ধেয়ে আসছে ভারতের পানি তিস্তায় রেড অ্যালার্টনীলফামারী প্রতিনিধি তিস্তার উজানে ভারতে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের দৌমহনী থেকে পানি ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে।
এ অবস্থায় তিস্তার উজানে ভারতের অংশে ভারতীয় সেচ মন্ত্রণালয় শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। পাশাপাশি তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে বিশেষ সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে তিস্তা অববাহিকার সব ইউপি চেয়ারম্যানের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে তিস্তায় বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিস্তার উজানে ভারতে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় সব ইউপি চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোনে নদীতে বসবাসরতদের সরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিস্তায় বসবাসরতদের বাঁধসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিস্তার উজানে ভারতের গজলডোবা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়ায় শনিবার বিকাল থেকে দ্রুত বাড়তে শুরু করে তিস্তার পানি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের সব (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি অন্যদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছে তিস্তা পাড়ের বন্যাদুর্গত এলাকার লোকজন। উজানের ঢলের পানি ঘোলা, বিভিন্ন গাছের পাতা ও কচুরিপানা থাকার কারণে এলাকাবাসীর ধারণা উজানের বন্যার পানি আসছে।
তিস্তা নদীর উজানে বসবাস করা পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন ও পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। তিস্তা উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং করে রেড অ্যালার্ট সম্পর্কে বলা হয়েছে।
পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের মিরাজ উদ্দিন বলেন, পানির স্রোতের অবস্থা দেখে বুঝা যায়, আশপাশের গ্রামগুলো সব ডুবে যাবে। সেই সঙ্গে বড় ধরনের বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবো অফিস সূত্রে জানা যায়, তিস্তার টানা কয়েকদিনের বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তায় বন্যা দেখা দিয়েছে। তিস্তা ব্যারেজের ৬০ কিলোমিটার উজানে ভারত গজলডোবা বাঁধটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করে।
গজলডোবা বাঁধটির ৫৪টি গেটের মাধ্যমে উজানে বন্যা হলে সব গেট খুলে দিলে ধেয়ে আসছে বন্যার পানি এবং বাংলাদেশের অংশে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে এলাকায় বন্যা দেখা দেয়।
পাউবো অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, বর্ষার সময় ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হলে গজলডোবার ৫৪টি জলকপাট খুলে দেয় ভারত। ফলে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়।
সন্ধ্যা সাতটার দিকে কিসামত চরের আবুল কালাম জানান, দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে তিস্তার পানি। ছোটখাতা গ্রামের তফেল উদ্দিন বলেন, বিকাল থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি থেকে মনে হচ্ছে, বড় ধরনের বন্যা দেখা দেবে।
ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি শনিবার সকাল ছয়টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদীর শোঁ শোঁ শব্দ আর গর্জন তিস্তা অববাহিকা কাঁপিয়ে তুলেছে। অপরদিকে বুড়ি তিস্তা নদীটি ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে।
এ ছাড়া তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের জলঢাকাস্থ দুন্দিবাড়ির অদূরে দিনাজপুর প্রধান সেচ ক্যানেলের ডানতীরের বাঁধ দুটির বিভিন্ন স্থান বিধ্বস্ত হয়েছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close