তিশার আশা ছিল গোল্ডেন এ প্লাসযাযাদি রিপোর্ট 'পড়াশোনায় মেধাবী ছিল তিশা। স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম পাঁচজনের মধ্যেই ছিল ওর অবস্থান। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পাবে বলে আশা ছিল ওর। তাদের এমন প্রত্যাশা ছিল।' এসব কথা জানান মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের প্রিন্সিপাল ওসমান গণি।
ওসমান গণি বলেন, মঙ্গলবার থেকে টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পারুল শাখার ছাত্রী তিশা পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল।
তিশার পুরো নাম তাসনিম আলম। রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়ার মাঝামাঝি লাইফ এইড হাসপাতালের সামনে মঙ্গলবার দুুপুর সোয়া একটার দিকে তেঁতুলিয়া পরিবহনের একটি বাসচাপায় তিশা মারা যায়। তার মরদেহ উদ্ধার করে কাফরুল থানায় নেয়া হয়।
দুপুরে দেখা যায়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার মো. শামীম হোসেন ও পাশে ওসি (তদন্ত) আসলাম উদ্দিনের তালাবদ্ধ কক্ষের সামনের করিডরে স্বজনদের জড়িয়ে ধরে বিলাপ করছেন তিশার মা রিমা আক্তার। চিৎকার করে বলছিলেন, 'আমার তিশা, তুই কই গেলি? আল্লাহ, তুমি তো সব পার। আমার মেয়েটারে ফিরিয়ে দাও। ওর তো দুপুরে ভাত খাওয়ার কথা ছিল।'
থানার সামনে রাখা অ্যাম্বুলেন্সে বিকাল চারটা পর্যন্ত পড়ে ছিল তিশার নিথর দেহ। স্বজনের কোল থেকে মৃত বোনের দিকে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল পাঁচ বছর বয়সী ছোট ভাই তাহমিদ আলম।
তিশার বাবার নাম খোরশেদ আলম। তিনি মিরপুর এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী মোহন সরকারের সামনেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি বলেন, তিশাকে ছোটবেলা থেকেই তিনি চেনেন। দুপুর একটার দিকে স্কুল ছুটির পর একটি রিকশায় করে পূর্ব কাজীপাড়ার আল হেলাল হাসপাতালের কাছের বাসায় ফিরছিল তিশার মা, তিশা আর ছোট ভাই। রিকশাটি লাইফ এইড হাসপাতালের সামনে থামে। সেখান থেকে সড়ক বিভাজক পার হওয়ার জন্য এগিয়ে যায় তারা। মা ছেলের হাত ধরেছিলেন। মেয়ে পাশেই ছিল। মা ছেলেকে নিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর ওঠে যান। মেয়ে উঠতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যেই একটি দ্রুতগতির বাস মেয়েটিকে চাপা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তিশার মৃত্যু হয়।
ট্রাফিক পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিরপুর ১০ নাম্বার থেকে কাজীপাড়ার দিকে যাওয়ার সময় তেঁতুলিয়া পরিবহনের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো ব-১১৭৩৭০) চাপায় স্কুলছাত্রী তিশার মৃত্যু হয়। তেঁতুলিয়া পরিবহন আবদুল্লাহপুর থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত যাত্রী আনা-নেয়া করে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটি ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
শিক্ষক ওসমান গণি বলেন, তিশার মরদেহ রংপুরের পীরগাছায় গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, দুর্ঘটনার পরপর চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কাফরুল থানার কোনো কর্মকর্তা কিছু বলছেন না। বাসটি জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে।
সন্ধ্যায় কাফরুল থানায় পুলিশের মিরপুর বিভাগের এডিসি জসীমউদ্দিন বলেন, বাসচালক আবদুর রহিমকে আটক করা হয়েছে। মেয়েটির বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক দুর্ঘটনার মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই গ্রামের বাড়ি নিয়ে গেছেন তার বাবা।
এদিকে মিরপুর সাড়ে ১১ নাম্বারে তেঁতুলিয়া পরিবহনের কালশি রোডের কার্যালয়ে এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ মাসুমকে পাওয়া যায়নি। তার একাধিক মুঠোফোন নাম্বারও বন্ধ ছিল। তেঁতুলিয়ার এক বাস মালিক বলেন, ওয়াদুদ সাহেবই সব দেখছেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin