এলএলবি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তাএস এম মামুন হোসেন কেন্দ্র স্থানান্ত্মর সংক্রান্ত্ম জটিলতায় পরীক্ষা শুরম্নর একদিন আগেই হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এলএলবি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এ বিষয়ে এখন হাইকোর্টের দিকে তাকিয়ে থাকলেও কত দিনে পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি মিলবে তা জানে না কেউই। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এক বছরের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা প্রায় দুই বছর পর শুরম্ন হতে গিয়েও কোর্টের নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেছে। এর পরে যদি আরও দেরি হয় তবে তা শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার পথে বড় বাধার কারণ হতে পারে।
আইনজীবীরা বলছেন, এ জাতীয় সমস্যা কোর্টে গড়ালে তা সমাধান হতে দীর্ঘসূত্রতা অবশ্যম্ভাবী। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাকার্যক্রম এগিয়ে নেয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ২০১৬ সালে ভর্তি হওয়া এলএলবি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা নিয়ম অনুসারে ২০১৭ সালের প্রথমার্ধে হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ২ ফেব্রম্নয়ারি এ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এবার জেলা শহর থেকে পরীক্ষার কেন্দ্র বিভাগীয় শহরে আনায় তা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট দায়ের করে।
হতার প্রেক্ষিতে কোর্ট এ পরীক্ষা স্থগিত করে দেয়।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, সকাল ৯টায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তাদের পক্ষে বিভাগীয় শহরে পৌঁছানো কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে প্রত্যন্ত্ম জেলাগুলো থেকে আসা নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্ত্মোষ দেখা দেয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে স্ব স্ব জেলা ও কেন্দ্রে পরীক্ষা হওয়ায় তা নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে গ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে জেলা শহরে হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এ পরীক্ষায় নানাভাবে হস্ত্মক্ষেপ করে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি কোর্স করার ক্ষেত্রে বয়সের কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকায় বয়স্করাই সেখানে বেশি অংশ নেয়। যাদের কেউ রাজনীতিবিদ আবার কেউ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। যারা স্থানীয়ভাবেও প্রভাবশালী। সব মিলে সুষ্ঠু পরীক্ষার স্বার্থেই বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এসব টানাটানির মধ্যেই হাইকোর্টের নির্দেশে পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার পর শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় উভয় পক্ষই নতুন সমস্যার মুখে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছে, তারা জেলা শহরে পরীক্ষা চাইলেও তা স্থগিত চাননি।
যশোর শহীদ মশিউর রহমান আইন মহাবিদ্যালয় আইনের শিক্ষার্থী ইদ্রিস হোসেন জানান, এলএলবি পরীক্ষা শেষ হতে এক মাসের বেশি সময় লেগে যায়। ফলে প্রতিদিন বিভাগীয় শহর খুলনাতে যাতায়াত করে পরীক্ষায় অংশ নেয়া কষ্টকর ও ব্যয়বহুল। আবার আবাসিক থেকে এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ আরও বেশি ব্যয়বহুল। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কিংবা থাকার সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত প্রশ্নও রয়েছে। পরীক্ষা সকাল ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত্ম হবে। বিভাগীয় শহরে যেতে কয়েক ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। রাস্ত্মার অবস্থাও ভালো নয়। ফলে খুব সকালে পরীক্ষার জন্য রওনা দিতে হবে। এছাড়া বাসে চলাচলে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেজন্য বাসে করে বিভাগীয় শহরে গিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এলএলবির ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আরেক পরীক্ষার্থী তৈয়েবুর রহমান বলেন, 'এক সমস্যা থেকে উদ্ধার পেতে গিয়ে তার চাইতে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভর্তির দুই বছর পর পরীক্ষার তারিখ পড়লেও তা কোর্টের নির্দেশে পিছিয়ে গেল। এখন পরীক্ষা হতে শুনছি অনেক সময় লাগবে। এ অবস্থায় এলএলবি করব নাকি বাদ দিয়ে দেব তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছি।'
বাংলাদেশ ল কলেজের অধ্যক্ষ এবং আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ যায়যায়দিনকে বলেন, 'কোর্ট থেকে সমস্যার সমাধান হতে সময় লাগবে। যারা রিট করেছে তাদের ভেবেচিন্ত্মে করা উচিত ছিল। এখন কান্নাকাটি করলেও কারো পক্ষে পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।'
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারম্নন আর রশিদ যায়যায়দিনকে বলেন, 'ভালো কিছু করতে গেলে পদে পদে বাধা আসে। জেলা শহরগুলোতে পরীক্ষা হওয়ার কারণে কোনোভাবেই এ পরীক্ষাকে নকলমুক্ত পরিবেশে করা সম্ভব হচ্ছে না। নকল করতে না দিলে পরীক্ষা কন্ট্রোলারদেরকে হেনস্ত্মা করা হয়। এ কারণেই বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত্ম নেয়া হয়। কিন্তু যাই হোক এখন আদালতের আদেশ মতোই কাজ করতে হবে। আদালতের কাছে আমরা এ বিষয়ে নির্দেশনা চাইব। যে নির্দেশ মেলে সেভাবেই কাজ করব।'
কত দিনে পরীক্ষা হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য হারম্নন আর রশিদ আরও বলেন, 'এটা এখন আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এজন্য কোর্টের অনুমতি প্রয়োজন হবে। কোর্ট যখন অনুমতি দিবে তখনই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।'
উলেস্নখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের ল' কলেজের এলএলবি পার্ট-১ পরীক্ষার কেন্দ্র জেলা সদর থেকে বিভাগীয় সদরে স্থানান্ত্মর করে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর কিছু শিক্ষার্থী তার বিরম্নদ্ধে রিট দায়ের করে। যার প্রেক্ষিতে ৩১ জানুয়ারি পরীক্ষা স্থগিত করে দেয় হাইকোর্ট।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close