আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণ চোরাচালানের ১৯ হোতা চিহ্নিতবেতনভুক্ত এই চোরাচালানিরা ২০১৩ সাল থেকে ২০১৪ সালের ৩১ মে'র মধ্যে বিভিন্ন দেশে ১২৫ বার বিদেশ গমন করেছেনযাযাদি রিপোর্ট আপন জুয়েলার্সের ১৫ মণেরও বেশি স্বর্ণ জব্দ করার পর সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। কিন্তু আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণ জব্দ হওয়ার পর থেকে তাদের স্বর্ণের উৎস খুঁজতে শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
অবশেষে শুল্ক গোয়েন্দা আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণের বৈধতা খুঁজতে গিয়ে স্বর্ণ চোরাচালানের ১৯ হোতাকে চিহ্নিত করেছে। তারা সবাই আপন জুয়েলার্সের বেতনভুক্ত কর্মচারী। এরাই অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আপন জুয়েলার্সের জন্য স্বর্ণ নিয়ে আসে বলে শুল্ক গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে।
শুল্ক গোয়েন্দার তথ্য মতে, আপন জুয়েলার্সের বেতনভুক্ত ১৯ চোরাচালানি ২০১৩ সাল থেকে ২০১৪ সালের ৩১ মে'র মধ্যে বিভিন্ন দেশে ১২৫ বার বিদেশ গমন করেছেন। চোরাকারবারিদের মধ্যে ফিরোজ (পাসপোর্ট নাম্বার-এই৯৯৮০৫৫৪) ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ১২ মে পর্যন্ত ১৫ বার, মো. আনিস (পাসপোর্ট নাম্বার-এজি১৫৯২১৭৩) ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ৮ মে পর্যন্ত ১৮ বার, ফারুক আহমেদ (পাসপোর্ট নাম্বার-বিএ০৬১৩২৬১) ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ২০১৪ সালের ২৪ মে ৭ বার, সোহেল রানা (পাসপোর্ট নাম্বার-বিএ ০০১৬৪৩৩) ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল ৩ বার, সোমান সরকার (পাসপোর্ট নাম্বার-এএ০০৩৫৭০৯) ২০১৪ সালের ১২ মার্চ থেকে ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিলের মধ্যে ৬ বার, মো.ওয়াহিদুজ্জামান (পাসপোর্ট নাম্বার-এডি৩৬৩১৬৩৯) ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল থেকে ২০১৪ সালের ৩০ মে পর্যন্ত ১২ বার, খলিল রহমান (পাসপোর্ট নাম্বার-এসি০১৬৯৯২৭) ২০১৪ সালের ৩ মে থেকে ২০১৪ সালের ১২ মে'র মধ্যে ৫ বার বিদেশ গিয়েছেন।
আরও জানা যায়, মনির আহমেদ (পাসপোর্ট নাম্বার-এজি৩৫২৯০২৫) ২০১৪ সালের ১১ মে থেকে ২০১৪ সালের ৩১ মে'র মধ্যে ৩ বার, মো. ওয়াহিদ মিয়া (পাসপোর্ট নাম্বার-বিএ০৩২২৭১০) ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ১৩ মে'র মধ্যে ৮ বার, ফারুক মিয়া (পাসপোর্ট নাম্বার-এএফ১৪৫৯৮০৪) ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে'র মধ্যে ৬ বার, মঞ্জুর হোসাইন (পাসপোর্ট নাম্বার- এই৭০৫০৫৩৮) ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে ৭ বার, শামসুল হুদা (পাসপোর্ট নাম্বার-এই২০০৭৬০১) ২০১৪ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ২৬ মে'র মধ্যে ৬ বার, মো. হানিফ (পাসপোর্ট নাম্বার-এএফ ৬৪৫২১৬১) ২০১৪ সালের ১৭ মে থেকে ৩০ মে'র মধ্যে ২বার, আব্দুল আওয়াল (পাসপোর্ট নাম্বার-এএ৯০১৫৩৩১) ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ মে'র মধ্যে ৬ বার, মো. ইসলাম শেখ (পাসপোর্ট নাম্বার- এজি১২০৫৪৬০) ২০১৪ সালের ১০ মে থেকে ২৬ মে'র মধ্যে ৫ বার, মো. রুবেল (পাসপোর্ট নাম্বার-বিএ০০২৯৯১৩) ২০১৪ সালের ১০ মার্চ থেকে ১৭ মে'র মধ্যে ৪ বার, মো. তাজুল ইসলাম (পাসপোর্ট নাম্বার-এএফ৮৮১২১৭৪) ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ৯ মে'র মধ্যে ৪ বার, মো. রুবেল (পাসপোর্ট নাম্বার-এই৫৪০০৪৬১) ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ৩ বার এবং ফারুক (পাসপোর্ট নাম্বার-বিএ০৬৬৭৪৭২) ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ২২ মে'র মধ্যে ৫ বার স্বর্ণ আনতে বিদেশে গিয়েছেন।
এদিকে এই স্বর্ণ পাচারকারীরা বারবার একই দেশে সকাল-বিকাল যাতায়াত করলেও বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন থেকে তাদের কোনো বাধা দেয়া হয়নি। ফলে আপন জুয়েলার্সের এসব স্বর্ণ পাচারকারীর সঙ্গে ইমিগ্রেশন অফিসারদের যোগসূত্র রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। কেননা অভিবাসন আইনে এমন ভ্রমণকারীদের 'অতিভ্রমণকারী' হিসেবে চিহ্নিত করার কথা। এমনকি অভিবাসন আইনে এমন সন্দেহভাজন 'অতি ভ্রমণকারীদের' বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়ারও কথা বলা থাকলেও তাদের ব্যাপারে সেটা আমলে নেয়া হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, দেশ-বিদেশে স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে ইমিগ্রেশনের কতিপয় অসাধু কর্মীর যোগসাজশ থাকতে পারে।
অপরদিকে আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই চারটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। এর আগে আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। যে মামলার বিচার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তবে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হলে কারাগারেই যেতে হবে দিলদারকে।
এদিকে জব্দ হওয়া স্বর্ণ ফিরে পেতে আপন জুয়েলার্স হাইকোর্টে ৫টি রিট দায়ের করে। কিন্তু সেই রিটে আদালত বিব্রত বোধ করে রিট আবেদনগুলো কার্যতালিকা থেকে বাতিল করে দেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin