলন করে দলের অবস্থান জানান দেন। এতে দলটিতে বিশৃঙ্খলা ফুটে উঠেছে। তাই চাপে না রেখে, গ্রেপ্তার না করে মাঠে নামতে দিলে তাদের নিজেদের মধ্যকার বিশৃঙ্খলা আরও বেশি ফুটে উঠবে। এতে বিএনপিতে বিভাজন বাড়বে, নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়বে। দলের এই নেতা জানান, সে জন্য আপাতত বিএনপিকে পর্যবেক্ষণে রাখাই শ্রেয় বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ।
এ নিয়ে তৃণমূল সংগঠনেও বিশেষ কোনো নির্দেশনা নেই আওয়ামী লীগের। বিএনপির কর্মসূচি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে লিয়াজোঁ রক্ষা করে কাজ করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ যায়যায়দিনকে বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির সঙ্গে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিতে নিষেধ করেছেন। তাই বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই। তারা যদি শান্ত্মিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে কিংবা সহিংসতা করে তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে। যদি বিএনপির জ্বালাও পোড়াও পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তখন তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশে দাঁড়াবেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারম্নক খান যায়যায়দিনকে বলেন, তারা আশা করেন, বিএনপি কোনো সহিংসতায় জড়াবে না। কারণ তাদের নেতারা বুঝতে পেরেছেন সহিংসতা করে কোনো লাভ নেই। এ ছাড়া অতীতে যে সব কর্মীকে দিয়ে নেতারা সহিংসতা ও নাশকতা করিয়েছেন পরবর্তীকালে মামলা হলে কিংবা গ্রেফতার হলে নেতারা সে সব কর্মীর পাশে থাকেননি। সে জন্য বিএনপি নেতাদের কথা তাদের কর্মীরা শুনবেন না। এরপরও তারা নাশকতা করলে তাদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close