রোহিঙ্গা: সফল হবে কি ঢাকার কূটনীতিযাযাদি ডেস্ক রোহিঙ্গা সংকট শুরম্নর পর থেকে বাংলাদেশের তরফ থেকে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে দ্রম্নততম সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠনো যায়।
সে জন্য রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতিও দিচ্ছে না বাংলাদেশ। কারণ, কর্মকর্তারা মনে করেন, শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠনো দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যেতে পারে।
কিন্তু বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দৃশ্যত কোনো অগ্রগতির আশাবাদ নেই। এরই মধ্যে গত বুধবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বিতাড়নের চেষ্টা করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
প্রশ্ন উঠছে, এটাই যদি মিয়ানমারের নীতি হয়, তাহলে বাংলাদেশ যেসব কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলো কতটা কাজে লাগবে? এর বিকল্পই বা কি হতে পারে?
রোহিঙ্গা সংকট নতুন করে শুরম্নর পর থেকেই অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, রোহিঙ্গাদের আদৌ মিয়ানমারে পাঠানো সম্ভব হবে কিনা। কারণ, ১৯৯২ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে মিয়ানমার আর কোনো রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়নি।
বিশেস্নষকদের অনেকেই মনে করেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংকট সমাধানের যে চেষ্টা করছে, এর বাইরে বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে আলাদাভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের অবরোধের বা বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক শাস্ত্মির কার্যক্রম বিভিন্ন দেশের বিরম্নদ্ধে পরিচালনা করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও সংস্থা হিসেবে অর্থনৈতিক বা অন্যান্য শাস্ত্মিমূলক

ব্যবস্থা নেয়। সেটা সম্ভব।'
তবে জাতিসংঘের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হলে সেটি সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হবে বলে মনে করেন কবির।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গা ইসু্যতে গত ২৫ বছরে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে যতবারই আলোচনা করেছে, ততবারই মিয়ানমার বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেনের বর্ণনায় রোহিঙ্গা ইসু্যতে কূটনৈতিক সমাধান বেশ কঠিন বিষয় হবে। কিন্তু এরপরও হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না।
তিনি বলেন, 'রোহিঙ্গা ইসু্যটি যেন আন্ত্মর্জাতিক সম্প্রদায়ের এজেন্ডা থেকে হারিয়ে না যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। গত ৩০ বছর ধরে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের চেষ্টা চলছে।'
পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকেই সে দেশ থেকে বিতাড়নের জন্য মিয়ানমার বদ্ধপরিকর বলে তৌহিদ হোসেন মনে করেন।
ফলে তার পরামর্শ, 'প্রতিটি ফোরাম এবং আমাদের বন্ধু দেশ যারা আছে, তাদের প্রত্যেকের কাছে আমাদের বলে যেতে হবে।'
মিয়ানমারের পক্ষে চীন এবং রাশিয়ার শক্ত অবস্থানের কারণে জাতিসংঘের মাধ্যমে কোনো পদক্ষেপ নেয়া আপাতত অসম্ভব।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরালোভাবে অব্যাহত থাকলে এই দুটি দেশের মনোভাব বদলানো অসম্ভব কিছু নয় বলেও মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির।
মি. কবিরের কথায়, 'আমরা যদি বিভিন্ন দেশের কাছে তুলে ধরতে পারি যে, এটা শুধু মানবিক সংকট নয়, এটা একটি নিরাপত্তার সংকট এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপদের কারণ, তাহলে আমার ধারণা- চীন বা রাশিয়া তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতেও পারে।'
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, এখন পর্যন্ত্ম যেসব কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এতে তারা সঠিক পথেই রয়েছেন।
তাদের ধারণা, খুব দ্রম্নত কোনো ফলাফল পাওয়া না গেলেও সংকট সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী না হওয়ারও কোনো কারণ নেই।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close