মাদকের থাবা উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেওকঠোর পদক্ষেপ নিতে হবেসর্বনাশা মাদকের ভয়াবহ থাবা যেন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। আর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন সময়ের খবর আমলে নিলে এটা স্পষ্ট হয় যে, মাদক এতটাই সহজলভ্য হয়ে পড়েছে, হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়! সম্প্রতি যখন এমন তথ্যও সামনে আসছে_ পাড়া-মহল্লার গ-ি পেরিয়ে মাদকের ভয়াল থাবা এখন দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ছড়িয়ে পড়ছে_ তখন এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই। বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিগত কয়েক বছরে এ হার বেড়েছে অস্বাভাবিকহারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ বাহ্যিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা বললেও কার্যত তা বন্ধে বিশেষ কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান নয় বলেও অভিযোগ আছে। সংগত কারণে এই পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আমলে নিতে হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর ওপর এক জরিপ পরিচালনা করে। ওই জরিপের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্ধেক ছেলে এবং চার ভাগের একভাগ মেয়ে শিক্ষার্থীই ধূমপায়ী। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) পরিচালিত এক জরিপ বলছে, দেশে মাদকাসক্তদের মধ্যে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। আর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশের ৪০ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে। এর মধ্যে নারী মাদকাসক্তের সংখ্যা চার লাখ এবং এসব মাদকাসক্তের একটি বড় অংশই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। আমরা বলতে চাই, শিক্ষা একটি জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু যখন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে, তখন তার চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি আর কি বা হতে পারে! এ ছাড়া বলা দরকার, শুধু উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, এর আগে বিভিন্ন সময়েই পত্রপত্রিকায় এমন তথ্যও এসেছে যে, মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীরাও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আমরা বলতে চাই, মাদকাসক্তরা যেমন নিজেদের ধ্বংস করছে, তেমনি পরিবারকেও ঠেলে দিচ্ছে ধ্বংসের পথে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা মাদকে আসক্ত হওয়ার মধ্যদিয়ে সার্বিক অর্থে পুরো দেশ ও জাতির জন্যই হয়ে উঠছে ভয়ানক। তারা নানারকম অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়ার ফলে সামাজিক স্থিতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে পড়ছে এই বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে।
প্রকাশিত খবরের তথ্য মতে, যখন এমন বিষয় সামনে এলো, মাদকের থাবা থেকে মুক্ত নয় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান_ তখন নিশ্চিতভাবেই তা উদ্বেকগজনক। আর এসব মাদকদ্রব্য সেবন, বহন ও জোগানের সঙ্গে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। যদিও ছাত্র সংগঠনটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলে আসছে। আমরা বলতে চাই, যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ঙ্কর সব মাদকের তৎপরতার বিষয়টি সামনে আসছে তখন তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো মূল্যেই হোক মাদক সেবনের মতো একটি আত্মঘাতী নেশার ছোবল থেকে তাদের বাঁচাতে হবে। সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা এটিকে পুরো জাতির জন্য আত্মঘাতী এক প্রবণতা হিসেবে সতর্ক করলেও পরিস্থিতির উন্নয়নের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না_ যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বাস্তবতাকেই স্পষ্ট করে।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, পত্রপত্রিকাসহ নানাভাবেই মাদক নিয়ে যে বিষয়গুলো সামনে আসছে তা দেশ ও মানুষের জন্য অত্যন্ত ভীতিপ্রদ। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে, যদি মাদক হয়ে ওঠে সহজলভ্য তবে তার ভয়াবহতা কীরূপ হতে পারে সহজেই অনুমেয়। ফলে এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। যারা এই সর্বনাশা মাদক বিক্রি করছে তাদেরও রুখতে হবে। এমন বিষয়ও সামনে এসেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে থানা থেকেই মাদকের সঙ্গে যুক্তদের ছাড়িয়ে আনছে প্রভাবশালীরা! ফলে বিচার বা শাস্তি না হওয়ায় একাধিকবার আটক হয়েও এ কাজ থেকে বিরত থাকছে না দুষ্কৃতকারীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও বক্তব্য, এ অবস্থায় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাঙ্গনের বদলে মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে! অথচ কোনোভাবেই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র এমন হতে পারে না। সংগত কারণে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিরসনে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত হবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin