এফবিআই আদলে আটক, সিবিআই স্টাইলে তদন্তযাযাদি রিপোর্ট সরকারি সেক্টরে দুর্নীতি-অনিয়মে জড়িতদের যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইন্টেলিজেন্সের (এফবিআই) আদলে আটক করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আর আটকের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) আদলে। এতে দুর্নীতিবিরোধী এই রাষ্ট্রীয় সংস্থার কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, এফবিআই যেমন সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নামে, আসামিকে আটক করতে সারাবিশ্বে রেড এলার্ট জারি করে দুদকও সে পথ অনুসরণ করবে। আর এফবিআই যেমন বিশ্বস্ততা, সাহস, বিশুদ্ধতা নিয়ে কাজ করে দুদকও তেমনিভাবে সব কাজে শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে চায়।
শুধু তাই নয়, এফবিআই সবসময় যেমন কাউকে অহেতুক হয়রানি না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকে দুদকও সেভাবেই পরিস্থিতি ও দুর্নীতির ওপর নজর রাখবে।
আর সিবিআই ভারত সরকারের একটি বিশেষায়িত অধিদপ্তর। যেখানে দুর্নীতি সেখানেই সিবিআই হাজির। সর্বশেষ ভারতের ভ- ধর্মগুরু ?গুরমিত রাম রহিমের কুকীর্তিও প্রমাণ হয় সিবিআইয়ের কার্যকর তদন্তে।
দিলি্ল স্পেশাল পুলিশ এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৪৩-এর আইন অনুসারে সিবিআই চলছে। মূলত দুর্নীতি ও দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা মামলা তদন্ত করে তারা। উপরন্তু সিবিআইয়ের রয়েছে মামলা লড়াইয়ের অভিজ্ঞ একদল আইনজীবী। যারা যে কোনো মামলায় সাফল্য পাওয়ার দক্ষতা রাখে। রাম রহিমের মতো, ভারতের অনেক প্রভাবশালীকেও আটক করে সাজা নিশ্চিত করেছে সিবিআই।
এই সিবিআই যেমন তাদের অভিজ্ঞ জনবল দিয়ে প্রায় সবক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করে চলেছে, দুদকও তেমনিভাবে তাদের পথ অনুসরণ করে সফলতা অর্জন করবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এফবিআই ও সিবিআইয়ের মতো অধিক কার্যকর প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে এরই মধ্যে পুলিশের ২০ সদস্যের একটি ইউনিট যুক্ত হয়েছে দুদকে।

এই ইউনিটটি সার্বক্ষণিক দুদকের অভিযানে অংশ নেবে। এমনকি বিচারিক কার্যক্রমে আদালতে আসামি পেঁৗছতেও সহায়তা করবে ইউনিটটি। অপরদিকে সরকারি ১৫টি সেক্টরের দুর্নীতি প্রতিরোধে অভিযানের কৌশল নির্ধারণ করেছে দুদক। এই অভিযানে দুদকের একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে চারজন পরিচালক কাজ করবেন। ফলে সবমিলিয়ে দুদক বলছে, দুদকের কার্যক্রম এখন অনেকাংশে বদলে যাবে। কেননা দুদক আগে আসামি ধরতে পুলিশের সহায়তা নিত। কিন্তু এখন নিজেরাই যখন তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করবে।
এফবিআই ও সিবিআইকে অনুসরণের বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক এই দুটি সংস্থার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। দুদক দেরিতে হলেও তাদের প্রয়োজনটা বুঝতে পেরেছে। যে কারণে নতুন আর্মড ফোর্স যুক্ত হওয়ায় দুদকের কার্যক্রম আরও বেশি বেগবান হবে। তবে শুধু আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অনুসরণ করলেই হবে না, দক্ষ জনবলেরও প্রয়োজন রয়েছে। কিভাবে এই দুটি সংস্থা কাজ করছে আর সফলতা অর্জনে কি পথে চলছে সেটা দুদককে আগে আয়ত্ত করতে হবে। তবেই দুদকের কর্মকা-ে যেমন আরও গতিশীলতা বাড়বে তেমনিভাবে শতভাগ সফলতাও আসবে।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, 'আমরা চাই এই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে। তবে এটা আমাদের জন্য সহজ নয়।'
দুদকে সদ্য যোগ দেয়া আর্মড ইউনিটের বিষয়ে তিনি বলেন, 'এটা আমাদের অভিযানে অনেক সহায়ক হবে। কেননা দুদকের হটলাইনে কেউ অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করবে। ফলে আগে অভিযানে যে সময়ক্ষেপণ হতো এখন আর সেটা হবে না।'
এফবিআই ও সিবিআই স্টাইল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা তাদের অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। এফবিআই যেমন অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে, আমরাও এখন সেটা করতে চাই। পাশাপাশি ভারতের সিবিআইর আদলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রত্যেক মামলায় শতভাগ সাফল্য অর্জন করতে চাই।' বাংলা নিউজ
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin