ভালোবাসি, ভালোবাসিরাশেদুল হায়দার ভোরের সকাল। আজকের সকালটা শান্ত্ম, নীরব। রাস্ত্মা ঘাটে তেমন কোনো মানুষ নেই। সারারাত গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে রাস্ত্মায় চিটচিটে পানি। হিমহিম পুবালি বাতাস। শীতশীত ভাব। সকাল ৭টায় ঢাকার ট্রেন।
দু'পাহাড়ের কোলঘেঁষে প্রতিদিনের মতো আজকেও সূর্য উঠেছে। আজকে সূর্যটা অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশিই লাল। মাঝে মাঝে সূর্যের আলো গাছের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে। যেন আলো-ছায়ার লুকোচুরি। এসি কম্পার্টমেন্টের শীতলতার মাঝে কাচের জানালা ভেদ করে সূর্যের সোনালি রশ্মি মুখে এসে পড়ছে।
আজকের ট্রেন যাত্রা আমার কাছে একটু অন্যরকম, একটু ভিন্ন। পাশের সিটে বসে থাকা কেউ একজন প্রতিবারের মতো কেউ নয়। মাত্র দু'দিনের পরিচয়। ঘণ্টার হিসেবে তার থেকেও কম। দু'জনের হাতেই সদ্য বিয়ের টকটকে মেহেদির রঙ। আমার হাতে ঘড়ি। ওর হাতে চুরি, আঙ্গুলে এনগেইজমেন্টের রিং। দু'জনের হাতে হাত। চোখে চোখ। তেমন কোনো কথা তখনো শুরম্ন হয়নি। একান্ত্ম কথাগুলো বলার লজ্জা ভাব এখনো কাটেনি। সলজ্জ হাসিতে মুখ দেখা দেখি এতটুকুই যা। মাঝে মাঝে ইশারা ইঙ্গিতে আমাকে কিছু একটা বলে। আবার মাঝে মাঝে চিমটি কাটছে। ওর চিমটিতে অনেক ব্যথা। তারপরেও চিমটি খেতে আমার অনেক ভালো লাগছে।
আমার কাঁধে ওর মাথা। ওর কষ্ট হবে ভেবে আমি তেমন নড়ছি না। ইয়ার ফোনের দু'প্রান্ত্ম দু'জনের কানে। দু'জনের পছন্দের গানগুলো বাজছে। গানের রোমান্টিক কথাগুলোতে 'ও' বারবার চিমটি কাটছে। আমিও মুচকি হেসে বাহিরে তাকিয়ে আছি। ওয়েটার এসে বলল, চা দিব? এক কাপ চা নিয়ে আমি অর্ধেক খেয়ে বাকি টুকু ওকে দিলাম। কাপের যেদিকে আমি চুমুক দিয়েছিলাম, কাপ ঘুরিয়ে সেও ঠিক ওইদিকে ঠোঁট লাগিয়ে খাচ্ছে। এখনো দু'জনে নিঃশব্দে আছি।
আস্ত্মে আস্ত্মে ট্রেনের গতি বেড়ে যাচ্ছে। ঝিকঝিক শব্দে চলছে ট্রেন। দূর থেকে হুইসেল দেয়া অন্য ট্রেনের শব্দ। পাহাড়, জঙ্গল আর সবুজ ধানক্ষেত পাড়ি দিয়ে সামনে যাচ্ছে ট্রেন। সঙ্গে যাচ্ছে আমাদের নিঃশব্দ ভালোবাসা। বড় কোনো সেতু পার হতে ঝনঝন শব্দে সে আরও শক্ত করে আমার হাত ধরছে। হাত ধরে সামনে যাওয়ার মাঝেও পেছনে যে কাউকে রেখে যাচ্ছে তার একটা রেশ রয়েছে। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কান্না জলে যে বিদায় এই হাত ধরার মাঝে তার একটা নির্ভরতা রয়েছে। প্রিয় মা-বাবা ছেড়ে আসার কষ্ট হয়তো আমার কাঁধে মাথা রেখে ভুলতে চাচ্ছে। হয়তো প্রিয় বন্ধু-বান্ধবদের ছেড়ে আসার কষ্টকে মুছে আমার চোখে তাকিয়ে নতুন কোন প্রত্যাশার স্বপ্ন বুনছে।
দূরে এক পাহাড় দেখিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার পাহাড় ভালো লাগে নাকি নদী? বলল, পাহাড়। আমি বললাম, কেন? 'ও' বলল পাহাড়ে উঠলে দুঃখগুলো হালকা হয় আর নিজেকে আকাশের কাছাকাছি মনে হয়।
আমাকেও পাল্টা প্রশ্ন করল, তোমার? পাহাড় না নদী?
আমি বললাম নদী। কেন? কারণ নদীর ঢেউয়ের মাঝে একটা সুর আছে আর নদীকে দুঃখের কথা বলা যাই। আমাকে বলল, 'আমাকে তোমার দুঃখের কথা বলবে?'
আমি বললাম, তাহলে তো তোমাকে আমার নদী হতে হবে। হবে?
তারপর কাঁধ থেকে মাথা তুলে আমার দিকে তাকাল। বলল, হব তো। এরপর একটু হাসলো। আমি বললাম তাহলে তুমি হাসতেও জানো? এরপর এমন ভাবে হাসলো, যার জন্য আমি এতক্ষণ অপেক্ষা করছিলাম।
এমন সময় ইয়ার ফোনে গান বাজছে।
'অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন।
পেলাম খুঁজে এ ভুবনে আমার আপনজন।
তুমি বুকে টেনে নাও না প্রিয় আমাকে।
আমি ভালোবাসি-ভালোবাসি-ভালোবাসি তোমাকে।'
জিজ্ঞাসা করলাম, ভালোবাস আমাকে?
বলল, ভালোবাসি।
বললাম সত্যিই?
বলল, সত্যি, সত্যি, সত্যিই ভালোবাসি।

সদস্য
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
গাজীপুর
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close