পিয়ংইয়ংকে বড় সমস্যায় পড়তে হবে : ট্রাম্পজ্জ উভয়পক্ষকেই সংযত এবং উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এমন 'কথা ও কার্যকলাপ' এড়িয়ে চলার আহ্বান চীনেরযাযাদি ডেস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার আরও একবার চলমান ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার প্রতি হুশিয়ারি দিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে থাকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের বেডমিনিস্টারে নিজের গল্ফ রিসোর্টে হওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মার্কিন নিয়ন্ত্রিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে কোনো কিছু হলে পিয়ংইয়ংকে 'বড়, বড় ধরনের সমস্যায়' পড়তে হবে। এ ছাড়া একইসঙ্গে গুয়াম 'অত্যন্ত নিরাপদ থাকবে' বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম নিয়ে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়া উভয়পক্ষকেই সংযত এবং উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়_ এমন 'কথা ও কার্যকলাপ' এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন, আল-জাজিরা, প্রেসটিভি
গত সপ্তাহের শুরুতে এক মাসের ব্যবধানে দুটি আন্তঃমহাদেশীয় 'ব্যালিস্টিক' ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষার জের ধরে উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে জাতিসংঘ। নতুন অবরোধ প্রস্তাবটি মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক উত্থাপিত হওয়ায় দেশটিকে এর জন্য 'চরম মূল্য দিতে হবে' বলে গত সোমবার হুশিয়ারি দেয় উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা 'কেসিএনএ'র এক বিবৃতিতে 'দেশটিকে তাদের অপরাধের জন্য হাজার গুণ বেশি মূল্য দিতে হবে' বলেও জানানো হয়েছিল। আর উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়োং-হো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে 'বানোয়াট' উল্লেখ করে ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে সতর্ক করেছিলেন।
উত্তর কোরিয়ার জাতিসংঘের নতুন করে আরোপিত ওই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা আসার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়া পরস্পরের ওপর হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে আসছেন। একদিকে উত্তর কোরিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় গুয়াম দ্বীপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প 'বিশ্বে আগে কখনো দেখেনি' উত্তর কোরিয়াকে এমনই শিক্ষা দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি-ধমকি দিলেও মার্কিন প্রশাসন এখনো কূটনৈতিক পথেই চলমান উত্তেজনা নিরসনে আগ্রহী বলে জানানো হয়েছে।
এরইমধ্যে শুক্রবার আরও একবার উত্তর কোরিয়াকে হুমকি দিলেন ট্রাম্প। দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'সেগুলো (নতুন নিষেধাজ্ঞা) আগের মতোই কঠোর হবে।' চলমান পরিস্থিতিকে 'অত্যন্ত বিপজ্জনক' উল্লেখ করে তিনি বলেন 'এগুলোতে কাজ হবে বলে আশা করি। শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে আর কেউ বেশি ভালোবাসে না, এটি আমি বলতে পারি।'
ট্রাম্প বলেন, 'আশা করছি উত্তর কোরিয়া আমার বক্তব্যের গুরুত্ব বুঝবে। যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানলে উত্তর কোরিয়ার অবস্থা কী হবে সেটা নিশ্চই বুঝতে পারছে না দেশটি। তবে খুব শিগগিরই নিজের ভুল বুঝতে পারবেন কিম জং-উন। দেশটির ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবো আমরা। আর আমি যা বলি, তা শুধু বলার জন্য বলি না, করে দেখাই।'
একইদিন এক টুইটে ট্রাম্প হুশিয়ার করে বলেছিলেন, 'উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। উত্তর কোরিয়া কা-জ্ঞানহীন কাজ করলে এর সামরিক সমাধান এখন পুরোপুরি সঠিক পথে রয়েছে। আশা করি, কিম জং_উন (উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা) অন্য পথ খুঁজে নেবেন।'
এদিকে, হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গুয়ামে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির পর মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দ্বীপের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
উত্তেজনামূলক 'কথা ও কার্যকলাপ' এড়ানোর আহ্বান। অপরদিকে, কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা নিরসনে হুমকি-পাল্টা হুমকি বন্ধ করে সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে শনিবার এক ফোনালাপে তিনি এই আহ্বান জানান বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট জিনপিং কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেবে_ এমন 'কথা ও কার্যকলাপ' সব পক্ষকেই এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি বজায় রাখা ও উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম বন্ধ করা নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র 'একই উদ্দেশ্য' বহন করে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ওই ফোনালাপ নিয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টের আহ্বানের কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, সে সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই প্রেসিডেন্ট নিজেদের মধ্যে 'খুব উষ্ণ' সম্পর্ক উপভোগ করেছেন এবং এটির ফলে কোরীয় উপদ্বীপের চলমান উত্তেজনা একটি 'শান্তিপূর্ণ সমাধান'র পথে যাবে বলেও আশাবাদী তারা।
চীন-রাশিয়ার যৌথ পরিকল্পনা
এদিকে, সংকট নিরসনে চীন-রাশিয়ার এক যৌথ পরিকল্পনা পেশ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা 'খুব বেশি' বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের হুমকি-পাল্টা হুমকিতে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।' আর জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের ভাষ্য, 'সামরিক কোনো সমাধান নেই। হুমকির বিরুদ্ধে পাল্টা হুমকি দেয়া ভুল।'
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। তেমন যেন না হয় আমরা সে চেষ্টাই করবো।' তিনি বলেন, 'উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উনকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে। আর যুক্তরাষ্ট্রকেও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধ করতে হবে। তাহলেই পরিস্থিতি শান্ত হবে বলে আমি মনে করি।'
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close