২০১৭ সালে আমরা যাদের হারিয়েছিমৃতু্য মানুষের এক অলঙ্ঘনীয় নিয়তি। কিছু মানুষ সূর্যের মতো উদিত হয়, তাদের মেধা-মনন আর সৃষ্টির কল্যাণে আলোকিত হয়ে ওঠে সমাজ-রাষ্ট্র। আবার চিরাচরিত নিয়মে তারা চলেও যান কালের অতলে। আলোকিত মানুষের মৃতু্যজনিত শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না। ২০১৭ সালেও আমরা হারিয়েছি বেশ কয়েকজন গুণীকে, যারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে রেখে গেছেন গুরম্নত্বপূর্ণ অবদান। তবে কীর্তিমানের মৃতু্য নেই, তারা তাদের কর্ম ও সৃষ্টিতে আমাদের মাঝে জাগরূক থাকবেন- এটাই সান্ত্ম্বনা। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বীরেন মুখার্জীসুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ৫ ফেব্রম্নয়ারি রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতু্যবরণ করেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ছিলেন। তিনি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিরও সভাপতি ছিলেন। বলাই বাহুল্য, বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন বর্ণাঢ্য একজন ব্যক্তিত্ব। তার বাচনভঙ্গি ও স্পষ্টবাদিতাসহ বিভিন্ন গুণের কারণেই সারাদেশের মানুষের কাছেই তিনি ব্যাপক পরিচিতও ছিলেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৪৬ সালে সুনামগঞ্জের আনোয়ারাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর সেন্ট্রাল ল' কলেজ থেকে এলএলবি করেন। এর পরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন। আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সুপ্রিমকোর্ট বার কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রথম জীবনে বামপন্থি আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। নাট্য অভিনেতা হিসেবেও তার সুনাম আছে। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির কনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম জাতীয় সংসদসহ মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বেও ছিলেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর তিনি রেলমন্ত্রী হন। যদিও সহকারীর অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর তিনি পদত্যাগ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদে রাখেন। সুরঞ্জিত সেনের সারাদেশেই যেমন পরিচিত ছিল, তেমনি তার কথা শোনার জন্য সাধারণ মানুষের আগ্রহও ছিল উলেস্নখ করার মতো। সংসদে সব সময় সরব এ সংসদ সদস্য একজন অভিজ্ঞ সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। কর্মের মধ্যদিয়ে তিনি যে গুণগুলো রেখে গেছেন, নিজের মেধা দিয়ে যেভাবে তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন তা আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক নেতাদের অনুপ্রেরণার অংশ হিসেবে উদ্দীপিত করবে। একজন মিষ্টভাষী ও সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া নেতা মানুষের হৃদয়ে থাকবেন-এটাই স্বাভাবিক।

লাকী আখান্দ
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সংগীতজ্ঞ লাকী আখান্দ ২১ এপ্রিল রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে মৃতু্যবরণ করেন। মৃতু্যকালে ৬১ বছর বয়সী এই শিল্পী তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। লাকী আখান্দের উলেস্নখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে 'এই নীল মনিহার', 'আমায় ডেকো না', 'কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে', 'যেখানে সীমান্ত্ম তোমার', 'মামনিয়া, 'বিতৃষ্ণা জীবনে আমার', 'কী করে বললে তুমি' 'লিখতে পারি না কোনো গান, 'ভালোবেসে চলে যেও না' প্রভৃতি।
আশির দশকের তুমুল জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী লাকী আখান্দ। বলা যায়, আধুনিক বাংলা গানের প্রবাদপ্রতিম পুরম্নষ তিনি। তিনি একাধারে সংগীত পরিচালক, সুরকার ও গীতিকার। ১৯৮৪ সালে সারগামের ব্যানারে প্রথমবারের মতো একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয় লাকী আখান্দের। মাঝখানে প্রায় এক দশক নীরব থেকে ১৯৯৮-এ 'পরিচয় কবে হবে' ও 'বিতৃষ্ণা জীবনে আমার' অ্যালবাম দুটি নিয়ে আবারও শ্রোতাদের মধ্যে ফিরে আসেন লাকী আখান্দ। ক্যান্সারে আক্রান্ত্ম হয়ে ব্যাংককে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এই শিল্পীর চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা সহায়তা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলা আধুনিক গানের ভুবনের এক সুমিষ্ট ও সুরেলা নাম লাকী আখান্দ। অসাধারণ এক সুর মূর্ছনার স্বাক্ষর বহন করে তার কণ্ঠে নিঃসৃত গানগুলো। এ ধরনের গান সব শিল্পীর পক্ষে গাওয়া সম্ভব নয়। আর এখানেই তার বিশিষ্টতা বা অসাধারণত্ব। তার ধ্যান, জ্ঞান, সাধনা ছিল কেবলই গান নিয়ে। বাংলাদেশে বিশুদ্ধ সংগীতচর্চার অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ তিনি। সংগীতকে ঘিরে ধীরে ধীরে ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠানে পরিণত হন তিনি। সংগীতচর্চার সুষ্ঠু বিকাশ ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। কেবল গানের ক্ষেত্রেই নয়-মানবিক নানা গুণের কারণে তিনি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। মানুষকে দেখেছেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এবং মূল্যায়নও করেছেন সেভাবেই। দেশের সংগীত জগতের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের সাহচর্য তাকে আনন্দ দিত। দেশের সংস্কৃতি ও সংগীতের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এ ব্যক্তিত্ব চলে গেলেও অসংখ্য ভক্ত ও অনুরাগীর জন্য রেখে গেছেন অনন্য সৃষ্টিসম্ভার। যার কারণে যুগ যুগ মানুষ তাকে স্মরণ করবে।

আব্দুলস্নাহ খালিদ
'অপরাজেয় বাংলা'র ভাস্কর সৈয়দ আব্দুলস্নাহ খালিদ ২০ মে শনিবার রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতু্যবরণ করেন। সিলেট জেলায় জন্ম নেয়া এই গুণী ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্ত্মান কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্‌টস (বর্তমান চারম্নকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে চিত্রাঙ্কন বিষয়ে স্নাতক এবং ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিত্রাঙ্কন ও ভাস্কর্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কর্মজীবন শুরম্ন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে। ১৯৭২ সালে সেখানকার লেকচারার থাকাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর উদ্যোগে কলাভবনের সামনে নির্মিতব্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মারক 'অপরাজেয় বাংলা' নির্মাণের দায়িত্ব পান। ১৯৭৩ সালে ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শুরম্ন করেন এবং ১৯৭৯ সালে ১৬ ডিসেম্বর নির্মাণ কাজ শেষ করার পর স্থাপনাটির উদ্বোধন করা হয়। এ ছাড়া তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন কেন্দ্রের সামনে অবস্থিত মুরাল আবহমান বাংলা এবং ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান দপ্তরের সামনে অবস্থিত টেরাকোটার ভাস্কর্যও নির্মাণ করেন। মৃতু্যর পূর্বপর্যন্ত্ম ভাস্কর খালিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারম্নকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
যেসব মানুষ জীবন ও কর্মের মধ্য দিয়ে সবার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকেন, ভাস্কর খালিদ এরকমই একজন গুণী। ভাস্কর্য শিল্পে তার যে অবদান, তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও হয়ে উঠবে প্রেরণার। ভাস্কর খালিদের মৃতু্যতে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেছিলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীনতার পক্ষের সব আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। তিনি পোস্টার এঁকে সেগুলো মিছিলে নিয়ে আসতেন। তার গড়ে যাওয়া অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যটি এখনো আমাদের সব আন্দোলন-সংগ্রামের অনুপ্রেরণার উৎস।' শিল্পকলা ও ভাস্কর্যে গৌরবজনক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৪ সালে শিল্পকলা পদক এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন। ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী সৈয়দ আব্দুলস্নাহ খালিদের অবদান রেখেছেন তা দেশবাসী কখনো ভুলে যাবে না।

নায়করাজ রাজ্জাক
যেসব গুণী অভিনেতার হাত ধরে আমাদের দেশে চলচ্চিত্র দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, নিশ্চিতভাবেই তাদের মধ্যে উজ্জ্বল এক নাম রাজ্জাক। ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ৭৫ বছর বয়সী নায়করাজ রাজ্জাক বেশকিছু দিন ধরে নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
আবদুর রাজ্জাক জন্মেছিলেন ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। শৈশবেই তিনি বাবা-মাকে হারান। অভিনয় যেন তার রক্তে মিশে ছিল, আর তাই অভিনেতা হওয়ার মানসে ১৯৬১ সালে কলকাতা থেকে মুম্বাই পাড়ি জমিয়েছিলেন; সেখানে সফল না হয়ে ফিরেছিলেন টালিগঞ্জে। কলকাতায়ও পরিস্থিতি অনুকূলে না হওয়ায় ১৯৬৪ সালে ঢাকায় চলে আসেন রাজ্জাক। প্রথমে কাজ শুরম্ন করেন সহকারী পরিচালক হিসেবে; এর মধ্যেই '১৩ নাম্বার ফেকু ওস্ত্মাগার লেন' চলচ্চিত্রে ছোট একটি ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। 'ডাকবাবু', উর্দু ছবি 'আখেরি স্টেশনসহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে ছোট ছোট ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। এই সময়ই জহির রায়হানের নজরে পড়েন আবদুর রাজ্জাক। তিনি 'বেহুলা'য় লখিন্দরের ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ দেন রাজ্জাককে, সুচন্দার বিপরীতে। 'বেহুলা' ব্যবসাসফল হওয়ায় আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি রাজ্জাককে। একের পর এক ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন ঢালিউডকে। এর মধ্যে রাজ্জাক-কবরী জুটি ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। ৫০০-র বেশি চলচ্চিত্রের এই অভিনেতা বাংলাদেশের মানুষের কাছে নায়করাজ নামেই খ্যাত ছিলেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সাদা-কালো যুগ থেকে শুরম্ন করে রঙিন যুগ পর্যন্ত্ম দাপটের সঙ্গেই অভিনয় নিয়ে ছিলেন। বদনাম, সৎ ভাই, চাপাডাঙ্গার বউসহ ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন তিনি।
নায়করাজ রাজ্জাক অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননা। ২০১৩ সালে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আসরে আজীবন সম্মাননা। কাজ করেছেন জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের শুভেচ্ছা দূত হিসেবেও। এটাও উলেস্নখ্য যে, বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রে খুব বেশি অভিনয় না করলেও তিনি চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট কেউ ডাকলেই তাতে সাড়া দিতেন। তার ভেতর দৃঢ় প্রত্যয় ছিল আমৃতু্য এই শিল্পের সঙ্গেই থাকতে চাওয়ার। নিজের অভিনয় জীবনের মধ্যদিয়ে মানুষের ভালোবাসাকে অনেক বড় করে দেখতেন তিনি। জীবন ও কর্মের মধ্যদিয়ে তিনি চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে অবদান রেখেছেন তা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়।

দ্বিজেন শর্মা
নিসর্গপ্রেমিক ও লেখক দ্বিজেন শর্মা ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতু্যবরণ করেন। ১৯২৯ সালের ২৯ মে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা কবিরাজ ছিলেন বলে ছোটবেলা থেকেই লতাপাতা, বৃক্ষ আর অরণ্য-প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। আমৃতু্য দ্বিজেন শর্মা নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন প্রকৃতির রূপ সন্ধানে। কলকাতা সিটি কলেজ থেকে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করে দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে করিমগঞ্জ কলেজ, বিএম কলেজ ও নটর ডেম কলেজে চাকরি করেন। পরে প্রগতি প্রকাশনে চাকরি নিয়ে মস্কো চলে যান। প্রায় কুড়ি বছর পর দেশে ফিরে কাজ করেন বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে। বামপন্থি রাজনীতির কারণে আত্মগোপন, এমনকি কারাবাসও করতে হয়েছে তাকে। আর লেখালেখির জন্য ভূষিত হয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন জাতীয় সম্মাননায়।
ব্যক্তিগত জীবনে বন্ধুবৎসল, সজ্জন, অতিথিপরায়ণ ও পরম হিতৈষী দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদজগৎ, প্রকৃতিবিজ্ঞান আর বিজ্ঞান ভাবনা নিয়ে লিখে গেছেন প্রায় দেড় ডজন বই। 'সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস', 'ফুলগুলি যেন কথা', 'গাছের কথা ফুলের কথা', 'এমি নামের দুরন্ত্ম মেয়েটি', 'নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা', 'সমাজতন্ত্রে বসবাস', 'জীবনের শেষ নেই', 'বিজ্ঞান ও শিক্ষা : দায়বদ্ধতার নিরিখ', 'ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি', 'বিগল যাত্রীর ভ্রমণ কথা', 'গহন কোন বনের ধারে', 'হিমালয়ের উদ্ভিদরাজ্যে ডালটন হুকার', 'বাংলার বৃক্ষ'-এর মধ্যে উলেস্নখযোগ্য। প্রকৃতির প্রতি নিখাদ ভালোবাসার কারণেই তাকে বলা হতো নিসর্গসখা। প্রকৃতিকে তার মতো খুব কম মানুষই ভালোবেসেছেন। তিনি মিশে গিয়েছিলেন প্রকৃতির সঙ্গে। দ্বিজেন শর্মা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় নানা প্রজাতির গাছ লাগিয়েছেন, তৈরি করেছেন উদ্যান ও বাগান। গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ এবং প্রকৃতিবান্ধব শহর গড়ার জন্য আজীবন প্রচার চালিয়ে গেছেন। এ ক্ষেত্রে তার সংগ্রাম ও সাধনা ছিল অবিস্মরণীয়। দেশবাসীর হৃদয়ে তিনি জাগরূক থাকবেন তার সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে।

বারী সিদ্দিকী
বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ বংশীবাদক এবং ভাব ও মরমী ধারার গায়ক বারী সিদ্দিকী ২৪ নভেম্বর মৃতু্যবরণ করেন। ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন বারী সিদ্দিকী। পাঁচ বছর বয়সে বড় ভাইয়ের বাঁশিতে ফুঁ দেয়া তার মধ্যে অন্যরকম আগ্রহের সৃষ্টি করে বাঁশি শেখার প্রতি। নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। স্কুল জীবন থেকেই তিনি পদ্ধতিগতভাবে সংগীত শেখা শুরম্ন করেন। ওস্ত্মাদ ছিলেন শ্রী গোপাল দত্ত। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের দিকে ঢাকায় শুদ্ধ সংগীত প্রসারের একটি অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় ওস্ত্মাদ আমিনুর রহমানের সাথে। তার বাড়িতে থেকেই তিনি বাঁশিতে তালিম নিতে থাকেন দিনের পর দিন। ধীরে ধীরে পরিচয় ঘটে ওস্ত্মাদ তাগাল ব্রাদার্স, প-িত দেবেন্দ্র মুৎসুদ্দী, ওস্ত্মাদ আয়েফ আলী খান মিনকারীর সাথে। প-িত বিজি কারনাডের কাছেও বাঁশি শিখতে তিনি পুনাতে গিয়েছিলেন।
বারী সিদ্দিকী শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বাংলাদেশ রেডিও-টেলিভিশনসহ সম্মিলিত একটি যন্ত্রসংগীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এর পরপরই তিনি দক্ষিণ এশীয় সার্ক ফেস্টিভ্যালে বাঁশি বাজাতে যান সরকারি সহযোগিতায়। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংগীত পরিচালক এবং একজন মুখ্য বাদ্যযন্ত্র শিল্পী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ তাকে 'শ্রাবণ মেঘের দিন' চলচ্চিত্রে গান গাইতে বলেন। এই চলচ্চিত্রের ছয়টি গানই বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। গানগুলোর মধ্যে রয়েছে 'সুয়াচাঁন পাখি আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি', 'পূবালি বাতাসে', 'আমার গায়ে যত দুঃখ সয়', 'ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া জোয়ান লোকের কাম' এবং 'মানুষ ধরো মানুষ ভজো'। চলচ্চিত্রের গানে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরপরই বাজারে তার দুটি একক অ্যালবাম আসে। একটি 'দুঃখ রইলো মনে' এবং অন্যটি 'অপরাধী হইলেও আমি তোর'। দুটি অ্যালবামই জনপ্রিয় হয় শ্রোতাদের কাছে। বারী সিদ্দিকী লোকান্ত্মরিত হলেও তার গাওয়া গানের মাধ্যমেই তিনি কোটি কোটি ভক্ত ও শ্রোতার হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।

আনিসুল হক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র আনিসুল হক ৩০ নভেম্বর লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতু্যবরণ করেন। মৃতু্যকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান মেয়র আনিসুল হক। এরপর সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ আগস্ট তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মস্ত্মিষ্কে প্রদাহজনিত রোগ 'সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস' শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা।
১৯৫২ সালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কবিরহাটে আনিসুল হকের জন্ম হয়েছিল। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করেন। তৈরি পোশাক দিয়ে ব্যবসা শুরম্ন করা আনিসুল হক পরবর্তীতে ব্যবসার বিভিন্ন খাতে প্রবেশ করেন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি মোহাম্মদী গ্রম্নপের চেয়ারম্যান ছিলেন। আনিসুল হক যেমন ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী, তেমনি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবেও খ্যাতি পেয়েছিলেন। আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। তৈরি পোশাক খাতের সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০১৫ সালে নির্বাচনে জিতে মেয়র হওয়ার পর তার বিভিন্ন উদ্যোগ এবং নিজের কঠোর অবস্থান বোঝাতে তার বিভিন্ন উক্তিও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি রাজধানীর উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা সাধারণ মানুষের মনে আশাব্যঞ্জক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাতরাস্ত্মার মোড় থেকে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে রাস্ত্মা নির্মাণ, গাবতলীতে ট্রাকস্ট্যান্ড সরিয়ে রাস্ত্মা সংস্কার, গুলশান-বনানী এলাকা থেকে পুরনো বাস সরিয়ে 'ঢাকা চাকা' নামের নতুন এসি বাস সার্ভিস চালু ছিল এর মধ্যে অন্যতম। তিনি কূটনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গুলশান-বারিধারার নিরাপত্তা জোরদার, 'সবুজ ঢাকা' নামের বিশেষ সবুজায়ন কর্মসূচিও গ্রহণ করেছিলেন। মেয়র হিসেবে নগরবাসীর কাছে প্রতিশ্রম্নতি ছিল তার, ছিল পরিকল্পনা ও উদ্যোগ। কিন্তু অনেক উদ্যোগ বাস্ত্মবায়নের আগেই জীবনাবসান ঘটল। তবু তিনি কাজের মধ্য দিয়ে যে দৃষ্টান্ত্ম স্থাপন করেছেন তা অত্যন্ত্ম তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে নগরবাসী তাকে মনে রাখবেন।

মহিউদ্দিন চৌধুরী
চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ জনপ্রিয় রাজনীতিক এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ ডিসেম্বর মৃতু্যবরণ করেন। ৭৪ বছরের জীবনে মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৬ বছর ধরে চট্টগ্রামের মেয়র ছিলেন। ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাউজানের গহিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা ছিলেন রেল কর্মকর্তা হোসেন আহমদ চৌধুরী এবং মা বেদুরা বেগম। ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া মহিউদ্দিন ১৯৬২ সালে এসএসসি, ১৯৬৫ সালে এইচএসসি এবং ১৯৬৭ সালে ডিগ্রি পাস করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং পরে আইন কলেজে ভর্তি হলেও শেষ করেননি। ১৯৬৮ ও ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মহিউদ্দিন একাত্তরে গঠন করেন 'জয় বাংলা' বাহিনী। গ্রেপ্তার হন পাকিস্ত্মানি সেনাদের হাতে। পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যান ভারতে। উত্তর প্রদেশের তান্ডুয়া সামরিক ক্যাম্পে প্রশিক্ষণরত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্কোয়াডের কমান্ডার নিযুক্ত হন মহিউদ্দিন। সম্মুখ সমরের যোদ্ধা মহিউদ্দিন স্বাধীনতার পর শ্রমিক রাজনীতিতে যুক্ত হন। যুবলীগের নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ পান। পঁচাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর এর প্রতিশোধ নিতে মৌলভি সৈয়দের নেতৃত্বে মহিউদ্দিন গঠন করেন 'মুজিব বাহিনী'। সে সময় 'চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলা'র আসামি করা হলে তিনি পালিয়ে কলকাতায় চলে যান। এরপর ১৯৭৮ সালে দেশে ফেরেন বলে আত্মজীবনীতে উলেস্নখ করে গেছেন এই রাজনীতিবিদ। চট্টগ্রামে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বন্দর রক্ষা আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
১৯৯৪ সালে প্রথমবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী হয়ে মহিউদ্দিন বিজয়ী হন। ২০০০ সালে দ্বিতীয় দফায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ২০০৫ সালে তৃতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। তার মেয়াদে পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন 'অনন্য দৃষ্টান্ত্ম' স্থাপন করেছিল। একজন মানবতাবাদী ও গরিবের বন্ধু হিসেবেও তার খ্যাতি সুবিদিত। তার মতো নির্লোভ রাজনীতিক এ দেশে বিরল। রাজনীতি ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য চট্টগ্রামবাসী তাকে চট্টলবীর হিসেবে জানে। চট্টগ্রামের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মহিউদ্দিনের অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ছায়েদুল হক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক ১৬ ডিসেম্বর সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতু্যবরণ করেন। আগস্ট মাস থেকে প্রোস্টেট গস্ন্যান্ডের সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি। ছায়েদুল হক ১৯৪২ সালের ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ উত্তরপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের খ্যাতনামা আইনজীবী ছিলেন। ছায়েদুল হক ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতা।
সততার মূর্ত প্রতীক হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। অর্থ-প্রাচুর্য কোনো কিছুতেই মন ছিল না তার। সব সময় সাধারণ মানুষ আর এলাকার উন্নয়ন নিয়েই ছিল সব ভাবনা। ছায়েদুল হকের জীবনযাপন ছিল একেবারেই সাদামাটা। তিনি সব সময় বলতেন 'দুনিয়ার চাকচিক্য থাকবে না, একদিন সব কিছুর হিসাব দিতে হবে।' পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও কোনো সম্পদ গড়েননি তিনি। তার নিজ গ্রাম নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামের উত্তরপাড়ায় রয়েছে দুটি টিনের ঘর। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এ দুটি টিনের ঘরই তার সম্বল ছিল। দীর্ঘদিনের পুরনো দুই ঘরের একটিতে থাকতেন মন্ত্রী আর অন্যটি ছিল তার বৈঠকখানা। গ্রামের সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসে কথা বলতেন বৈঠকখানায়। জনসেবাই ছিল তার ধ্যানজ্ঞান। গ্রামের মানুষদের তিনি বলতেন আমি এমপি-মন্ত্রী না, আমি তোমাদের ছায়েদুল হক।
সাদামাটা জীবনযাপনকারী ছায়েদুল হক গণমুখী ও নির্লোভ রাজনীতি করেছেন। তার অবস্থান ছিল রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিপরীতে। তিনি সব সময় সুস্থ রাজনীতির পক্ষে ছিলেন। নাসিরনগরের রাজনৈতিক অভিভাবক ও অবহেলিত মানুষের কা-ারি ছায়েদুল হকের হাত ধরে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। রাজনীতি ও জনসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য, তার সততা ও নিষ্ঠার জন্য দেশবাসী তাকে মনে রাখবে বহু দিন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close