সংসদ ভেঙে নির্বাচনের সুপারিশ সিপিবিরযাযাদি রিপোর্ট রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল -যাযাদিজাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় 'না-ভোটের' বিধান চালু করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। একইসঙ্গে সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্ত্মাবও করেছে তারা।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে বসে দলের নেতারা এমন দাবি করেন। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরম্নল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
সংলাপ শেষে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সংসদ ভেঙে দিয়ে লেভেল পেস্নয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা সহায়ক সরকার বা কোনো সরকারের অধীনে নয়, নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। কেননা, প্রচলিত ব্যবস্থায় নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে এসে নির্বাচনী ব্যবস্থার আমুল সংস্কার করা প্রয়োজন।
সংলাপে সিইসির কাছে ১৬ দফা লিখিত সুপারিশ জমা দেয় সিপিবি। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- তফসিল ঘোষণার পূর্বেই বিদ্যমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সমতা বিধান করতে হবে, যতদিন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু না হচ্ছে, ততদিন আরও তিনটি ব্যবস্থা-সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ১০০ তে উন্নীত ও সরাসরি ভোট করতে হবে, নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ওই প্রতিনিধিকে প্রত্যাহারের বিধান করতে হবে এবং না ভোটের বিধান যুক্ত করতে হবে।
দলটির অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা; স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বিধান বাতিল, জাতীয়ভিত্তিক সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু করা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হতে হলে কোনো ব্যক্তিকে কমপক্ষে পাঁচ বছর রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য শর্ত যোগ, নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করা, সন্ত্রাস, পেশিশক্তির প্রভাব ও দুর্বৃত্তমুক্ত নির্বাচন করা, নির্বাচনে ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা ও আঞ্চলিকতার অপব্যবহার রোধ করা, নির্বাচনে সবার সম-সুযোগ নিশ্চিত করা, নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ ও নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা বিধান করা, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী আইন ও বিধির সংস্কার করা এবং নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্বতন্ত্র আদালত গঠন করতে হবে।
গত ৩১ জুলাই সুশীল-সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসেছিল ইসি। এরপর গত ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরম্ন করে নির্বাচন কমিশন।
সংলাপে আসা এ পর্যন্ত্ম সুপারিশগুলোর মধ্যে সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন, সেনা মোতায়েন, বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে অন্ত্মর্র্বর্তীকালীন সরকার গঠন, প্রতি ভোটকেন্দ্রে সিসি টিভি/ক্যামেরা স্থাপন, নবম সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে অন্ত্মর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, দশম সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে অন্ত্মর্র্বর্তীকালীন সরকার গঠন, 'না ভোট' প্রবর্তন, প্রবাসে ভোটাধিকার প্রয়োগ, জাতীয় পরিষদ গঠন, নির্বাচনকালীন অস্থায়ী সরকার গঠন, নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচনের সময় সংসদ ভেঙে দেয়া, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচনকালীন সময় ইসির অধীনে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং দলের নির্বাহী কমিটিতে বাধ্যতামূলকভাবে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখান বিধান তুলে নেয়া অন্যতম।
আগামী ১৫ অক্টোবর বিএনপি (ধানের শীষ) এবং ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) সঙ্গে বসবে নির্বাচন আয়োজনকারী এই কর্তৃপক্ষটি।
এবারের সংলাপ শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ অক্টোবর। এ ক্ষেত্রে ২২ অক্টোবর নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে, ২৩ অক্টোবর নারী নেত্রীদের সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমান সরকারের অধীনেই
হনির্বাচন চায় গণতন্ত্রী পার্টি
এদিকে বর্তমান সরকার বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায় গণতন্ত্রী পার্টি।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বসে দলটি এমন সুপারিশ করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরম্নল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশ আলীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেন।
সংলাপে ২১ দফা সুপারিশ করে দলটি। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধানের আলোকে বর্তমান সরকারের বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠিত করা। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরকার যেন দৈনন্দিন কার্যাবলী ছাড়া নীতিগত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত্ম না দেয়- এর সুপারিশ করেছে দলটি।
এ ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্বাচনকালীন সময় নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ করা; নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া; যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ও জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তি, মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্ত্মর্ভুক্ত না করা; প্রবাসীদের ভোটাধিকার; ফৌজদারি দ-াদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেয়া; নির্বাচনে ধর্মের সর্বপ্রকার ব্যবহার, সাম্প্রদায়িক প্রচার-প্রচারণা ও ভোট চাওয়াকে শাস্ত্মিযোগ্য অপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ করা; স্বাধীনতাবিরোধী ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক দলকে নিবন্ধন না দেয়ার সুপারিশও করেছে গণতন্ত্রী পার্টি।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৩১ জুলাই সুশীল-সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসেছিল ইসি। এরপর গত ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরম্ন করে নির্বাচন কমিশন।
এবারের সংলাপ শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ অক্টোবর। ২২ অক্টোবর নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে, ২৩ অক্টোবর নারী নেত্রীদের সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close