এনায়েতপুরে উদ্বোধনের দুই মাসেই ভেঙে পড়ল কালভার্টচৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর উপজেলার জালালপুরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ ২ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বক্সকালভার্ট উদ্বোধনের ২ মাস যেতে না যেতেই ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী কালভার্টটি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ৫ গ্রামের বাসিন্দারা। তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে স্বল্প খরচে যেনতেনভাবে কালভার্টটি নির্মাণ করার কারণেই ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলাধীন এনায়েতপুর থানার জালালপুর ইউনিয়নের বাঐখোলা, পাকুরতলা, জালালপুর, কুঠিপাড়া ও আদর্শগ্রামের (গুচ্ছগ্রাম) প্রায় সাড়ে ৭ হাজার মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি দূর করতে এডিপির বিশেষ বরাদ্দকৃত প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে বাদল মোড়-জালালপুর বাজার রাস্তার মাঝে বক্স কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। জুন ক্লোজিংয়ের সময় তড়িঘড়ি করে নামমাত্র ইট-বালু-সিমেন্ট দিয়ে নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই কালভার্টের পশ্চিমের অংশ দেবে যায়। বন্যার পানি প্রবেশের সময় কালভার্টটির নিচের পার্টিশনের অংশ ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বস্তা ও বাঁশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। এছাড়া দ্রুত মেরামতের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থল পাকরাশি ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রুবেল রানা, জাহাঙ্গীর হোসেন ও জোসনা খাতুন বলেন, জালালপুর বাজার সংলগ্ন কালভার্টটি নির্মাণের দুই মাসের ব্যবধানে বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে। এরপর আর মেরামত করা হয়নি। এ কারণে ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের অন্তত ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়ে অনেক কষ্ট করে ভাঙা কালভার্ট বেয়ে উঠে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ইউপি সদস্য বলেন, কালভার্টটি সঠিকভাবে নির্মাণ করলে অল্প দিনেই ভেঙে যাওয়ার কথা নয়। তবে জুন ফাইনালের জন্য কিছুটা তড়িঘড়ি করা হয়েছে এটা ঠিক তবে কাজে অনিয়মের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি নন। অবশ্য স্থানীয়দের ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বারবার চেষ্টা করেও ফোনে না পেয়ে ইউপি সচিব জিয়াউল হকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এডিপির ২ লক্ষাধিক টাকায় নির্মিত বক্সকালভার্টটি বন্যার পানির চাপে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত মেরামত করার জন্য আবার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীমুন রাজিব বলেন, বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টটি দ্রুতই মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হবে। তবে কাজের ত্রুটির বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin