যৌন নির্যাতন বেড়েই চলেছেদৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরম্নরিসমাজে যৌন নির্যাতন বেড়েই চলেছে। যৌন নির্যাতন করছে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ডাক্তার, কর্মচারী, পুলিশ, আত্মীয়, চাচা-মামা-খালু, দুলাভাই, আমলা, ধনীর দুলাল। কেউ বাদ যাচ্ছে না। নারীরা কর্মক্ষেত্রেও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ধর্ষিত হচ্ছে ছাত্রী, শিশু, যুবতী, আয়া, বুয়া, গৃহবধূ। রাস্ত্মা-ঘাটে, রেস্ত্মোরাঁয়, চলন্ত্ম বাসে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে, গৃহে ঘটছে এই পৈচাশিক ঘটনা। কোথাও আজ নারীরা নিরাপদ নয়। আমাদের নারী, শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, এমনকি ধর্ষণের পর খুন হচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংস আচরণ, অবমাননা এবং এর বিয়োগান্ত্মক পরিণতি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। পৃথিবীব্যাপীই ঘটছে, তবে ইদানীং বাংলাদেশে যেন এর জোয়ার এসেছে। অপরাধীরা তো এ মানব সভ্যতারই অন্ত্মর্গত, আমাদের চারপাশেরই বাসিন্দা। সবাই কোনো না কোনো পরিবারেই বেড়ে উঠেছে। সে পরিবার থেকে তারা কী শিক্ষা পেয়েছিল- এটাই আমাদের প্রশ্ন।
এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, শনিবার রাতে দুই তরম্নণী কলেজগেট এলাকায় মাহমুদুল হকের গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ ২৯-৫৪১৪) থামিয়ে তাদের গন্ত্মব্যে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ওই সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন মাহমুদুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক। কিছু দূর যাওয়ার পর এক তরম্নণীকে শিশুমেলা এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। গাড়িতে থাকা আরেকজনকে ধর্ষণ করেন মাহমুদুল। একপর্যায়ে ঘটনা টের পেয়ে রাস্ত্মায় থাকা লোকজন গাড়ি থামিয়ে চালক ও মাহমুদুলকে পিটুনি দেয়। পিটুনির ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। উলেস্নখ্য, মাহমুদুল ধানম-ি এলাকার বাসিন্দা। তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকায়। তরম্নণীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামিকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। চলন্ত্মবাসে ধর্ষণের ঘটনা এবং ধর্ষণপরবর্তী হত্যার ঘটনাও বেশ কয়েকটি ঘটেছে। সম্প্রতি রূপা গণধর্ষণ পরবর্তী হত্যার ঘটনা তো সবারই জানা। নারী নির্যাতন রোধে আইন আছে, কিন্তু তার যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্ত্মবায়ন না থাকায় নারী নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। শুধু আইন তৈরি ও পাস নয় সংশিস্নষ্ট মহলকে সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগও নিশ্চিত করা উচিত। পাশাপাশি সমাজে পুরম্নষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরম্নরি।
মনে রাখতে হবে, নারীর বিরম্নদ্ধে অপরাধ বন্ধ করতে না পারলে নারীদের রক্ষা করা যাবে না। সমাজও দ্রম্নত পিছিয়ে পড়বে। তাই দেশের মানুষকে সচেতন ও সোচ্চার হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। আসুন আমরা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হই। আমাদের মাতা ভগ্নি স্ত্রী কন্যাকে নরপিশাচদের হাত থেকে রক্ষা করি।
পুরম্নষতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিগত কারণে নারী যে আজো সেবাদাসী যৌনদাসী ভোগ্যপণ্য ও অত্যাচার নির্যাতনের উপকরণ হয়েই আছে। এ পরিস্থিতির যতদিন পর্যন্ত্ম পরিবর্তন না হবে ততদিন পর্যন্ত্ম নারী মুক্তি নারী স্বাধীনতা নিয়ে নারীবাদীদের রাজপথে আন্দোলন করে মাথা কুটে কোনো লাভ নেই। সমস্যা দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার, সমস্যা সম্মান, মর্যাদা, মূল্যায়নের ও মূল্যবোধের। এই সমস্যা পুরম্নষের, নারীর নয়। সামাজিক সচেতনা বৃদ্ধিসহ পুরম্নষের মানসিকতার পরিবর্তন এলে কিছুটা পরিবর্তন সূচিত হতে পারে, সে জন্য আমাদের নারীদের আরো দীর্ঘ পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিতে হবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close