আফগানিস্তানের জন্য কৌশল ঘোষণা ম্যাককেইনেরযাযাদি ডেস্ক মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইনমার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন আফগানিস্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিজস্ব কৌশল প্রকাশ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না দেখে তিনি নিজ উদ্যোগেই এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন। এদিকে, আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশে আরও ১০০ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, এনবিসি
ম্যাককেইনের আফগান কৌশলের মধ্যে থাকছে সন্ত্রাসবাদবিরোধী মিশনের জন্য আরও মার্কিন সেনা নিয়োগ, আফগানিস্তানে মার্কিন বিমানবাহিনীকে শক্তিশালী করা; যার মাধ্যমে তালেবান, হাক্কানি নেটওয়ার্ক, আল-কায়েদা এবং আইএসসহ শত্রু বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য আফগান বাহিনীকে সহায়তা করা হবে।
অ্যারিজোনার রিপাবলিকান সিনেটর জানিয়েছেন, এ ছাড়াও ৬০০ মার্কিন সেনাকে ব্যাটেলিয়ন পর্যায়ে মোতায়েন করা হবে এবং তারা সরাসরি আফগান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ দেবে। আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী উপস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায় এবং তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ করতে তিনি পাকিস্তানকে আরও চাপ দিতে চান।
ম্যাককেইন বলেন, লক্ষ্যমাত্রাটি হলো_ তালেবানকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার মতো নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি করা। আফগানিস্তানের জন্য একটি কৌশল প্রণয়ন করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ম্যাককেইন কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সমালোচনা করছেন।
ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস প্রশাসন এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাকমাস্টার একদিকে যিনি আফগানিস্তানে আরও মার্কিন সেনা পাঠাতে চান এবং ট্রাম্পের প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন অন্যদিকে যিনি নতুন সেনা মোতায়েনের বিরোধিতা করছেন। প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ম্যাককেইনকে জুলাইয়ের মধ্যে একটি আফগান কৌশল দেবেন। কিন্তু এ ধরনের একটি কৌশল বাস্তবায়ন করার কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
সিনেট সশস্ত্র সেবা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাট্রিবিউশন অ্যাক্টের সংশোধনীর অধীনে ম্যাককেইন তার পরিকল্পনার বিলটি তৈরি করেছেন। বর্তমানে ব্রেইন ক্যান্সারে চিকিৎসাধীন ম্যাককেইন আগামী মাসে সিনেটে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, যাতে বিলটি উত্থাপন করা যেতে পারে।
হেলমান্দে আরও ১০০ মেরিন সেনা
এদিকে, হেলমান্দে আরও ১০০ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েন করছে পেন্টাগন। এই অঞ্চলে মার্কিন অপারেশনের কেন্দ্রীয় কমান্ডকে আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত মেরিন এই সেনা পাঠানো হচ্ছে। ফলে বর্তমানে অপারেশনে থাকা কমান্ডারের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সহায়তা মিশনের এক মুখপাত্র জানান, এই বাহিনী অল্প সময়ের জন্য হেলমান্দে অবস্থান করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসকে গত জুন মাসে আফগানিস্তানে সেনাদলের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য অনুমতি দেয়া হয় এবং তিনি এই অঞ্চলে প্রশাসনের নীতির অংশ হিসেবে তা চূড়ান্ত করবেন বলে জানান।
২০০১ সালে সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানে প্রথম দফায় যেসব সেনা পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র, তার মধ্যে এসব মেরিন সেনাও ছিল। হেলমান্দ প্রদেশে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন ছিল। উল্লেখ্য, এই প্রদেশে তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে প্রায়ই তাদের তুমুল লড়াই হয়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন তাদের মেয়াদকালে আফগানিস্তান থেকে অধিকাংশ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার আশা করলেও দেশটিতে শেষ পর্যন্ত কিছু সেনা থেকেই যাবে। আফগানিস্তানে এখনো প্রায় আট হাজার ৪০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। এর মধ্যেই হেলমান্দে এসব মার্কিন মেরিন সেনাকে পাঠানো হচ্ছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin