রাঙামাটির নানিয়ারচরে পাহাড়ধসে নিহত ১১ঢলে খাগড়াছড়ি বিচ্ছিন্নরাঙামাটি প্রতিনিধি পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে খাগড়াছড়ি শহরের অধিকাংশ এলাকা। ছবিটি মঙ্গলবার তোলা -যাযাদিটানা বৃষ্টির মধ্যে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে ১১ জনের মৃতু্যর খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এক বছর আগে যেদিনে রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে শতাধিক মানুষ মারা গিয়েছিল, সেই দিনটিতে একই ঘটনা ঘটল।
কোয়ালিটি চাকমা বলেন, উপজেলার বড়পুল পাড়ায় দুই পরিবারের চারজন, ধর্মচরণ কার্বারি পাড়ায় একই পরিবারের চারজন, হাতিমারা এলাকায় দুইজন এবং গিলাছড়ি ইউনিয়নের মনতলা এলাকায় একজন মারা গেছেন।
নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুলস্নাহ আল মামুন ও নানিয়ারচর থানার ওসি আব্দুল লতিফ পাহাড় ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কতজন মারা গেছেন তা জানাতে পারেননি।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, তারা আটজনের মৃতু্যর খবর শুনেছেন।
তিনি বলেন, পাহাড় ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক না থাকায় ইউএনও ওই এলাকাগুলোতে এখনও পৌঁছাতে পারেনি। ফলে নিহত
হবা নিখোঁজের সঠিক তথ্য পেতে কিছুটা সময় লাগছে।
গত বছরের ভয়াবহ ধসে ১২০ জন মারা গেলেও নানিয়ারচরে কেউ মারা যায়নি। ওই ধসের পর জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের যে তালিকা করেছেন, তাতে নানিয়ারচর উপজেলার চার ইউনিয়নে ২৩৯ পরিবারের এক হাজার ১১১ জনকে রাখা হয়। ////////////

পাহাড়ের ভাঁজে মৃতু্যকূপ
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছেন কয়েক হাজার পরিবার। টানা চারদিনের বর্ষণের কারণে ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দারা আতঙ্কে ভুগছেন। মাটিরাঙ্গা থেকে খাগড়াছড়ি প্রধান শহরের প্রবেশ পথে ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য কাটা পাহাড়গুলো এবার ধসের কারণ হতে পারে। আর বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না সড়ক বিভাগ। সতর্ক আছে জেলা প্রশাসন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, টানা বর্ষণের কারণে খাগড়াছড়ি শহরের মোলস্নাপাড়া, সবুজবাগ, শালবন, ধর্মঘর মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁক নিয়ে বসবাস করছে কয়েক হাজার মানুষ। জেলা সদরের বিভিন্ন গ্রাম ও জেলার মানিকছড়ি, দীঘিনালা, রামগড়, মহালছড়ি, লক্ষ্ণীছড়ি উপজেলায় অনেকগুলো পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবার পাহাড়ের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বা পাহাড়ের পাদদেশে বাড়িঘর নির্মাণ করলেও প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
অপরদিকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা বলছে, থাকার জায়গা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা পাহাড়ের পাদদেশে বাস করছে।
১৮ পরিবার এলাকার বাসিন্দা নোয়ারা বলেন, টানা বৃষ্টিতে ঘরের সামনের রাস্ত্মার মাটি ধসে পড়েছে। শিশুদের নিয়ে ভয়ে ভয়ে রাত কাটে। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই বলে এখনো এখানে থাকছে।
দীর্ঘ বছর ধরে পাহাড় ধসের ঝুঁকির মধ্যে হাজারো মানুষ বসবাস করে এলেও অতীতের কোনো প্রশাসনকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ফলে কত পরিবার এমন ঝুঁকিতে বসবাস করছেন, এতদিন এ ধরনের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ছিল না প্রশাসনের হাতে। তবে গেল বছর পাহাড় ধসে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রবল বর্ষণ ও বন্যার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। তখন ঝুঁকির্র্পণ বসতিদের তালিকা প্রণয়নের কাজ করে প্রশাসন। ঝুঁকিতে থাকা পারিবারগুলোর তালিকার অর্ধেক হিসাব পেলেও বাকিগুলো এখনো জানা যায়নি।
খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলাসহ ৫টি উপজেলার ৪৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ বসতির তালিকা করা হয়েছে। এরমধ্যে খাগড়াছড়ি সদরে ১২৭ পরিবার, খাগড়াছড়ি পৌরসভায় ৭৭ পরিবার, পানছড়িতে ২২ পরিবার, দীঘিনালায় ৮৩ পরিবার, মহালছড়িতে ৪৮ পরিবার ও মানিকছড়ি উপজেলায় ৯৪টি পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে মাটিরাঙ্গার রিছাং ঝরনা এলাকা থেকে খাগড়াছড়ির সড়ক প্রশ্বস্ত্ম করা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য জন্য কাটা হয়েছে পাহাড়। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কাটা পাহাড়ে ছোটখাটো ধস নেমেছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ধসে পড়তে পারে পাহাড়গুলো। ধসে পড়ার বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, 'ড্রেন-রাস্ত্মা প্রশ্বস্ত্ম করতে হলে একটু পাহাড় কাটা ছাড়া উপায় নেই। হালকা বৃষ্টিতে ধস নামার কোনো সম্ভাবনা নেই। গত বছর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড় ধসের মতো ঘটনা মোকাবেলায় আমরা প্রস্ত্মুত রয়েছি।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত্ম পাহাড় ধসের কোনো খবর নেই। তবে যেকোনো ধরনের ঘটনা মোকাবেলায় আমরা প্রস্ত্মুত রয়েছি। নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন
এদিকে প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রামের সঙ্গে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে; আংশিক বন্ধ রয়েছে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ।
মঙ্গলবার ভোর থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠায় খাগড়াছড়ির সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ নাজিরহাট ফাঁড়ির কর্মকর্তা মুজিবর রহমান।
তিনি বলেন, প্রবল বর্ষণের সাথে পাহাড়ি ঢলে কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে বুকসমান পানি হয়েছে, যার কারণে দুই দিক থেকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, নাজিরহাট মাইজভান্ডার সড়ক, গহিরা হোয়াকো সড়ক, ফটিকছড়ি কাজীর হাট সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে বুক সমান পানি হয়ে গেছে।
পানির উচ্চতা ক্রমশ বাড়ছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মুজিবর বলেন, বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত্ম পানি কমারও সম্ভাবনা নেই।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স ভবনেও পানি উঠেছে বলে জানান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, হাসপাতালের নিচতলা পানির নিচে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাপেকাটা চার রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ আছে চট্টগ্রামের সাথে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি উঠায় অন্ত্মত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন সড়কের পাশাপাশি ব্রিজ কালভার্টও ভেঙ্গে গেছে বলে জানান তিনি।
সাতকানিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানান, বাজালিয়া এলাকায় পানি উঠায় বান্দরবান-চট্টগ্রামে সড়কে কোনো ছোট গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। কিছু কিছু বড় গাড়ি চলাচল করলেও ছোট যান চলাচল বন্ধ।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানি উঠলেও আমিলাইশ, চরতি, নলুয়া ইউনিয়নের মানুষ পুরোপুরি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close