রাজধানীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণঅপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরিসমাজে ধর্ষণের ঘটনা থেমে নেই। একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে কোনো রকম প্রতিকারহীনভাবে। কখনো ধর্ষণের আবার কখনো বা গণধর্ষণের শিকার হচ্ছে নারীরা। কাউকে কাউকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর কায়দায় মেরেও ফেলা হচ্ছে। সমাজের সর্বক্ষেত্রেই চলছে অবক্ষয় ও অস্থিরতা। খুন, ধর্ষণ-গণধর্ষণসহ নানা অপরাধ যেন নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশে যা মেনে নেয়া যায় না।
এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, রাজধানীর দারুসসালাম এলাকায় স্কুলপড়ুয়া এক কিশোরীকে (১৪) নির্যাতনের পর ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় স্কুলে দশম শ্রেণি পড়ুয়া ওই কিশোরীকে সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত সোমবার সকালে একই এলাকার পূর্বপরিচিত এক ছেলে তার দশম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়েকে বালুর মাঠ এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। কিশোরী সেখানে যাওয়ার পর দেখে, পূর্বপরিচিত ওই ছেলের সঙ্গে তার আরও চার বন্ধু রয়েছে। তারা পাঁচজন মিলে কিশোরীকে পাশের একটি বাসায় যেতে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় তারা কিশোরীকে মারধর করে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিচিত ওই ছেলে তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এই ধরনের ঘটনা সমাজে প্রায় প্রতিদিনই সংঘটিত হচ্ছে। কেবল তাই নয় চলন্ত বাসে, ট্রাকে এমনটি ঘরে ঢুকেও বখাটেরা ধর্ষণ গণধর্ষণের মতো অপকর্ম করছে। এটা সামাজিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত নজির।
এ কথা স্বীকার করতেই হবে, আমরা ক্রমক্ষয়িষ্ণু ভঙ্গুর অবক্ষয়গ্রস্ত ও অসুস্থ সমাজে বসবাস করছি। অসভ্যতা, নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতার ঘেরাটোপে এই সমাজ আজ বন্দি_ যার প্রধান শিকার এখন নারী। পাশাপাশি আমাদের কোমলমতি শিশুরাও এখন আর নিরাপদ নয়। তারাও ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে অত্যন্ত বর্বর কায়দায়। চার দিকে যে সামাজিক অবক্ষয় চলছে, চলছে তারুণ্যের অবক্ষয়_ এর কি কোনো প্রতিষেধক নেই? যারা অপরাধ করছে, সমাজকে যারা কলুষিত করছে, সমাজের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার ক্ষুণ্ন করছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য ব্যাপকভাবে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন। সামাজিক আন্দোলন ছাড়া এটা রোধ করা যাবে না। নিশ্চিত করা যাবে না নারীর নিরাপত্তাও। এই অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার ও সচেতন হতে হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই। এটি অধঃপতিত সমাজেরই নির্মম চিত্র। সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয়, বেকারত্ব, অনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, অনলাইন প্রযুক্তির কু-প্রভাব, পর্নোগ্রাফির প্রসার, অনৈতিক জীবন-যাপন, পাচার, বিরোধ-শত্রুতা, ব্যক্তি স্বার্থপরতা, লোভ, সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি এর জন্য দায়ী। আমরা মনে করি নারী স্বাধীনতা, নারীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকারকে আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, সমাজে নারীদের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত করা না যায় এবং রাষ্ট্র যদি তাদের নিরাপত্তা দানে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় তবে তা কেবল দুর্ভাগ্যজনকই নয়, দেশের ভবিষ্যতের জন্যও হুমকিস্বরূপ। সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা চাই এর পুনরাবৃত্তি রোধে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin