পূর্ববর্তী সংবাদ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনমঈন খানে আস্থা বিএনপির আ'লীগের প্রার্থী আনোয়ারম্নলএসএম শফি পলাশ যতই দিন ঘনিয়ে আসছে পলাশে নির্বাচনী হাওয়া ততই উওপ্ত হয়ে উঠছে। গ্রামগঞ্জে, হাটে-ঘাটে, চা-স্টলেও চলছে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা। আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে নরসিংদী-২ পলাশ নির্বাচনী এলাকায় সর্বত্র চলছে পাওয়া না পাওয়া আর ভালো-মন্দের হিসাব-নিকাশ। দীর্ঘদিন পর বিএনপি হাতছাড়া হওয়া আসনটি ফিরে পেতে বিএনপি এখন মরিয়া। নরসিংদী-২ আসনটি পলাশ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা ও নরসিংদী সদর থানার ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, গত নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচন আরও বেশি জাঁকজমকপূর্ণ হবে। পলাশের মাটি বিএনপির ঘাঁটি 'এক সময় এ কথা প্রচলন থাকলেও বর্তমানে তা রূপ নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রের মতো গুরম্নত্বপূর্ণ পদগুলো ধরে রাখতে না পাড়ায় অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে উপজেলা বিএনপি। এছাড়া সাংগঠনিক দুর্বলতায় অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশে চলছে তাদের কার্যক্রম। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলকে শক্তিশালী করে শক্ত অবস্থানে আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ : পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ডা. আনোয়ারম্নল আশরাফ খান দিলিপ ২০০৪ সালে উপজেলা সম্মেলনের মাধ্যমে প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দুর্বল আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও একাধিকবারের মন্ত্রী বর্তমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে পরাজিত করেন। সেই সাথে পলাশ আসনে প্রথম নৌকা প্রতীক বিজয় অর্জন করে। দীর্ঘ ৫ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি দলকে আরও মজবুত ও শক্তিশালী রূপ দিয়েছেন। এরপর দলীয় প্রার্থী দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র এবং সবকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের আসনগুলো নির্বাচনের মাধ্যমে দখলে নেয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীকে জাসদ নেতা জাহিদুল কবিরকে মনোনয়ন দিলে অনেকটা বিভ্রান্ত্মির মধ্যে পড়ে উপজেলার তৃণমূল আওয়ামী লীগ। পরে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার জন্য সভাপতির ছোট ভাই কামরম্নল আশরাফ খান পোটন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তৃণমূল আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরম্নল আশরাফ খান পোটন মহাজোটের প্রার্থীকে পরাজিত করে দোয়াত কলম মার্কায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ফলে রাজ্য এবং রাজত্ব দুটিই পেয়ে যায় আওয়ামী লীগ। গত ২০১৪ সালে ১৪ ডিসেম্বর সর্বশেষ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে পুনরায় ডা. আনোয়ারম্নল আশরাফ খান দিলিপকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া বর্তমান সংসদ সদস্য কামরম্নল আশরাফ খান পোটনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করে ৬৭ বিশিষ্টি কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে, কামরম্নল আশরাফ খান পোটন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করার ফলে আওয়ামী লীগের নতুন উন্নয়নের ধারা সৃষ্টি হয়েছে। তার প্রচেষ্টায় পলাশে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশালে চার লেন সড়কের একনেকে ৮৬৫ কোটি টাকা অনুমোদন পেয়েছে। স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্ত, সরকারিকরণ, রাস্ত্মাঘাট, এবং শীতলক্ষ্ণা নদীর ওপর ব্রীজ নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়নের ফলে আওয়ামী লীগের জনমত শীর্ষে রয়েছে। নির্বাচনে এসব বিষয় বিশেষভাবে প্রভাব ফেলবে বলে অভিজ্ঞমহল ধারণা করছেন। পলাশের সাবেক এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আনোয়ারম্নল আশরাফ খান দিলিপ এবং বর্তমান এমপি কামরম্নল আশরাফ খান পোটন দুই ভাই মিলে গত সাড়ে ৮ বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করে এ আসনকে একটি উন্নয়নের মডেলে রূপান্ত্মর করেছেন। তাদের সমর্থকদের দাবি- পলাশ আসন এক সময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও এখন তা আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। তাই ডা. আনোয়ারম্নল আশরাফ খান দিলিপ এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। সে হিসেবে এলাকায় তিনি প্রায় প্রতিদিন ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপরদিকে, পলাশ একটি শিল্প এলাকা। এখানে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বিভিন্ন কলকারখানায় চাকরি করেন। এক সময় এ এলাকায় জাতীয় পার্টির এমপি ছিলেন এবং পলাশে জাতীয় পার্টির সমর্থিত ভোটাররা একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির জোট হওয়ার ফলে জাতীয় পার্টির সব ভোটই যায় আওয়ামী লীগের বাক্সে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাথে পলাশের জাতীয় পার্টির সম্পর্ক খুব গভীর। পলাশ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন মৃধা জানান, তাদের ৫০ দলীয় জোট করার কথা। পার্টির প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত্ম নিবেন। তারা চান পলাশের আসনটিতে দল থেকে তাদের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচন করম্নক। ওনি না করলে এ আসন থেকে তিনি মনোনয়নের নেয়ার প্রত্যাশী। তবে আওয়ামী লীগের সাথে তাদের সম্পর্ক ভালো।
পলাশ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সৈয়দ জাবেদ হোসেন জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ২০০৮ সালে প্রথম তারা সংসদ সদস্যের ক্ষমতা অর্জন করেন। সভাপতির অত্যন্ত্ম আন্ত্মরিকতা, সাহসিকতা ও দক্ষতার কারণেই বিএনপির মতো একটি শক্তিশালী দলের একজন মন্ত্রীকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করতে পেরেছেন। তারা আশা করেন, ঐক্যবদ্ধের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনেও দল থেকে এমপি নির্বাচিত করে সভানেত্রীকে উপহার দেবেন। ঘোড়াশালের পৌর মেয়র আলহাজ শরীফুল হক জানান, বর্তমানে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরম্ন করে থানা পর্যায়ের অবস্থান শক্তিশালী ও সুদৃঢ় রয়েছে। এবং আগামী দিন দলের এ অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করবেন। জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহফুজুল হক টিপু বলেন, পলাশের মাটি এখন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিণত হয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে ডা. আনোয়ারম্নল আশরাফ খান দিলিপকে দলীয় মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে জয় লাভ করবেন। নরসিংদী ২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ কামরম্নল আশরাফ খান পোটন বলেন, তার প্রত্যাশা আগামী সংসদ নির্বাচনে তার বড় ভাই সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ ডা. আনোয়ারম্নল আশরাফ খান দিলিপ দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করবেন।
এদিকে, জেলার অনেক নেতাকর্মী চাচ্ছেন নরসিংদী ২ আসনের সংসদ সদস্য কামরম্নল আশরাফ খান পোটন নরসিংদীর অন্যকোনো আসন থেকে নির্বাচন করম্নক। তবে এ ব্যাপারে তিনি বলেন, নেত্রীর সিদ্ধান্ত্মই তাদের সিদ্ধান্ত্ম। নেত্রী চাইলে তাদের দুই ভাইকেই পৃথক পৃথক আসন থেকে মনোনয়ন দিতে পারেন।
বিএনপি : ২০০৮ সালের নির্বাচনে পলাশে বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে প্রথম পরাজিত হওয়ার পর নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ে। পাশাপাশি অভ্যন্ত্মরীণ কোন্দলে অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশ পার করছে উপজেলা বিএনপি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ড. আবদুল মঈন খান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ায় তাকে অনেকটা সময় ঢাকায় অবস্থান করতে হয়। সেই সুযোগে উপজেলা বিএনপির অধিকাংশ নেতা দলের যথাযথ দায়িত্ব পালন না করে মামলা-হামলা থেকে বাঁচতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে লিয়াজোঁ করে যাচ্ছেন। বিএনপি ও পৌর বিএনপির কয়েকজন নেতা ছাড়া বাকিদের কোনো দলীয় কার্যক্রম দেখা যায় না।
জানা যায়, পলাশ আঞ্চলিক শ্রমিক দলের নামে মাত্র একটি কমিটি রয়েছে। যার কোনো কার্যক্রম নেই। ৯১, ৯৬, ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে জয়লাভ করেন বিএনপির বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। এবারও বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে ড. মঈন খানই মাঠে রয়েছেন। বিগত সময় বিশদলীয় জোটের শরিকদল জামায়াতে ইসলামীর পলাশের নেতাকর্মীদের কোনো প্রকার সুযোগ-সুবিধা না দেয়ার ফলে পলাশের বিএনপির সাথে জামায়াতের দূরত্ব সৃষ্টি হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফলে একাদশ নির্বাচনেও বিএনপির ওপর এর প্রভাব পড়বে।
এসব বিষয়ে পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এরফান আলী জানান, পলাশে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তারা এ আসন পুনরম্নদ্ধার করবেন নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। চারবার এমপি ও তিনবারের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানই হবেন আগামী সংসদের এমপি। তারা শুধু একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চান।
সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক জানান, দল সাংগঠনিকভাবে অনেকটা শক্তিশালী রয়েছে। তাদের অধিকাংশ কমিটিই গঠন করা হয়েছে। কিছু কমিটি রয়েছে তা অচিরেই গঠন করা হবে। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলম মোলস্না জানান, পলাশের মানুষ এখনো বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। পলাশে এখনো বিএনপির ঘাঁটি রয়েছে। শুধু একটি নিরেপেক্ষ নির্বাচন দিলেই তার প্রমাণ মিলবে।
এদিকে, আওয়ামী লীগের প্রতীক নিয়ে ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ- ইনু) নরসিংদী জেলার সভাপতি জায়েদুল কবির ও জোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি তার বাড়িতে জাসদের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রায় সপ্তাহেই নির্বাচনী মিটিং করে যাচ্ছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close