খোঁপায় গাঁদা পলাশ, নগরে বসন্ত এসেছেযাযাদি রিপোর্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারম্নকলার বকুলতলায় মঙ্গলবার সকালে বসন্ত্ম উৎসবের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা -যাযাদিকোকিলের সুরে কদিন থেকেই রং লেগেছে অশোক-কিংশুকে। তরম্নণীদের খোঁপায় দখল নিয়েছে নতুন কিশলয়, তাকে জায়গা করে দিতে ব্যস্ত্ম ঝরা পাতারাও। সে পাতার রঙে নতুন সূর্যোদয়। তার আভায় পলাশ-শিমুল-কৃষ্ণচূড়ার আগুনঝরা উচ্ছলতার ঢল। বাতাসে প্রেম, নয়নে নেশা। বিহবলতা ছড়িয়ে প্রকৃতির ডাক এসেছে আলগোছে, আজ বসন্ত্ম এসে গেছে!
বসন্ত্ম এসে গেছে- মঙ্গলবার ছিল পহেলা ফাল্গুন, ঋতুরাজের প্রথম দিন। কোকিল না ডাকলে বা শিমুল-পলাশের দেখা না পেলে নাকি বসন্ত্ম আসে না! তবে এখন নাগরিক ব্যস্ত্মতার কারণে দিনপঞ্জির পাতা দেখেই সদর্পে বাসন্ত্মী শাড়িতে তরম্নণীরা বেরিয়ে পড়েন উৎসবে। তারাই যেন আমাদের নগরজীবনের বসন্ত্মদূত। যারা বসন্ত্মের গন্ধ দিব্যি ভুলে আছেন তারা কিন্তু বাসন্ত্মী শাড়িতে বসন্ত্মদূত দেখেই বুঝে ফেলবেন মধুর বসন্ত্ম এসেছে প্রকৃতিতে।
ফুলের উচ্ছ্বাসে গতকাল হেসেছে আকাশ, কাঁপছে বাতাস, দুলছে আম্রমুকুল। কবিগুরম্ন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম বয়াতির হৃদয়ের সুর আর অনুভূতি প্রকাশিত হয় অভিন্ন আনন্দে। সে আনন্দ সঞ্চারিত হয় প্রত্যেক বাঙালির মনে। বনের নিভৃত কোণে, মেঠোপথের ধারে কারও জন্য অপেক্ষা না করেই ফুটছে নাম না-জানা অসংখ্য সব ফুল। তরম্নণ মনে বিহবলতা ছড়িয়ে দিচ্ছে কোকিলের ডাক।
দখিনা হাওয়া, মৌমাছিদের গুঞ্জরণ, কচি-কিশলয় আর কোকিলের কুহুতানে জেগে ওঠার দিন পহেলা ফাল্গুন। লাল আর বাসন্ত্মী রঙে প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের সাজিয়ে এ ক্ষণে বসন্ত্মের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসে বাঙালি। তরম্নণীদের খোঁপায় শোভা পায় গাঁদা ফুলের মালা। বসন্ত্মের আনন্দযজ্ঞ থেকে বাদ যায় না গ্রামীণ জীবনও। বসন্ত্মকে তারা আরও নিবিড়ভাবে বরণ করেন। বসন্ত্মের বন্দনা আছে কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায়ও।
বসন্ত্ম বরণে গ্রামবাংলায় বিশেষ আয়োজনে চলে পিঠা উৎসব। আর শহরে এটি পায় বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা। প্রকৃতির অলৌকিক স্পর্শে রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম থেকে শুরম্ন করে অসংখ্য বৃক্ষ এখন জেগে উঠছে। ফুলের মঞ্জুরিতে মালা গাঁথার দিন বসন্ত্ম কেবল প্রকৃতিকেই নয়, আবহমানকাল ধরে বাঙালি তরম্নণ-তরম্নণীর প্রাণকেও রঙিন করে আসছে। এ দিনে তাই তরম্নণ-তরম্নণীদের প্রাণেও অনুরণিত হয় বাউল করিমের ভাষা, 'বসন্ত্ম বাতাসে সই গো, বসন্ত্ম বাতাসে/ বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে'। তাই মেয়েরা খোঁপায় গাঁদা-পলাশসহ নানা রকম ফুলের মালা গুঁজে বাসন্ত্মী রঙের শাড়ি পরেন।
ছেলেরা পাঞ্জাবি-পায়জামা আর ফতুয়ায় শাশ্বত বাঙালির সাজে উৎসবের হাওয়ায় ভেসে বেড়ান শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর, চারম্নকলা, টিএসসি ও অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণসহ নগরীর এখানে-ওখানে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, মিন্টো রোড, জাতীয় সংসদ, চন্দ্রিমা উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন, ধানম-ি লেক- সর্বত্রই ছিল বাসন্ত্মী হাওয়া।
২২ বছরে ধারাবাহিকতায় এবারও রাজধানীতে বসন্ত্ম উৎসবের আয়োজন করে জাতীয় বসন্ত্ম উদযাপন পরিষদ। 'এসো মিলি প্রাণের উৎসবে' প্রতিপাদ্যে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে চারম্নকলা অনুষদের বকুলতলায় যন্ত্রসঙ্গীতের সুর-মূর্ছনায় শুরম্ন হয় এ কর্মসূচি। সকাল ১০টা পর্যন্ত্ম চলে অনুষ্ঠান। বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত্ম একযোগে অনুষ্ঠান চলে চারম্নকলার বকুলতলা, পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবর এবং উত্তরার ৩নং সেক্টরের রবীন্দ্র সরণির উন্মুক্ত মঞ্চে। সে মঞ্চে হাজারো কণ্ঠে একসঙ্গে ধ্বণিত হয়, বসন্ত্ম এসে গেছে!

সংসদেও বসন্ত্মের হাওয়া
ঋতুরাজ বসন্ত্মের প্রথম দিনে সংসদেও ছিল বসন্ত্মের হাওয়া। বসন্ত্ম উৎসবের চেতনা ধারণ করে সংসদ সদস্যদের অনেকে বাসন্ত্মী রঙের পোশাক পরে অধিবেশনে যোগ দেন।
মঙ্গলবার বিকালে অধিবেশনের শুরম্নতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে বাসন্ত্মী শাড়ি পরে অধিবেশন পরিচালনা করতে দেখা যায়। বাসন্ত্মী রঙের পাঞ্জাবি পরে অধিবেশনে যান হুইপ ইকবালুর রহিম, সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সিমিন হোসেন রিমি, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, নাসিমা ফেরদৌস, জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নানকে বাসন্ত্মী রঙের কাপড় পরে সংসদ অধিবেশনে দেখা যায়।
এছাড়া সংসদের অনেক কর্মকর্তাকেও দেখা যায় বাসন্ত্মী রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট পরে যেতে।
জাতীয় সংসদের অতিরিক্ত সচিব (মানবসম্পদ) ফরিদা পারভীন বলেন, 'আমাদের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাসন্ত্মী রঙের শাড়ি পরে এসেছেন। এটা অফিসিয়ালি কোনো নির্দেশ ছিল না, যে যার মতো করে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ পরে আসছেন, ছবি তুলছেন।'
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close