গ্রামে পিছিয়ে স্কুল ব্যাংকিংযাযাদি রিপোর্ট গত কয়েক বছর ধরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে স্কুল ব্যাংকিং। তবে গ্রামীণ এলাকায় এখনো পিছিয়ে আছে এই ব্যাংকিং। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্কুল ব্যাংকিংয়ের যেসব হিসাব খোলা হয়েছে তার মধ্যে শহরেই বেশি হিসাব খোলা হয়েছে। এক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকা পিছিয়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সারাদেশে বিভিন্ন ব্যাংকে ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৪৩টি স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা হয়েছে। যার মধ্যে শহরের ব্যাংক শাখাগুলোতে আট লাখ ২৭ হাজার ৪০২টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আর গ্রামীণ এলাকার শাখাগুলোতে অ্যাকাউন্ট রয়েছে পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ৪১টি। শহরের অ্যাকাউন্টগুলোতে টাকার পরিমাণও বেশি।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলায় শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। আর আমানতের পরিমাণের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড।
ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দুই লাখ ১৬ হাজার ৫৩৪টি। যা মোট অ্যাকাউন্টের প্রায় ১৬ ভাগ। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকে এক লাখ ৭৮ হাজার ৫১৪টি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে এক লাখ ২৯ হাজার ৬৩১টি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ৯৯ হাজার ১৮৭টি এবং উত্তরা ব্যাংকে ৮০ হাজার ৫৫১টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, জমানো টাকার দিক থেকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের স্কুল ব্যাংকিংয়ে জমা পড়েছে ৩৬০ কোটি টাকা। যা মোট জমার প্রায় ৩৩ শতাংশ। এর বাইরে ইসলামী ব্যাংকে ১০৭ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকে ৯৫ কোটি টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে ৫৭ কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকা জমা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, স্কুল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু সঞ্চয়ই হচ্ছে না। তারা ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে অভ্যস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এটিএম কার্ডের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারছে। তাদের বেতনের টাকাও অ্যাকাউন্ট থেকে জমা দিতে পারছে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতরা প্রযুক্তির সঙ্গেও পরিচিত হচ্ছে।
জানা গেছে, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের বিপরীতে ব্যাংকগুলো এটিএম কার্ড (কেবল ডেবিট কার্ড) ইস্যু করতে পারে। যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা তোলা যায়। তবে অভিভাবকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো যায়। স্কুল ব্যাংকিং হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সরকারি ফি ব্যতীত অন্যকোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ নিতে পারে না।
৬ থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা এ হিসাব খুলতে পারে। আর হিসাব খুলতে কমপক্ষে ১০০ টাকা জমা দিতে হয়। ছাত্রছাত্রীর পক্ষে তার পিতা-মাতা অথবা আইনগত অভিভাবক এ হিসাব পরিচালনা করে থাকেন। এ হিসাব খুলতে অন্যান্য হিসাবের মতো নির্দিষ্ট ফরম রয়েছে। ফরম পূরণের মাধ্যমে এ হিসাব খোলা যায়। এসব হিসাব সাধারণ চলতি হিসাবে রূপান্তরের সুযোগও আছে। কোনো কোনো ব্যাংক আলাদা কাউন্টার বা ডেস্ক খুলে ছাত্রছাত্রীদের স্কুল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে তুলতে ২০১০ সালে এই ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। শিক্ষার্থীদের পরবর্তী জীবনে আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত ও শিক্ষার ব্যয় নির্বাহ সহজ করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close