কৃষি বাজেটবরাদ্দ ও ভর্তুকি দুই-ই বেড়েছেকৃষিবিদ এম আব্দুল মোমিন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অব্যাহত রাখতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্ত্মাবিত বাজেটে কৃষি খাতে আগের বছরের চেয়ে ৩ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন বছরের জন্য ১৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্ত্মাব করেন অর্থমন্ত্রী। যা মোট বাজেটের ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আগের বছরের সংশোধিত বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। যা ছিল মোট বাজেটের ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
কৃষিতে ভর্তুকি কমাতে দাতা সংস্থা ও দেশের কয়েকটি বিদেশি সাহায্য নির্ভর এনজিও চাপ দিলেও সরকার কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকের স্বার্থে সেটা আমলে নেয়নি। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে কৃষি খাতে বরাদ্দের পাশাপাশি ভর্তুকিও বাড়ানোর প্রস্ত্মাব করা হয়েছে। বৈরী প্রকৃতি ও আন্ত্মর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারের ঊর্ধ্বমুখী মূল্য বিবেচনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্ত্মাবিত বাজেটে ভর্তুকি ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্ত্মাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে যা ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। এ বছর ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।
খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বাজেটে কৃষি খাতকে বেশি গুরম্নত্ব দেয়া হয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অব্যাহত ও সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এ খাতকে গুরম্নত্ব দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। যা ছিল মোট বাজেটের ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্ত্মাবিত বাজেটে কৃষি খাতে মোট ১৩ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্ত্মাব করা হয়েছিল। সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী কৃষি খাতের বরাদ্দ কমে শেষ পর্যন্ত্ম ছিল ১০ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকির বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। এবার প্রস্ত্মাব করা হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা।
বরাদ্দের হিসেবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কৃষিখাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ৬ দশমিক ৭ ভাগ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬ দশমিক ১ ভাগ আর আগামী অর্থবছরের প্রস্ত্মাবিত বাজেট এর হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭ ভাগ। বরাদ্দের হার কমলেও বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় বেড়েছে ৫ হাজার ২২২ কোটি টাকা। এবারের প্রস্ত্মাবিত বাজেটে উন্নয়ন-অনুন্নয়ন মিলিয়ে বরাদ্দ ১৭ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। আর প্রণোদনা আছে গতবারের মতোই ৯ হাজার কোটি টাকা। এবারও শূন্য শুল্কহার অব্যাহত রাখা হয়েছে সার, বীজ, কীটনাশক আমদানিতে। মৎস্য, পোলট্রি ও দুগ্ধ শিল্পে খাদ্য সামগ্রী ও উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতি বহাল থাকছে। প্রস্ত্মাবিত বাজেটে উলেস্নখ করা হয়েছে, পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে ফসলের ২২টি নতুন জাত ও ২১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা।
কৃষির জন্য অনুকূল সেচ ও অবকাঠামো সুবিধা বাড়ানোর অংশ হিসেবে বেশকিছু নতুন পদক্ষেপের প্রস্ত্মাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বলা হয়েছে হাওরের জন্য পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগের কথা। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, কৃষিখাতে সরকারের চলমান নীতি কৌশলের কার্যকরিতা পরীক্ষিত। আবাদযোগ্য জমি কমলেও ১০ বছরে কৃষিখাতে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
বাজেটে আরেকটি ইতিবাচক দিক হচ্ছে এবার খাদ্যশস্য মজুদ ক্ষমতা ২৭ লাখ টনে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মন্ত্রী বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের সব মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আপদকালীন পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রাখা। দেশে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের ধারণক্ষমতা বর্তমানে ২১ লাখ ২০ হাজার টন। ২০২০ সালের মধ্যে ধারণক্ষমতা ২৭ লাখ টনে উন্নীত করার জন্য আরও ছয় লাখ ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার আধুনিক খাদ্য গুদাম বা সাইল নির্মাণ করা হচ্ছে।'
এর আগে গত ২ জুন, শনিবার অর্থমন্ত্রীর বাসভবনে বেসরকারি টেলিভিশন 'চ্যানেল আই'-এর 'হৃদয়ে মাটি ও মানুষ' আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা 'কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট'-এর পক্ষ থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৩৭ দফা সুপারিশমালা তুলে দেয়া হয়েছিল। এবারের সুপারিশমালায় মূল কৃষির জন্য ১৩ দফা, পোলট্রি শিল্পের জন্য পাঁচ দফা, মৎস্য খাতের জন্য ১১ দফা এবং প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ শিল্পের জন্য আট দফা প্রস্ত্মাব করা হয়েছিল। সুপারিশমালা গ্রহণ করে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, 'জাতীয় বাজেটকে সাধারণ মানুষের কাছে আকৃষ্ট করে তোলার ক্ষেত্রে শাইখ সিরাজের 'কৃষি বাজেট, কৃষকের বাজেট' কার্যক্রমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।'
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close