কাশিমপুর কারাগার কমপ্লেক্সে নিরাপত্তায় ঢিলেমি, অব্যবস্থাপনাগাজীপুর প্রতিনিধি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্সে নিরাপত্তাবলয় থাকার কথা থাকলেও তার বদলে সব দিকে আছে অব্যবস্থাপনা। যে কেউ অবাধে মূল ফটক দিয়ে কারাগার কমপ্লেক্সের ভেতর প্রবেশ করতে পারছে। নারী চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও কোনোরকম তল্লাশি ছাড়াই পুরুষ চেকপোস্ট দিয়ে কারাগার কমপ্লেক্সের ভেতর প্রবেশ করছে নারীরা। সরেজমিন দেখা গেছে এমন দৃশ্য।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্স গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানই নয়, সেই সঙ্গে এটি দেশের নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্থানগুলোর একটি। কারণও সবার জানা। এ কারাগারেই বন্দি রয়েছে যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি সদস্য, শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ নানা অপরাধী। এ কারণেই এখানে সব সময় নিরাপত্তাবলয় থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে ঠিক তার উল্টো। বলা যায়, চেকিং বা তল্লাশির বালাই নেই এখানে।
কারাগার কমপ্লেক্সের মূল ফটকে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা চেকপোস্ট রয়েছে। মূল ফটকটির পশ্চিম পাশে নারী ও পূর্ব পাশে পুরুষ চেকপোস্ট। নারী চেকপোস্টে রয়েছে নারী কারারক্ষী আর পুরুষ চেকপোস্টে রয়েছে পুরুষ কারারক্ষী। ভালোভাবে তল্লাশি করার পরই কেবল কারাগার কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতে দেয়ার নিয়ম। কিন্তু দেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর কারাগার বলে বিবেচিত হলেও কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কোনোরূপ তল্লাশি ছাড়াই যাকে তাকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেল, নারীরা নারীদের চেকপোস্ট দিয়ে প্রবেশ না করে বিনা তল্লাশিতে পুরুষ চেকপোস্ট দিয়ে প্রবেশ করছে। আর কারারক্ষীরাও কারাগারের নিরাপত্তার বিষয়টি একদমই মাথায় নিচ্ছে না। কারাগার কমপ্লেক্সের ভেতর তল্লাশি ছাড়াই অহরহ প্রবেশ করছে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে কারাগার কমপ্লেক্সের নিরাপত্তাবলয় বলতে আসলে কিছুই থাকছে না।
এদিকে কারাগার কমপ্লেক্সের ভেতর মূল ফটক ঘেঁষে প্রিজন্স পাবলিক স্কুলের পাশে রিকশা ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। রিকশায় বসে ধূমপান করছে রিকশাচালকরা। শিশু ও অসুস্থ মানুষদের সামনেই ধূমপান করছে তারা। এতে কারাগার কমপ্লেক্সের পরিবেশ নোংরা হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, কোনো ভিআইপি অথবা সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কারাগার কমপ্লেক্সে এলেই কেবল কারাগার কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সবকিছু পরিপাটি করে সাজনো থাকে। এরপর আর সেটা থাকে না। ওনারা চলে যাওয়ার পরপরই ফিরে আসে বিশৃঙ্খল, আগোছালো আর নিরাপত্তাহীন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। কারাগার কমপ্লেক্স মূল ফটকে কারারক্ষীরা থাকে এলোমেলোভাবে। যার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে প্রবেশ করছে গুরুত্বপূর্ণ এ কারাগার কমপ্লেক্সে।
এ ব্যাপারে কাশিমপুর কারাগার-২ এর জেলসুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলছেন উল্টো কথা। তিনি দাবি করলেন, 'কাশিমপুর কারাফটক অন্তত সুরক্ষিত। নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য কারা ফটকে সিসিটিভিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি এখানে সশস্ত্র কারারক্ষীও আছে সম্ভাব্য যে কোনো দুর্ঘটনা বা ঝুঁকি প্রতিরোধের জন্য। পুরুষ চেকপোস্ট দিয়ে নারীরা ভেতরে প্রবেশ করলেও পরে নারী কারারক্ষী দিয়ে তাদের তল্লাশি করা হয় কোনো নিষিদ্ধ দ্রব্য এনেছে কিনা।'
পরিচিত দেখে কিছু রিকশা কারাগার কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এখানে অনেক শিশু ও বৃদ্ধ দর্শনার্থী আসে তারা যেন সহজে যাতায়াত করতে পারে সে জন্যই এ ব্যবস্থা।
ধূমপানের বিষয়ে তিনি বলেন, স্কুলের পাশে শিশুদের সামনে ধূমপান করাটা নিন্দানীয়। সেটা আমরা দেখব। কমপ্লেক্স অনেক বড় এক পাবলিক স্পেস। আইন অনুযায়ী পাবলিক স্পেসে ধূমপানের কোনো সুযোগ নেই।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin