বে ড়া নোকফি হাউসের আড্ডায়...সুমন্ত্ম গুপ্ত ঘড়ির কাঁটা দ্রম্নতগতিতে ছুটে চলছে, আমরা ছুটে চলছি মান্না দের সেই বিখ্যাত কফি হাউসের দিকে। আজ কলকাতা ভ্রমণের দ্বিতীয় দিবস সঙ্গে মা আর আমার বোন রোশনি। সারাদিন ধরে কলকাতার আকাশের মন ভালো নেই, তাই কিছু সময় পর পর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আমরা মামার বি টি রোডের বাসা থেকে বের হয়ে দাঁড়িয়ে আছি ট্যাক্সির জন্য। আমি রোশনিকে বললাম ট্রামের নাম শুনেছি অনেক কোন দিকে ট্রাম চলে, আমার কথা শুনেই ও বলল ট্রামে চড়বে, তাহলে চলো বাসে উঠি হাতি বাগান থেকে ট্রামে উঠতে হবে। আমরা বাসে উঠলাম। পরে বাস থেকে নামলে রোশনি বলল এখানে কোনো ট্যাক্সি পাওয়া যায় না। অগত্যা আমরা পদব্রজে রওনা দিলাম সম্মুখ দিকে। একদিকে ভালোই হলো কলকাতা শহরটা ভালোভাবে দেখার সুযোগ মিলল। পুরনো দিনের সব বাড়ি ঘর কোনো কোনো বাড়িতে বট বৃক্ষ বেঁধেছে তার বাসা। পথে দেখা মিলল রাজা কৃষ্টদাস লাহার বাড়ি। শত বছর পুরনো আমলের দোতলার বাড়ি এখানে দুর্গাপূজা বিখ্যাত। পূজার সময় এখানে ঢোকা যায় অন্য সময় প্রবেশ করতে হলে আগে থেকে অনুমতি নিতে হয়। অগত্যা আমরা ছুটে চললাম আমাদের পথে। বেশ কিছুটা পথ অতিক্রম করার পর চোখে পড়লো সব বইয়ের দোকান ঠিক আমাদের আজিজ সুপার মার্কেটের মতো। মা বলল এটা কলেজ স্ট্রিট এখানে সব ধরনের বই পাওয়া যায়। দাদু এখান থেকে মায়ের জন্য অ্যাকাউন্টিং বই কিনে নিয়ে যেত। রোশনি বলল, এই কলেজ স্ট্রিটে স্কুল-কলেজের সব ছাত্রছাত্রীর আনাগোনা থাকে সকাল থেকে রাত অবধি। আমি আবার একটি বইয়ের দোকানে গিয়ে কয়েকটা আবৃত্তির বই কিনলাম। রাস্ত্মার বাঁ পাশে মোর নিতেই চোখে পড়ল সেই কফি হাউস। ওঘউওঅঘ ঈঙঋঋঊঊ ঐঙটঝঊ, ঈঙখখঊএঊ ঝঞজঊঊঞ অখইঊজঞ ঐঅখখ. দোতলায় উঠতে প্রথমেই চোখে পড়ল সামনে টানানো 'কফি হাউস' সাইনবোর্ডটা। আর আট-দশটা বাঙালি ধাঁচের হোটেল রেস্টুরেন্টের মতোই কলকাতা কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউসটি। প্রায় বিকেলের দিকে প্রবেশ করলাম। ঢুকেই যেন প্রাণটা জুড়িয়ে গেলো। পুরাতন এক হলরম্নম। পঞ্চাশ-ষাটটার মতো টেবিল সারি সারি সাজানো। দেয়ালে সারি সারি সাজানো ভারতবর্ষের বিখ্যাত সব শিল্পীর চিত্রকর্ম। ঢোকার সময় ভেবেছিলাম হয়তো খালিই পাবো; কিন্তু এই বিকেলে অনেক ভিড় দেখেই বুঝলাম, এর নাম কেন এত বেশি শুনেছি। আমরা ওপরে তলায় উঠলাম এখানে ও প্রায় সব টেবিল মানুষে পরিপূর্ণ। কোনার একটা টেবিল খালি দেখতে পেয়ে আমরা গিয়ে বসলাম। কফি হাউসে বিশেষ করে চোখে পড়ল প্রবীণদের আনাগোনা। আমাদের দেশে এ ধরনের দোকানে সাধারণত কলেজপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড়ই থাকে বেশি। সেখানে নবীন-প্রবীণদের মিশ্রণে জমজমাট আড্ডা দেখে বেশ ভালোই লাগলো। বন্ধু নিখিলেশ সন্যাল, সুজাতা, মইদুল, গোয়ানিস ডি সুজা, অমল, রমা রায়কে নিয়ে গাওয়া সেই গানের কিংবদন্ত্মিরা আজ আর নেই। মান্না দেও চলে গেছেন পৃথিবীর মায়া ছেড়ে, ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবরে; কিন্তু এখনো ইতিহাসের সাক্ষী হয়েই দাঁড়িয়ে আছে তার বিখ্যাত সেই কফি হাউজ। কোণার দিকের সেই টেবিলের চারদিকে সাজানো চেয়ারে বসলাম আমরা। আবারও মনে পড়লো, 'কতজন এলোগেলো, কতজনই আসবে, কফি হাউসটা আজও থেকে যায়।' আমরাও তো সেই 'এলোগেলো'দের দলে। আসলাম, দেখলাম এরপর চলে যাবো। হয়তো আর কখনও আসা হবে না এই কফি হাউসে। একটু পরই সাদা পোশাকের শেরওয়ানি ও মাথায় পাগড়ি পরা ষাটোর্ধ একজন বেয়ারা আসলেন খাবারের মেনু্য নিয়ে। আমরা মাটন আফগান আর কোল্ড কফির অর্ডার দিলাম। পুরো ওয়ালজুড়ে বিভিন্ন গুনি মানুষের হাতে আঁকা পেইন্টিংস। ওপরের তলা থেকে নিচের তালার মানুষের প্রাণ চাঞ্চল্য দেখা যায়। সামনে কবি গুরম্ন রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের বিশাল পেইন্টিংস। আমি সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যকে স্মৃতি হিসেবে রাখতে একের পর এক ছবি তুলে গেলাম। কিছুক্ষণ পরেই চলে এলো আমাদের মাটন আফগান আর কোল্ড কফির। মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষ বসু, কবি গুরম্ন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, সমরেশ মজুমদার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, বাঙালি অভিনেতা রম্নদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতো কত বিখ্যাত ব্যক্তিরা আড্ডা দিয়েছেন এই কফি হাউসে!

 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close