সর্বজনীন স্বনির্ধারণ আয়কর রিটার্নের চালচিত্রঅডিট পরিচালনার পর করদাতার আয়, সম্পদ ব্যয় ইত্যাদি বিষয়ে রিটার্ন বা ভুল সংশোধনী রিটার্নে প্রদর্শিত তথ্যের বাইরে নতুন কিছু পাওয়া না যায় তবে উপ-করকমিশনার অডিটটি নিষ্পত্তিকৃত বলে বিবেচনা করে করদাতাকে লিখিতভাবে জানিয়ে দেবেন (উপধারা-৯)এস কে বসাক, এফসিএ অর্থ আইন ২০১৭ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ৮২ বি বি ধারায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে অধিক সতর্কতার সাথে ২০১৭-১৮ করবর্ষের রিটার্ন প্রস্তুত করতে হবে। প্রায়োগিক জটিলতার কারণে এই পদ্ধতির রিটার্ন জনপ্রিয়তা হারানোর সম্ভাবনা আছে। পরিবর্তিত এই ধারার বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করা হলো_
১। ১২ সংখ্যার ই-টিন ধারী কোন করদাতা শর্তসমূহ পরিপালন করত উপযুক্ত কর পরিশোধপূর্বক নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল করলে তিনি উপ-করকমিশনার বা তৎ কর্তৃক আদেশপ্রাপ্ত কোন অফিসিয়ালের স্বাক্ষরযুক্ত প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রাপ্ত হবেন, যাহা কর নির্ধারণী আদেশ হিসাবে বিবেচিত হবে।
২। উক্ত রিটার্ন প্রাপ্তির পর উপ-করকমিশনার উহা প্রসেস করবেন। প্রসেস বলতে পেশকৃত তথ্যের ভিত্তিতে আয় পরিগণনা, গাণিতিক ক্রটি যাচাই, অশুদ্ধ দাবি সমন্বয়ের মাধ্যমে আয় ও কর পরিগণনা করবেন।
৩। পরিগণিত প্রযোজ্য আয়কর ও অন্যান্য প্রদেয় অঙ্ক হতে পরিশোধিত অংক (উৎস কর ও অগ্রিম করসহ) বাদ দিয়ে রিটার্ন প্রসেসের ফলশ্রুতিতে প্রদেয়/ফেরতযোগ্য অংক কি হবে তা পরিগণনা করবেন।
৪। যদি দেখা যায় যে, আয় বা করের পরিমাণ বা অন্য কোন পরিমাণগত বিষয়ে করদাতার দাখিলকৃত রিটার্নের তথ্যের সাথে রিটার্ন প্রসেসে পরিদৃষ্ট বা প্রসেসের ফলশ্রুতিতে পরিগণিতি তথ্যের গরমিল রয়েছে, তাহলে উপ-করকমিশনার করদাতাকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে নিম্নোক্ত বিষয় অবহিত করবেন।
ক) প্রাথমিক পরিগণনাপত্র
খ) প্রসেসের ফলশ্রুতিতে অতিরিক্ত কর দায় বা কর ফেরতের পরিমাণ হ্রাস পেলে করদাতার অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকবে।
গ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে করদাতার সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের ও কর প্রদানের সুযোগ দেবেন।
৫। করদাতা উপরোক্ত ৩টা শর্ত পূরণ করে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করলে উহা প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে উপ-করকমিশনার করদাতাকে একটি গ্রহণ পত্র প্রদান করবেন।
৬। যদি করদাতা নির্ধারিত সময়ে সংশোধিত রিটার্ন বা কর পরিশোধ না করেন, তবে ৬০ দিনের মধ্যে উপ-করকমিশনার সৃষ্ট করদায় ও সংশ্লিষ্টি অন্যান্য অংকের জন্য করদাতার নিকট দাবির নোটিশ এবং আয় ও কর/ ফেরত পরিগণনা তথ্যসহ চূড়ান্ত পরিগণনাপত্র এক সাথে প্রেরণ করবেন।
৭। এই ধারা ১ম উপধারায় দাখিলকৃত স্বনির্ধারণী রিটার্নে করদাতা অনিচ্ছাকৃত ভুলে কম আয় প্রদর্শন অথবা বেশি রেয়াত কর অব্যাহতি বা ক্রেডিট দাবি/প্রদর্শন অথবা অন্য কোন কারণে কর বা প্রযোজ্য অন্য কোন অংক কম পরিশোধ বা পরিগননা করা হলে, করদাতা নিন্মোক্ত শর্ত সাপেক্ষে একটি সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
ক) ভুলের ধরন ও কারণ বর্ণনা করে লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন।
খ) যে পরিমাণ কর বা প্রযোজ্য অন্য অংক কম পরিশোধ করা হয়েছে, সে পরিমাণ কর ও অংক এবং তার অতিরিক্ত হিসাবে উক্তরূপ কর ও অংকের ওপর মাসিক ২% হারে সুদ সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের আগে বা দাখিলের সময় পরিশোধ করেন।
গ) সংশোধিত রিটার্ন থানা "৮২ বিবি (৫) ধারায় দাখিলকৃত" লিখে দাখিল করতে হবে।
দাখিলকৃত রিটার্ন উপ-করকমিশনার কর্তৃক গৃহীত হলে তিনি প্রাপ্তি স্বীকার পত্রে "৮২ বিবি (৫) ধারায় জমা গ্রহণ করা হলো" বলে উল্লেখ করবেন। তবে মূল রিটার্ন জমা দেয়ার পর ১৮০ দিন অতিক্রান্ত হলে বা অডিটের জন্য নির্বাচিত হলে সংশোধিত রিটার্ন আর জমা নেবেন না।
৮। মূল রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন গ্রহণের ১২ মাস পর (৩) উপধারায় আর কোনো নোটিশ জারি করা যাবে না।
৯। মূল রিটার্ন/সংশোধিত রিটার্ন/গ্রহণকৃত রিটার্ন হতে যে কোনোসংখ্যক রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করতে পারবেন। ফলে কোনো করদাতা অডিটের দায়মুক্তি থেকে অব্যাহতি পাবেন না যদি তিনি_
ক) অব্যবহিত পূর্ববর্তী বছরে কর নিরূপিত মোট আয় অপেক্ষা ১৫% বেশি মোট আয় প্রদর্শন করেন।
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয় প্রদর্শন করলে তার উপযুক্ত প্রমাণ যুক্ত করতে হবে।
গ) ৫ লক্ষ টাকার ওপর ঋণ গ্রহণ করলে তার সমর্থনে ব্যাংক বা হিসাব বিবরণী।
ঘ) কোন দান গ্রহণ যোগ্য হবে না।
ঙ) ৪৪ ধারা অনুযায়ী কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য কোন প্রদর্শন না করলে
চ) রিটার্নের কর ফেরতযোগ্য দাবি না করলে বা প্রসেসজনিত কারণে কর ফেরত সৃষ্টি না হলে
এখানে ১৫% আয় বৃদ্ধির বিষয়টি হবে তুল্য কর বছরদ্বয়ের সকল উৎসের জন্য প্রদর্শিত মোট আয় এবং অভিন্ন উৎসের আয়ের সমষ্টির ভিত্তিতে। বর্ণিত শর্তাধীনে করদাতা অডিট পরিহার করতে পারেন।
আর যদি অডিট পরিচালনার ফলশ্রুতিতে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় করদাতার রিটার্নে বা ভুল সংশোধনী রিটার্নে তার আয়, সম্পদ, দায়, ব্যয় ইত্যাদির তথ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি তাহলে উপ-করকমিশনার অডিটে প্রাপ্ত তথ্য অবহিত করে উপধারা (৮) অনুযায়ী করদাতাকে নোটিশ প্রদান করে (ক) নোটিশে উলি্লখিত সময়ের মধ্যে অডিটে প্রাপ্ত তথ্যের প্রতিফলন ঘটিয়ে সংশোধিত রিটার্ন (ৎবারংবফ ৎবঃঁৎহ) দাখিলের জন্য এবং (খ) উক্তরূপ সংশোধিত রিটার্নের ভিত্তিতে প্রযোজ্য কর ও অন্যান্য প্রদেয় অংক রিটার্ন দাখিলের আগে বা দাখিলের সময় পরিশোধের জন্য বলবেন।
১০। অডিট পরিচালনার পর করদাতার আয়, সম্পদ ব্যয় ইত্যাদি বিষয়ে রিটার্ন বা ভুল সংশোধনী রিটার্নে প্রদর্শিত তথ্যের বাইরে নতুন কিছু পাওয়া না যায় তবে উপ-করকমিশনার অডিটটি নিষ্পত্তিকৃত বলে বিবেচনা করে করদাতাকে লিখিতভাবে জানিয়ে দেবেন (উপধারা-৯)
আর যদি উপধারা (৮)-এর নোটিশে উলি্লখিত সময়ের মধ্যে বা উপ-করকমিশনার কর্তৃক এ উদ্দেশ্যে মঞ্জুরিকৃত বর্ধিত সময়ের মধ্যে করদাতা সংশোধিত রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হন, অথবা করদাতা সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করলেও (ক) রিটার্নটিতে অডিটে প্রাপ্ত তথ্যের যথাযথ প্রতিফলন না থাকে বা (খ) সংশোধিত রিটার্নের ভিত্তিতে প্রযোজ্য কর ও অন্যান্য প্রদেয় অংক রিটার্ন দাখিলের আগে বা দাখিলের সময় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধিত না হয়, তাহলে উপ-করকমিশনার ধারা ৮৩ অথবা ধারা ৮৪, যেটি প্রযোজ্য, তার আওতায় কর নির্ধারণ কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।
উল্লেখ্য, কোনো করদাতা এ ধারায় দাখিলকৃত কোনো ভুল-সংশোধনী রিটার্ন বা সংশোধিত কর-অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য আয় প্রদর্শন করলে সে আয়ের ক্ষেত্রে ধারা ১৯-এর উপধারা ৩১-এর বিধান প্রযোজ্য হবে।

এস কে বসাক, এফসিএ: কলাম লেখক
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close