ভালোবাসা হোক হমানুষের জন্য মানুষেরডা. তানজিনা আল-মিজান আজকাল ভালোবাসা মানে আর্চিস গ্যালারি। ভালোবাসা মানে কান্নাভেজা চোখ, ভালোবাসা মানে অবিরাম চলার সুখ- গুনগুন করে গাইতে গাইতে হঠাৎ মনে হলো আসলে ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ এবং তার রং কী?
ভালোবাসা মানে কি শুধুই অবিরাম ছুটে চলা নাকি, সেই চির আকাঙ্ক্ষিত গন্ত্মব্যে পৌঁছানো? ভালোবাসা মানে কান্না ভেজা চোখ, আর্চিস গ্যালারি নাকি হৃদয়ে কম্পন জাগানো সেই প্রেমিকার অট্টহাসি আর কুঁড়ে ঘরে টিনের ওপর বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ শোনা? ভালোবাসা মানে লাল-নীল রং নাকি সাদাকালো ফ্রেমে বাঁধানো হারানো প্রিয় মানুষের স্মৃতি?
এরকম সহস্র প্রশ্নরাশির অসীম সাগরে আমার মন মাঝি যখন বৈঠা ঠেলছে ঠিক তখনই মনে হয়েছে ভালোবাসা এমন এক অনুভূতি-যার সীমানা অসীম, এর গ-িকে পেরনো হয়তো অসম্ভব। এই ভালোবাসাকে কোন দিন, সময় অথবা কালের বেড়াজালে ধরে রাখা যাবে না। এটি সময়ের সঙ্গে, সম্পর্কের সঙ্গে চিরবহমান। আর এরই মাঝে শতশত প্রশ্নের জবাবে পেয়ে গেলাম হাজার হাজার উত্তর।
ভালোবাসা মানে সন্ত্মানের জন্য বাবা-মার চিন্ত্মিত মুখ/সদ্যজাত শিশুর কান্নার সুখ/ ভালোবাসা মানে/ অফিস ফেরত বাবার পা জাপটে ধরা ছোট্ট শিশু/ভালোবাসা মানে ক্রুশে বিদ্ধ যিশু/ ভালোবাসা মানে ভাইফোঁটা/ ঈদের পবিত্রতার আলিঙ্গন/ ভালোবাসা মানে হাজারো ব্যস্ত্মতার মাঝে কল্পনায় প্রিয়জনের মুখ/নিজেকে হারিয়ে প্রিয়জনকে জিতিয়ে দেবার সুখ/ভালোবাসা মানে প্রিয় মানুষের জন্য অসীম আগ্রহী অপেক্ষার প্রহর গোনা/ভালোবাসা মানে দুজনে দুজনায় হারিয়ে যাওয়া/ভালোবাসা মানে ...
যে ভালোবাসাকে নিয়ে মনে এত প্রশ্ন, উত্তর ও ছন্দ সেই ভালোবাসা দিবসটি (ঠধষবহঃরহবং উধু) সারাবিশ্বে পালিত হয় ১৪ ফেব্রম্নয়ারি। আমাদের দেশেও এই দিবসটি বর্তমানে অনেক জাঁকজমকভাবে পালিত হচ্ছে তরম্নণ সমাজে। সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের (ঝধরহঃ ঠধষবহঃরহব) নামানুসারে এই দিনটির নামকরণ করা হয়।
'নিঃসঙ্গ মানুষই আদর্শ যোদ্ধা' এই কঠিন মর্মে বিশ্বাসী রাজা ক্লদিয়াস আনুমানিক ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টিও সমাজে বিবাহ প্রথাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সেই সময়ে সাধু ভ্যালেন্টাইন উপলব্ধি করেন, এই প্রথা সঠিক নয় এবং তিনি এই প্রথার বিরোধিতা করেন। তারপর তিনি সন্ত্মর্পণে খ্রিস্টীয় সমাজে বিবাহ প্রথা চালু করেন। অল্প কিছু সময় পরেই রাজা ক্লদিয়াস, সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের কার্যকারিতা জানতে পারেন এবং তাকে বন্দি করেন। অবশেষে রাজা ক্লদিয়াস সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃতু্য দ-াদেশ দেন। ভ্যালেন্টাইনের মৃতু্য হলেও তার অমর চিন্ত্মাচেতনার জন্য ভালোবাসার অনুরাগী মানুষ তাকে চির অমর করে রেখেছেন, ভালোবাসা দিবসটি সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে নামকরণ করে।
এ বছর ফাল্গুনের দ্বিতীয় তারিখে পড়েছে ভালোবাসা দিবস। ফাল্গুনের বৈচিত্র্যময় রং আর ভালোবাসা রং মিলেমিশে যেন একাকার। এই রং-এ অবগাহন করে প্রতিটি মানুষ যেন রঙিন হয়ে উঠেছে। মনে আনন্দের ফল্গুধারা। দক্ষিনা বাতাস যেন কপালের চুলগুলোকে দোলা দিয়ে যাচ্ছে। প্রিয়জনকে ঠিক কি উপহার দিয়ে মনের সঠিক অবস্থা বোঝনো যাবে আর সেই সঙ্গে প্রিয়জনকে আনন্দও দেয়া যাবে মন যেন সেই চিন্ত্মাতেই ব্যাকুল। আর মানুষের মনের এই খোরাক যেটাতেই উপহার, ফুল আর কার্ডের দোকানগুলো বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসেছে।
ভালোবাসা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় ভালোবাসার কথা নতুন করে বলতে। এই ভালোবাসা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধুবান্ধব এক কথায় সকল সম্পর্কের জন্যই এই ভালোবাসা। এমনকি সম্পর্কের বাইরেও অর্থাৎ মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা।
সব কলহ, হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানিকে দূরে ঠেলে দিয়ে মানুষ যদি উপহার সামগ্রীর দোকানগুলোর মতো ভালোবাসার পসরা সাজাতে পারে তবেই হবে ভালোবাসা দিবসের অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইনস ডের সার্থকতা।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close