সীতাকু-ে দুই জুটমিলের সাত হাজার শ্রমিকের মজুরি বন্ধসীতাকু- (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা সীতাকু-ে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি জুট মিলের সাত হাজার শ্রমিকের সাপ্তাহিক মজুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এসব শ্রমিক পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্রমিক নেতারা পাওনা আদায়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকে বসলেও কোনও সুফল মেলেনি।
সীতাকু-ের বারআউলিয়ায় অবস্থিত হাফিজ জুট মিল ও ছোটকুমিরায় অবস্থিত গুল আহম্মদ জুট মিলের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। এসব মিলে প্রতি সপ্তাহে শ্রমিকদের বেতন দেয়া হতো। কিন্তু পাঁচ সপ্তাহ ধরে হাফিজ জুট মিলসের চার হাজার শ্রমিককে কোনও বেতন দেয়া হয়নি। একেইভাবে গত দুই সপ্তাহ ধরে গুল আহমদ জুট মিলের তিন হাজার শ্রমিক মজুরি পায়নি। এতে দুই মিলের শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছে।
হাফিজ জুট মিলের শ্রমিক মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, আমাদের সাপ্তাহিক বেতন দেয়া হতো। প্রতি বৃহস্পতিবার বেতন পেলে ওই টাকায় সংসারের জন্য সাপ্তাহিক বাজার, ছেলেমেয়ের পড়াশুনার খরচ, চিকিৎসা সব চলত। বেতন পাওয়ার আশায় আমরা স্থানীয় মুদি দোকানে সাপ্তাহিক বাজার করতাম। পরপর দুই সপ্তাহ দোকানে টাকা দিতে না পারায় দোকানি এখন মালামাল দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে আমার সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা শ্রমিক কলোনির সবার। অভাব দিন দিন বাড়ছে।
শ্রমিকদের দুরাবস্থার কথা জানিয়ে হাফিজ জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, এ মিলে স্থায়ী অস্থায়ী চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী আছে। বেশিরভাগ শ্রমিক অত্যন্ত গরিব। তাদের বাড়ি উত্তরবঙ্গে। এক সপ্তাহ বেতন না পেলে তারা চলতে পারে না। এখন পাঁচ সপ্তাহ ধরে তারা এক টাকাও পাচ্ছে না। এতে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। জুট মিলস কলোনির দোকানগুলোতেও অভাবের ছাপ পড়েছে। কয়েকটি দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তাদের শ্রমিক কর্মচারীদের মোট বকেয়া প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। কর্তৃপক্ষের সাথে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু সমাধান হচ্ছে না। হতাশ শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিয়ে আমাদের আন্দোলনে নামতে হবে।
শ্রমিকদের পাঁচ সপ্তাহ ধরে বেতন দিতে না পারার কথা স্বীকার করে মিলের ব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. জাকির হোসেন জানান, উৎপাদিত পণ্য বিক্রি না হওয়ায় আমরাও টাকা পাচ্ছি না। তাই শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারছি না। তবে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে একই দুরাবস্থা আছে গুল আহমদ জুট মিলের তিন হাজার শ্রমিকের। তারাও মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই মিলের সিবিএ সভাপতি আব্দুল জব্বার জানান, আমাদের শ্রমিক কর্মচারী দুই সপ্তাহ ধরে বেতন পায়নি। তারা খুবই খারাপ অবস্থায় পড়ে গেছে। কর্তৃপক্ষও মজুরি পরিশোধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin