গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত কুমারখালীর খামারিরাকুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা কুমারখালীতে মোটাতাজা করা গরু -যাযাদিকুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে এখন শেষ সময়ে ব্যস্ত উপজেলার সাধারণ চাষি ও খামার মালিকেরা। পবিত্র ঈদুল আজহা আসন্ন হওয়ায় শেষবারের মতো পশুগুলোর যত্ন নিচ্ছেন তারা। স্থানীয় বাজার যাচাইয়ের পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের হাটে গরু নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও শুরু করছেন অনেকেই।
কুমারখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গোটা উপজেলার সাধারণ চাষি ও ছোট বড় ৪২৫টি খামারে পালিত হয়েছে ৪ হাজার ৮০০টি গরু। এর মধ্যে উপজেলার তালিকাভুক্ত ছোট বড় খামারগুলোতে মোটাতাজাকরণ হয়েছে ১ হাজার ৪৩২টি এবং এলাকার সাধারণ চাষিদের প্রতিটি গোয়ালে পারিবারিকভাবে পালিত হয়েছে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার গরু। তবে ছোট বড় খামারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরু মোটাতাজাকরণ হয়েছে চাপড়া ইউনিয়নে। এ ছাড়াও বাগুলাট ইউনিয়নে ২৪৭টি, নন্দলালপুরে ১২৩টি, পান্টি ইউনিয়নে ১৫০টি, যদুবয়রায় ১১৬টি, কয়া ইউনিয়নে ১৮২টি, শিলাইদহে ৬৮টি, সদকী ইউনিয়নে ৫৪টি, জগন্নাথপুরে ৮১টি এবং চাঁদপুর ইউনিয়নে ১১৩টি গরু মোটাতাজাকরণ হয়েছে।
এবারে উপজেলাজুড়ে শাহীওয়াল, হলিস্ট্রি ফ্রিজিয়ান, হরিয়ান, পাবনা ভেরাইটি, লালসিন্ধি ও দেশী জাতের গরু মোটাতাজা করেছে সাধারণ চাষি ও খামার মালিকেরা। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পালন করা হয়েছে শাহীওয়াল ও দেশীজাতের গরু। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও সাধারণ খামারিরা বলছেন, ভারতীয় গরু আমদানিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হলে এবারে এতদাঞ্চলের উৎপাদিত গরুগুলোর প্রতিটি কমপক্ষে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দাম পাওয়া যাবে। সে অনুযায়ী অন্তত ৩২ থেকে ৩৮ কোটি টাকার গরু বিক্রয় হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
কুমারখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পৃথ্বীজ কুমার দাস বললেন, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এ অঞ্চলের ছোট বড় খামারিদের মাঝে অনেক আগে থেকেই গরু মোটাতাজাকরণে আগ্রহ লক্ষণীয়। এ কারণেই এখানকার খামারের দর্শনীয় গরু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর কোরবানির হাটে বিক্রি হওয়ার সুখ্যাতিও রয়েছে। নিষিদ্ধ কোনও ওষুধ বা হরমোন ইনজেকশন ব্যবহার ছাড়াই আমাদের সঙ্গে পরামর্শসাপেক্ষে প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমেই গরু পালন করেছেন এই এলাকার খামারিরা। কৃষকদের এ উৎসাহকে ধরে রাখতে ভারতীয় গরু আমদানি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে ভালো দাম পেতেন খামারিরা। সেইসাথে গো-খাদ্যের বাজার দর কম থাকলে আরও আগ্রহী হতো বলেও জানান তিনি।
উপজেলার হুগলা গ্রামের খামারি বাতেন মোল্লা বলেন, এবারে ৪৮টি হাড্ডিসার গরু কিনে মোটাতাজা করেছি। গো-খাদ্যের দামতো কম নয়, খরচ ভালোই পড়ে গেল, সে অনুযায়ী দাম পাওয়ার আশায় এখনও খরচ করেই চলেছি। তবে গত দুবারে ভারতীয় গরু আমদানি হওয়ায় দাম পাওয়া যায়নি। এখন গরুগুলোর যত্ন আর আশানুরূপ দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যেই দিন কাটছে আমাদের। তাই ভারতীয় গরু আমদানি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জরুরি।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin