ডার্ক ওয়েব থেকে বস্নু হোয়েল ঢামেকে ভর্তি স্কুলছাত্রযাযাদি রিপোর্ট হাতে আঁকা নীল তিমিউত্তেজনাবশত 'বস্নু হোয়েল' গেমে ঢুকে ফাঁদে পড়েছিল মিরপুরের এক স্কুলছাত্র। আত্মঘাতী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে বুঝতে পেরে ১৪তম ধাপে খেলা বন্ধ করে দেয় সে। কিন্তু গেমটি কিছুতেই আন-ইনস্টল করতে পারছিল না। শেষতক হ্যান্ডসেটটাই ভেঙ্গে ফেলে সে। তারপর চরম অস্থিরতা থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে পড়ে তীব্র শ্বাসকষ্টে। এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার।
ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে কথা হয় ওই স্কুলছাত্রের সঙ্গে। সে জানায়, 'দেড় মাস আগে উত্তেজনাবশত 'ডার্ক ওয়েব' থেকে 'বস্নু হোয়েল গেম' এর লিংক বের করি। তারপর খেলতে শুরম্ন করি। তখন গেমটির নির্দশনা পড়ে আমি জানতে পারি, এই গেম খেলার পরিণতি মৃতু্য। তবুও আমি এর লেভেল ১০ পর্যন্ত্ম যাই। যেখানে আমাকে খুব সহজ সহজ শর্ত দেয়া হয়। তখন শর্তগুলো আমার বেশ মজা লাগছিল।'
ভিকটিম বলতে থাকে, 'যখন আমি ১১ নম্বর স্টেপে যাই তখন তারা (এডমিন) আমার হাত কেটে তাদের কাছে ছবি পাঠাতে বলে। কিন্তু আমি হাত কেটে ছবি পাঠালেও তাতে তারা সন্তুষ্ট হয় না। তারা আমাকে বকাবকি করতে থাকে এবং আরও কঠিন শর্ত দিতে থাকে। তারা আমাকে ছাদের রেলিং দিয়ে হাঁটতে বলে। তবে আমি তাদের আর কোনো শর্ত পূরণ করতে পারছিলাম না। তখন গেমটি আন-ইনস্টল করতে চাই। কিন্তু কিছুতেই সেটা হচ্ছিল না। পরে মোবাইলটি ভেঙ্গে ফেলি।'
এই গেমের প্রতি এখন আর কোনো ইন্টারেস্ট নেই জানিয়ে ওই স্কুল ছাত্র জানায়, তার কাছে অনেকেই এই গেমটি খেলতে চেয়েছিল।
ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মুক্তাদির ভুইয়া বলেন, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ওই স্কুলছাত্রকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে সে এখানে ভর্তি আছে। তার পরিবারের কাছ থেকে জানতে পারেন, সে বস্নু হোয়েল গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। সেখান থেকে রক্ষা পেতে সে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলে। ঘুমের ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় তার কয়েকটি সমস্য দেখা দেয়। শুরম্ন হয় শ্বাসকষ্ট। তবে এখন তার অবস্থা অনেকটা ভালো। তাকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে মনোচিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ভিকটিমের পারিবারিক সূত্র জানায়, পরিবারের দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় সে। স্থানীয় এক স্কুলের ৯ম শ্রেণিতে পড়ত। অনেক আগে থেকেই সে মোবাইল, কম্পিউটার চালাত। সে কম্পিউটার গেমে ডুবে থাকত বলেই জানত সবাই। কিন্তু বস্নু হোয়োল গেমে আসক্ত হয়ে পড়ার ঘটনা কেউ টের পায়নি। তবে গত ঈদের কিছু দিন পর থেকে বাবা-মা তার আচরণে পরিবর্তন দেখতে পান।
মালয়েশিয়ার এক ফেসবুক বন্ধুর মাধ্যমে সে বস্নু হোয়েল গেমের সন্ধান পায় বলে জানায় ওই স্কুলছাত্র।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close