পূর্ববর্তী সংবাদ
চীন সীমান্তে সেনা মোতায়েন ভারতের উচ্চ সতর্কতায় বিমানবাহিনীযাযাদি ডেস্ক চীন সীমান্তে ডোকলাম নিয়ে পরিস্থিতি দৃশ্যত খারাপ হচ্ছে। কারণ দুই দেশের সেনা কর্মকর্তারা শুক্রবার বৈঠক করলেও সেখান থেকে সংকট সমাধানের কোনো উপায় বের না হওয়ায় এবার সীমান্তের দিকে আরও বেশি সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। উত্তর-পূর্বে চীন সীমান্ত আরও বেশি সেনা মোতায়েন করার পাশাপাশি বিমানবাহিনীকেও 'হাই অ্যালার্টে' (উচ্চ সতর্কতা) রাখা হয়েছে। সিকিম, অরুণাচল, কাশ্মির, হিমাচল ও উত্তরাখ-ের মোট তিন হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে রয়েছে চীন। আর এসব অঞ্চলেই ভারতীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গেছে, ভারত অন্তত চার হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন করেছে। সংবাদসূত্র: এনডিটিভি, ইনডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স
উল্লেখ্য, ডোকলাম এলাকাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত। আর ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় তৈরি হয়েছে ভারত-চীন সংঘাত। তাই কোনো যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হলে ভারতকে ওই উচ্চতায় গিয়ে লড়াই করার ক্ষমতা রাখতে হবে। প্রায় দুই মাস আগে সিকিম সীমান্তের ডোকলাম মালভূমিতে চীনা সেনাবাহিনী রাস্তা নির্মাণের সময় সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেয় ভারতীয় বাহিনী। তারপর থেকে ওই সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে আছে। ওই মালভূমিকে 'ডোংলাং' বলে থাকে চীন। ডোংলাং মালভূমিকে নিজেদের অংশ দাবি করে সেখানে তাদের রাস্তা নির্মাণের পূর্ণ অধিকার আছে বলে দাবি করছে চীন। অন্যদিকে, মালভূমিটি ভুটানের অংশ বলে দাবি করেছে ভারত ও ভুটান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, চীনের আক্রমণাত্মক কথাবার্তা ও তৎপরতায় গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি সতর্কভাবে বিশ্লেষণ করছে দিলি্ল। আর এ বিষয়ে কোনো কিছু জানাতে অস্বীকার করেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা; তারা বলেছেন, কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারবেন না তারা। তবে দিলি্ল ও সিকিমের দুটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাবধানতা হিসেবে সামরিক বাহিনীর সতকর্তার মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছে। উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন না তারা।
এর আগে, ডোকলাম ইস্যুতে শুক্রবার ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে (পতাকা বৈঠক) বসলেও কোনো সমাধানে পেঁৗছতে পারল না ভারত ও চীন। সীমান্তে সংঘাতের পরিস্থিতি প্রশমনে এদিন সিকিমের নাথু লা'তে বৈঠকে বসেছিলেন দুই দেশের শীর্ষ সামরিক কর্তারা। বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন মেজর জেনারেল পদমর্যাদার অফিসাররা। সূত্রের খবর, সেখানে ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, সেনা প্রত্যাহার করতে হলে একসঙ্গে দুই দেশকেই করতে হবে।
এই বৈঠকের আগে গত ৮ আগস্ট ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তারাও বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠকে কোনো সমাধান না আসায় শুক্রবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আহ্বান করা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্র জানিয়েছে, ৮ আগস্টের বৈঠকেও সেনা প্রত্যাহার করার জন্য ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল চীন। তাদের দাবি ছিল, অবিলম্বে ভারতকে ডোকলাম থেকে বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈঠক দুটি থেকে কোনো সমাধান সূত্র না মিললেও দুই দেশের জন্য এটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন পর্যন্ত যুদ্ধ সীমাবদ্ধ শুধুই চীনের পত্রপত্রিকায়। তারপরও দুটি দেশটিই পরমাণু শক্তিধর দেশ। বর্তমানে চীন সীমান্তে ভারত সেনা সংখ্যা বাড়িয়েছে ঠিকই, তবে এতটাও বাড়ায়নি, যাতে পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘুরে যেতে পারে। আর আগামী সেপ্টেম্বরেই 'ব্রিকস সম্মেলনে' যোগ দিতে চীনে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপরই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin