ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশবরিশাল অফিস গভীর সমুদ্র এবং সমুদ্রের তীরবর্তী এলাকাসহ স্থানীয় নদীগুলোতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। অথচ দুদিন আগেও সমুদ্রের তীরবর্তী এলাকাসহ স্থানীয় নদীগুলো ছিল একেবারেই ইলিশশূন্য। তবে এখন সর্বত্র ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে ও ইলিশ ব্যবসায়ীদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। তেমনই কম দামে ইলিশ কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও।
বরিশাল পোর্ট রোড মৎস্য আড়ত ঘুরে জানা গেছে, গত এক মাস ধরে গভীর সমুদ্রে রুপালি ইলিশ ধরা পড়লেও স্থানীয় নদীগুলোতে ধরা পড়ছিল না। তবে দুই-তিন দিন ধরে সমুদ্রের তীরবর্তী এলাকাসহ স্থানীয় নদীগুলোতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। এখন গড়ে প্রতিদিন প্রায় হাজার মণ ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।
কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ফিসিং বোটগুলো মাছ বিক্রি করে ফের গভীর সমুদ্রে যেতে পারছে না। যেগুলো গভীর সমুদ্রে রয়েছে সেগুলোও ইলিশ ধরা বন্ধ করে উপকূল এলাকা মহিপুর, পাথরঘাটা ও চরফ্যাশন বেল্টে চলে আসতে শুরু করেছে। এতে বাজারে সমুদ্রের ইলিশের সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। ফলে মণপ্রতি ইলিশের দর ২-৩ হাজার টাকা বেড়েছে। তবে স্থানীয় নদীগুলোতে ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করলে আর ফিসিং বোটগুলো গভীর সমুদ্রে যেতে পারলে ইলিশের দাম কমবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে গোটলা (২৫০-৩০০ গ্রাম) সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ১৬ হাজার টাকায়, ভেলকা (৪০০-৫০০ গ্রাম) ইলিশ ২৪-২৫ হাজার টাকা, এলসি (৬০০-৯০০ গ্রাম) ইলিশ প্রতি মণ ৩৬ হাজার টাকা, ১ কেজি ২০০ গ্রামের ইলিশের মণপ্রতি দর ৬৫ হাজার টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০ হাজার টাকায়।
গভীর সমুদ্র থেকে ইলিশ ধরে নিয়ে আসা ফিসিং বোটের জেলে মো. হানিফ শনিবার জানান, সমুদ্রের তীর থেকে ১২-১৪ ঘণ্টা ফিসিং বোট চালিয়ে সোনারচর ও বাইলারচর পেরিয়ে গভীর সমুদ্রে ঝাঁকে ঝাঁকে জালে ইলিশ ধরা পড়ছে। সেখানে হাজার হাজার বাংলাদেশি ও ভারতীয় ফিসিং বোট অবস্থান করে ইলিশ আহরণ করছে। তারা মোট ২২ জন জেলে চারদিন ধরে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ ধরে বরিশাল পোর্ট রোড মৎস্য বাজারে নিয়ে এসেছেন। ইলিশ বিক্রি বাবদ জনপ্রতি অন্তত ২০-২৫ হাজার টাকা করে পাবেন তারা।
সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা থেকে ইলিশ ধরে নিয়ে আসা সোনারতরী ফিসিং বোটের মাঝি জয়নাল আবেদিন বলেন, বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে গভীর সমুদ্রে। তবে সমুদ্রের তীরবর্তী এলাকায়ও ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। গত ৪ দিনে তারা ১২ জন জেলে মিলে ২৫ মণ ইলিশ শিকার করতে পেরেছেন।
স্থানীয় মেঘনায় নদীতে ইলিশ শিকার করা জেলে রমিজ উদ্দিন জানান, গেল দুই মাস মেঘনা নদীসহ অন্যান্য নদীগুলোতে ইলিশ ধরা পড়ছিল না। তবে গত দুদিন যাবৎ সব নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।
নগরীর পোর্ট রোড বাজারে ইলিশ ক্রয় করতে আসা মো. আরমান বলেন, কিছুদিন আগেও ইলিশের দাম করতে সাহস হতো না। এখন কম দামে ইলিশ কিনতে পেরে ভালো লাগছে।
বরিশাল পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার মো. বাদশা মিয়া জানান, স্থানীয় নদীর ইলিশ গত দুদিন ধরে বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে সাগরের ইলিশ বাজারে কমে যাওয়ায় মণপ্রতি ২-৩ হাজার টাকা দাম বেড়েছে।
বরিশাল মৎস্য আড়তদার সভাপতি অজিত কুমার দাস বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় গভীর সমুদ্রে ইলিশ ধরা বন্ধ করে জেলেরা উপকূলের দিকে আসতে শুরু করেছে। ফলে স্থানীয় নদীতে ইলিশ ধরা পড়লেও এই মুহূর্তে দাম আর কমবে না।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin