ই স লা মী বি শ্ব বি দ্যা ল য়মহাসমারোহের মহাপ্রস্তুতিমাহবুব রায়হান চতুর্থ সমাবর্তন উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে প্রস্তুতি'বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সমাবর্তন অনেক বেশি প্রত্যাশার ও আবেগের বিষয়। ক্যাম্পাস লাইফ শেষে সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ থাকে সমাবর্তনের জন্য। পাস করার পরই সমাবর্তন পাচ্ছি বলে নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবতী মনে হচ্ছে। বিভাগের তথা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু-বান্ধব, বড় ছোট অনেকের সাথে দেখা হবে খুব ভালো লাগবে।' অনেকটা আনন্দমাখা মুখে বলছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক প্রাপ্য আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রজবা খানম টুম্পা। দীর্ঘ ৫টি বছরের স্বপ্নে লালিত ক্যাম্পাস লাইফের সেই পুরনো দিনগুলোকে একটু ছুঁয়ে পেতে আগামী ৭ জানুয়ারি সব কর্মব্যস্ত্মতাকে ফেলে রেখে দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব সোনার সন্ত্মানগুলো। দীর্ঘ ১৬ বছর পর অত্যন্ত্ম জাঁকজমকভাবে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন। গ্র্যাজুয়েটদের মাথায় শোভা পাবে হ্যাট পরনে থাকবে গাউন। ডাইনা চত্বর, আইন চত্বর, ফ্রেন্ডশিপ চত্বর, ঝাল চত্বর, স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, মুক্তবাংলা, বঙ্গবন্ধু র্মুযাল, প্যারাডাইস রোড ও মফিজ লেক থেকে এদিন শোনা যাবে শুধু ক্যামেরার 'ক্লিক', 'ক্লিক' শব্দ। দেশ বরেণ্যদের সঙ্গে এদিন তারা মেতে উঠবে আনন্দের মহাযজ্ঞে। শিক্ষাজীবনের সেই আনন্দের মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণ করতে নতুন-পুরনোরা মেতে উঠবেন বাঁধ ভাঙা উলস্নাসে। যেমনটা বলছিলেন সমাবর্তনে যোগদানে ইচ্ছুক আইন ও শরীয়াহ অনুষদের শিক্ষার্থী আব্দুলস্নাহ আল মামুন, 'এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি যে পরিবেশ ও সামষ্টিক শিক্ষাগুলো আমি পেয়েছি সেটা আসলেই আমার ব্যক্তি জীবন ও ভবিষ্যৎ জীবনকে পাল্টে দিয়েছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করার পর সমাবর্তনে যোগদানের যে আনন্দ, সেটা আমাকে খুবই উদ্বেলিত করছে।' আর সেই আনন্দকে সাফল্যম-িত করতে ইবি প্রশাসন দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
সমাবর্তনের দিন বহুল আকাঙ্ক্ষিত 'বঙ্গবন্ধু র্মুযাল'-এর শুভ উদ্বোধন করবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আব্দুল হামিদ। ইতিমধ্যে সবার নজর কেড়েছে র্মুযালটি। এ ছাড়া অত্যন্ত্ম নান্দনিক পানির ফোয়ারা, নবনির্মিত শেখ রাসেল হল ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের ২য় ফেজের উদ্বোধন করবেন তিনি। ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়কসমূহের মেরামত, ঝোঁপঝাড় পরিষ্কারসহ বিল্ডিংগুলোতে শোভা পাচ্ছে নতুন রংয়ের ছোঁয়া। রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাস ছেয়ে গেছে নিরাপত্তার চাদরে। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণে বসানো হচ্ছে হাই পাওয়ারের সিসি ক্যামেরা, যা আধা কিলোমিটার দূর থেকেও অপরাধীকে শনাক্ত করতে সক্ষম। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাদা পোশাকধারীর্ যাব, পুলিশ, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থা বু্যরোর নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা রক্ষার্থে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়মূলে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে চলছে সমাবর্তনের বিশাল মঞ্চ ও প্যান্ডেলের কাজ। সেদিন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আনন্দ শোভাযাত্রা সহকারে সমাবর্র্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেট। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে তিনি সমাবর্তনে আগত গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে সভাপতির বক্তব্য রাখবেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, শাবিপ্রবির প্রফেসর ড. মো. জাফর ইকবাল। এ ছাড়া উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এসএম আব্দুল লতিফ বলেন, সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ৭৮ জনের মধ্যে ২০ পোস্ট গ্র্যাজুয়েটের হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেবেন। এবারের সমাবর্তনে ১ হাজার ৬৩৭ জন স্নাতক, ৭ হাজার ৪৯২ জন স্নাতকোত্তর, ১৩৭ জন এমফিল ও ১১০ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারীকে মূল সনদ প্রদান করা হবে।
সমাবর্তনে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতির কথা জানতে চাইলে ভিসি প্রফেসর ড. হারম্নন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, 'আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল কাঙ্ক্ষিত চতুর্থ সমাবর্তনকে যথাযত ভাবগাম্ভীর্য ও সম্পূর্ণ নিরাপদ, ত্রম্নটিহীন করার জন্য কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলার পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও সব গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সমাবর্তনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা আশা করি ২-৩ জানুয়ারির মধ্যে সমাবর্তনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।'
সবশেষে বিকেল ৩টায় শুরম্ন হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে কনসার্ট। কনসার্টে মঞ্চ কাঁপাবেন লিজা, জলের গান ও বিশিষ্ট লালন গীতিকার শফি ম-ল। সমাবর্তনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাস যেন নববধূর রঙে রঙিন হয়ে উঠছে। আর সেই রঙ, সেই সুলোলিত কণ্ঠের গানে মুখরিত হয়ে উঠবে সেদিন ১৭৫ একরের প্রতিটি প্রান্ত্মর। সফল, সার্থক হোক ইবির কাঙ্ক্ষিত সমাবর্তন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin