পূর্ববর্তী সংবাদ
মুখের রোগ লিউকোপস্নাকিয়ালিউকোপস্নাকিয়া একটি ক্যান্সারপূর্ব রোগ যা জিহ্বার ওপর বা গালের অভ্যন্ত্মরে দেখা যায় অনবরণ প্রদাহজনিত কারণে। লিউকোপস্নাকিয়া রোগে মুখের অভ্যন্ত্মরে বা গালের মিউকাস মেমব্রেনে সাদা দাগের সৃষ্টি হয়...লিউকোপস্নাকিয়া একটি ক্যান্সারপূর্ব রোগ যা জিহ্বার ওপর বা গালের অভ্যন্ত্মরে দেখা যায় অনাবরণ প্রদাহজনিত কারণে। লিউকোপস্নাকিয়া রোগে মুখের অভ্যন্ত্মরে বা গালের মিউকাস মেমব্রেনে সাদা দাগের সৃষ্টি হয়। লিউকোপস্নাকিয়া রোগের নিশ্চিত কারণ এখনো জানা যায়নি। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় লিউকোপস্নাকিয়া ধূমপান অথবা দীর্ঘমেয়াদি মুখের জ্বালাপোড়া বা প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে। মুখের জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ বিভিন্নভাবে হতে পারে। সেগুলো হলো :
* মুখের অভ্যন্ত্মরে ধারালো দাঁতের অংশবিশেষ দীর্ঘদিন বিদ্যমান থাকলে।
* কৃত্রিম দাঁতের অমসৃণ অংশবিশেষ।
* ফিলিং বা ক্রাউনের অমসৃণ অংশবিশেষ।
* ধূমপান ও অন্যান্য টোবাকো সেবনের কারণে। সে ক্ষেত্রে এটিকে স্মোকারস কেরাটোসিস বলা হয়।
* দীর্ঘদিন পাইপ দিয়ে ধূমপান বা হেরোইন সেবন করলে।
* ঠোঁটের ওপর ক্রমাগত সূর্যের আলো পড়লে। হেয়ারি লিউকোপস্নাকিয়া সাধারণত বেশি দেখা যায় না। এটি দেখা যায় এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রাথমিক লক্ষণ। যাদের রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ভালোভাবে কাজ করছে না, তাদের ক্ষেত্রেই হেয়ারি লিউকোপস্নাকিয়া দেখে যেতে পারে। হেয়ারি লিউকোপস্নাকিয়া অ্যাপস্টেন বার ভাইরাস দ্বারাও হতে পারে। তবে হেয়ারি লিউকোপস্নাকিয়াতে ক্যান্সারের কোনো ঝুঁকি থাকে না।

লিউকোপস্নাকিয়ার স্থান
* অধিকাংশ ক্ষেত্রে জিহ্বার পাশে বা উপরে।
* গালের অভ্যন্ত্মরে দুই পাশে হতে পারে।
* মহিলাদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো যৌনাঙ্গের বহির্ভাগে লিউকোপস্নাকিয়া দেখা যেতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

লিউকোপস্নাকিয়ার রং
সাধারণত লিউকোপস্নাকিয়া আক্রান্ত্ম স্থানের রং সাদা বা ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে। কিন্তু মাঝেমধ্যে লাল বর্ণেরও হতে পারে, তখন একে ইরাইথ্রোপস্নাকিয়া বলা হয়।

লিউকোপস্নাকিয়ার জটিলতা
* ক্রমাগত অস্বস্ত্মিকর অবস্থায়।
* সংক্রমণস্থলের অবনতি।
* ওরাল ক্যান্সার।

লিউকোপস্নাকিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষা
লিউকোপস্নাকিয়ার সাদা দাগ ধীরে ধীরে বিস্ত্মার লাভ করে। এতে সপ্তাহ থেকে মাস পর্যন্ত্ম সময় লেগে যেতে পারে। লিউকোপস্নাকিয়ার সংক্রমণ স্থান ধীরে ধীরে অমসৃণ হতে থাকে এবং স্পর্শ করলে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। মসলাযুক্ত খাবার বা ঝাল খাবার খেলে জ্বালাপোড়া হতে পারে। লিউকোপস্নাকিয়া নিশ্চিত করতে হরে বায়োপসি বা টিসু্য পরীক্ষা করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে ওরাল ক্যান্সার হলো কিনা তাও নির্ণয় করা যায়।
লিউকোপস্নাকিয়ার চিকিৎসা : লিউকোপস্নাকিয়া রোগের চিকিৎসার আগে যে সব কারণে লিউকোপস্নাকিয়া হতে পারে সেগুলো বর্জন করতে হবে। ধূমপান, পান-সুপারি, অ্যালকোহল সেবন বর্জন করতে হবে। ক্রমাগত প্রদাহজনিত কোনো কারণ যদি থাকে যেমন ধারালো দাঁতের অংশবিশেষ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা করতে হবে। লিউকোপস্নাকিয়ার সংক্রমণ স্থান সার্জিক্যালি অপসারণ করা জরম্নরি হতে পারে। সাধারণত লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার মাধ্যমে সংক্রমণ স্থান সার্জারির মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ই লিউকোপস্নাকিয়ার সংক্রমণ স্থানকে সংকুচিত করে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে রোগীকে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্ব্বাবধানে থাকতে হবে। ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ই একটি সুনির্দিষ্ট মাত্রায় বিশেষ পদ্ধতিতে সেবন করতে হবে। অন্যথায় ভিটামিন দীর্ঘদিন সেবন করলেও কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যাবে না। ভিটামিন প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত বা গৎ বাধা মলমের পরিবর্তে কিছু ওষুধ বিশেষ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করলে সুফল পাওয়া যায়। মনে রাখতে হবে মুখস্থ বা প্রচলিত চিকিৎসার অনেক ক্ষেত্রেই লিউকোপস্নাকিয়ার চিকিৎসায় নূ্যনতম অবদান রাখে না ভালো হওয়ার ক্ষেত্রে। যেহেতু লিউকোপস্নাকিয়ার শতকরা ৩ ভাগ ক্যান্সারের দিকে পরিবর্তিত হয়ে থাকে সেহেতু লিউকোপস্নাকিয়া চিকিৎসায় সবার আরও বেশি সচেতন ও যত্নবান হওয়া বাঞ্ছনীয়।
য় সূত্র : ইন্টারনেট
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close