পূর্ববর্তী সংবাদ
গরুর হাটে একদিনবছর ঘুরে আবারও এসেছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব ঈদুল আজহা। সাধারণ মানুষের মতো বিনোদন ভুবনের তারকারাও ইতিমধ্যেই ঈদের খুশির জোয়ারে মেতে উঠেছেন। পবিত্র ঈদুল আজহায় গরু কেনা নিয়ে সাত তারকাশিল্পী স্মৃতিচারণ করলেন।গরুর পেছনে
দৌড়েছিলাম
ফেরদৌস ওয়াহিদ, কণ্ঠশিল্পী
আমার জীবনে গরু কেনা নিয়ে অনেক মজার ঘটনা রয়েছে। তার মধ্যে ১৬-১৭ বছর আগের একটি ঘটনা মনে পড়ছে। আমি মাওয়া ফেরি ঘাট থেকে গরু কিনে বাসায় ফিরছি। তখন হাবিব ছোট। ও আমার সঙ্গেই ছিল। ওই সময় আমি নিজ গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুরেই কোরবানী দিই। বাসা থেকে লোকজন নিয়ে হাটে এসেছিলাম; যাতে গরু কিনে ওদের হাতে তুলে দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারি। কিন্তু সেদিন গরু কিনে আমারও কেন যেন ওদের সঙ্গে কিছু দূর হাঁটতে ইচ্ছে করল। আমার সঙ্গের লোকজনরা গরু ধরে হাঁটছে। আর আমি ও হাবিব ওদের পিছু পিছু হাঁটছি। হঠাৎ গাড়ির হর্ন শুনে গরু দিল ছুট। গরুর পেছন পেছন আমরাও দৌড়াতে লাগলাম। সে স্মৃতির কথা মনে হলে এখনও হাসি পায়।

দড়ির টান লেগে
পড়ে গিয়েছিলাম
আমিন খান, চিত্রনায়ক
কৈশোরে প্রায়ই গরুর হাটে যেতাম। একবারের একটা ঘটনা বলি। তখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। আমি ও আমার মামা অনেক কষ্ট করে হাট থেকে একটি গরু কিনে বাসায় ফিরছিলাম। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় গরুটি দৌড় দেয়। আমি কিন্তু দড়ি ছেড়ে দেইনি। এ জন্য পড়ে গিয়ে সারা শরীরে কাদা লেগেছিল। এ বিষয়টি ঈদ এলেই খুব মনে পড়ে। এখন কোরবানির ঈদ পরিবারের সবার সঙ্গে ঢাকাতেই উদযাপন করি। আমরা ভাই-বোনেরা মিলে ঈদের একদিন অথবা দুই দিন আগে রাতে গিয়ে গরু কিনে আনি। কোরবানির ঈদের আসল আনন্দই হচ্ছে হাটে যাওয়া। তবে ব্যস্ততার কারণে গত কয়েক বছর ধরে সেভাবে আর হাটে যাওয়া হচ্ছে না।

আমাকে দেখে
দাম দ্বিগুণ করে
বিপ্লব, ব্যান্ডশিল্পী
গরু কিনতে আমি হাটে খুব বেশি যাইনি। তবে অনেক আগের একটি ঘটনা বলি। একবার গরু কিনতে হাটে গিয়েছিলাম। তখন আশপাশের লোকজন আমাকে ঘিরে রীতিমতো ভিড় জমিয়েছিল। গরুর ব্যাপারীও আমাকে দেখে দাম দ্বিগুণ করে দিয়েছিলেন। সেবার অনেক কষ্টে একটি গরু কিনেছিলাম। এরপর থেকে হাটে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। তবে গরু নিয়ে আমার শোনা একটি মজার ঘটনা আছে। যা মনে হলে দারুণ হাসি পায়। ঘটনাটি আমার এক চাচার। তিনি একটু রাগি কিসিমের। আমাদের পাশেই থাকেন। কোরবানির জন্য বড় দেখে একটা গরু কিনেছেন। ঈদের দিন তা জবাই করার জন্য সবাই মিলে গরুটিকে শোয়ানোর চেষ্টা করে। কোনো ভাবেই তারা গরুটিকে শোয়াতে পারছিল না। এমন সময়, ওই চাচা জোরে একটি হাঁচি দেন। এতে ভয় পেয়ে গরুটি নাকি নিজেই শুয়ে পড়ে।

গরু কেনা
অনেক কষ্ট
নোবেল, মডেল
গরু কেনা খুবই কষ্টের। বিশেষ করে পছন্দসই গরু খুঁজে বের করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। তারপরও আমাকে প্রায়ই গরুর হাটে যেতে হয়। বছর কয়েক আগে একা একা হাটে গিয়ে চরম বিপদে পড়েছিলাম। গরুটি বাসা পর্যন্ত নিয়ে আসতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। তবে এখন আর একা হাটে যাই না। আমার পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে যাই। আমার ছেলে অনেকটা বড় হয়েছে। তাই ওকে নিয়েই হাটে যাই। হাটে যেতে ও মজা পায়- এটাই আমার কাছে ভালো লাগে। কিন্তু হাটে গিয়ে গরু কেনার পুরো কাজটাই খুবই কঠিন বলে মনে হয়। বিশেষ করে রাজধানীর বেশিরভাগ হাটগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ায় আরো বেশি কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে হাট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনার বিষয়টি যথাযথ থাকে না। সবকিছু মিলিয়েই হাটে গিয়ে গরু কেনা দিন দিন দুরূহ হয়ে যাচ্ছে।

আমাকে দেখে
ভিড় জমিয়েছিল
আসিফ আকবর, কণ্ঠশিল্পী
ছোটবেলায় অনেকবার হাটে গিয়েছি। কিন্তু তারকাখ্যাতি পাওয়ার পর খুব কম যাই। কারণ হাটে যাওয়ার পরই সবাই তাকিয়ে থাকে। আমার প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ হওয়ার পরের ঈদে হাটে গিয়েছিলাম। তখন আমাকে দেখে সবাই ভিড় জমিয়েছিলেন। তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। আর এই ভয়ের কারণে এখন হাটে যাই না। আমি বেশিরভাগই ঈদ কুমিল্লাতেই উদযাপন করি। আর গরু কেনার সব দায়িত্ব আমার ভাইয়েরা পালন করে। তবে আমি কোরবানির মাংস কাটার কাজে অংশগ্রহণ করি। এই কাজটি করতেও আমার ভালো লাগে। তাছাড়া আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কোরবানির মাংস বণ্টন করি।

শুটিংয়ের ফাঁকে
গরু কিনেছি
সজল, অভিনেতা
আমাদের পরিবারের লোকেরা গরু কিনতে প্রতি বছরই গাবতলীতে যায়। ওখানে বিরাট গরু-ছাগলের হাট বসে। সাধারণত ঈদের দুই দিন আগে গরু কিনি। বছর কয়েক আগে এ কাজটি আমাকেই করতে হতো। একবার ঈদের নাটকের শুটিং নিয়ে তুমুল ব্যস্ততা চলছে। এদিকে ঈদও এসে গেছে। কিন্তু গরু কেনা হয়নি। এ নিয়ে বাসার সবার মন খারাপ। আমি করেছি কি, শুটিংয়ের মাঝখানের বিরতিতে হুট করে গাবতলীতে চলে গেয়েছি। আমার সঙ্গের লোকদের গরু বুঝিয়ে দিয়ে আমি আবারও শুটিংয়ে চলে এসেছি। পরিচালক বিষয়টি বুঝতেও পারেননি। আমি কখনোই হাটে ঘোরাঘুরি করে সময় নষ্ট করি না। কয়েকটা গরু দেখে দরদাম করে সংক্ষেপে কেনাকাটর কাজ সেরে ফেলি। সত্যিকার পক্ষে, কোরবানি ঈদে গরুর হাটে যাওয়ার মজাই আলাদা।

গরুটি হাত থেকে
ছুটে গিয়েছিল
হৃদয় খান, কণ্ঠশিল্পী
ছোটবেলায় প্রতি বছরই বাবার সঙ্গে গরুর হাটে যেতাম। ওই সময় ব্যাপারটা নেশার মতো ছিল। বড় বড় সাইজের গরুগুলোকে দেখে অবাক হতাম। ভাবতাম, এত বড় গরু হয় নাকি! গরু কিনে আমরা কয়েকজন মিলে বাসায় নিয়ে আসতাম। কিন্তু সব গরু তো আর শান্তশিষ্ট নয়। একবার বাসায় ফেরার পথে হাত থেকে ছুটে গিয়ে গরুটা দৌড় দিল। তখন তার পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে আমাদের অবস্থা কাহিল। এখন আর তেমন হাটে যাওয়া হয় না। কারণ অনেকেই চিনে ফেলেন। তখন গরু কিনব কি, নিজের কাছে অস্বস্তি লাগে। অনেকে আবার দাম বাড়িয়ে বলে। কী বিপদ! তাই আর যাওয়া হয় না। কিন্তু গরু কিনে বাসায় নিয়ে এলে আমার ভালো লাগে। কোরবানির আগ পর্যন্ত সবাই মিলি গরুটির পরিচর্যা করি।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close