আহমদ শফী ফের বেফাকের সভাপতিযাযাদি রিপোর্ট শাহ আহমদ শফীহেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী আবারও বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)-এর সভাপতি হয়েছেন। গত ১০ বছর ধরে তিনি বেফাকের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
সোমবার রাজধানীর জামিয়া ইমদাদিয়া আরাবিয়া ফরিদাবাদ মাদ্রাসায় বেফাকের দশম কাউন্সিলে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কাউন্সিল অধিবেশনে আহমদ শফী নির্বাহী কমিটি ও শূরা কমিটি ঘোষণা করেন।
নির্বাহী কমিটিতে ১১৬ জন এবং শুরা কমিটিতে ২৪২ জন সদস্য আছেন। পদাধিকার বলে নির্বাহী কমিটির ১১৬ জন সদস্য শূরা কমিটিতে অন্ত্মর্ভুক্ত হন। ঘোষিত নির্বাহী কমিটিতে ২৭ জনকে সহসভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া, সহকারী মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন ৮ জন। বেফাকের নবম কাউন্সিল ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নিয়মানুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর এই কাউন্সিল হয়ে থাকে।
বেফাকের কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, নতুন কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হয়েছেন জামিয়া শরিয়াহ মালিবাগ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আশরাফ আলী। মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন জামিয়া ইমদাদিয়া ফরিদাবাদ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুল কুদ্দুস। ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর বেফাকের পুরনো কমিটির মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদী মারা যাওয়ার পর থেকেই মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঘোষিত কমিটিতে ২৭ জন সহসভাপতির মধ্যে রয়েছেন, মাওলানা আজহার আলী আনোয়ার শাহ (জামিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ), মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী (বারিধারা), মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস (মনিরামপুর, যশোর), মাওলানা মোস্ত্মফা আযাদ (আরজাবাদ),মাওলানা হাবিবুর রহমান (সিলেট), মাওলানা আবদুল কুদ্দুস (মিরপুর), মাওলানা আবদুল বারী ধর্মপুরী (মৌলভীবাজার), মাওলানা মুহিব্বুলস্নাহ বাবুনগরী (বাবুনগর, চট্টগ্রাম), মাওলানা নূরম্নল ইসলাম আযাদী (ওলামাবাজার, ফেনী), মাওলানা মাহমুদুল হাসান (যাত্রাবাড়ী), মাওলানা আবদুর রহমান হাফেজ্জী (মোমেনশাহী), মাওলানা আবদুল হামিদ (মধুপুর), মাওলানা নূরম্নল ইসলাম (খিলগাঁও), মাওলানা আতাউলস্নাহ ইবনে হাফেজ্জী (জামিয়া নূরিয়া, ঢাকা), মাওলানা সাজিদুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মাওলানা সালাহুদ্দীন (নুনুপুর, চট্টগ্রাম), মাওলানা ছফিউলস্নাহ (জামিয়া দ্বীনিয়া, মতিঝিল), মুফতি জাফর আহমদ (ঢালকানগর), মুফতি ফয়জুলস্নাহ (লালবাগ), মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু (সিলেট), মাওলানা আনাস মাদানী (হাটহাজারী) মাওলানা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, মাওলানা বদরম্নদ্দীন (সিলেট), মাওলানা আশেক এলাহী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মাওলানা ফয়জুলস্নাহ (মাদানীনগর)।
ঘোষিত কমিটিতে ৮ জন সহকারী মহাসচিবের মধ্যে রয়েছেন মাওলানা মাহফুজুল হক (মুহতামিম, জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া ), মুফতি নুরম্নল আমিন ( ফরিদাবাদ), মুফতি কেফায়েতুলস্নাহ আজহারী ( আল মানহাল কওমি মাদরাসা), মুফতি নেয়ামাতুলস্নাহ (জামিয়া সাহবানিয়া দারম্নল উলুম), মাওলনা শামসুল হক (দ্বীনি শিক্ষাবোর্ড, হবিগঞ্জ), মালানা নজরম্নল ইসলাম (এদারায়ে তালিমিয়া সিলেট), মাওলানা মোবারক উলস্নাহ (এদারায়ে তালিমিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মাওলানা জামালুদ্দীন মাহমুদ (তালিমি বোর্ড মাদানীনগর)।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে বেফাকের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল শুরম্ন হয়। কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করেন শাহ আহমদ শফী। কাউন্সিলে যোগ দিতেই তিনি রবিবার ঢাকায় আসেন। সভায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেফাকের কাউন্সিল সদস্যরা যোগ দেন।
সভায় শুরম্নতে বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস চারটি প্রস্ত্মাব ও কওমি মাদ্রসার উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তার প্রস্ত্মাবগুলো হচ্ছে- আগামী শিক্ষা বছর থেকে অন্যান্য জামাতের (শ্রেণির) মতো মক্তব (নুরানি) বিভাগের বার্ষিক পরীক্ষাও বেফাকের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। দ্রম্নত বেফাকের বহুতল ভবন নির্মাণ শেষ করা। কাফিয়া জামাতের বার্ষিক পরীক্ষা বেফাকের অধীনে অনুষ্ঠিত করা। মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের উন্নয়নের জন্য আগামী বছর থেকে ইফতার পরীক্ষা বেফাকের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close